ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের অনেক আগে থেকেই ছিল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, জানেন কী ছিল মাধ্যম
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের অনেক আগে থেকেই ছিল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, জানেন কী ছিল মাধ্যম
আজ থেকে ২০ বছর আগেও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। তখন সবেমাত্র টেলিফোনিক যোগাযোগ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। ল্যান্ডলাইন টেলিফোন থেকে মুঠো ফোনের বিবর্তন হতে চলেছে। তখনই যোগাযোগ মাধ্যমে বাড়বাড়ন্ত শুরু হয় ফেসবুক টুইটার বা ইনস্টাগ্রামের। যোগাযোগ শিল্প উন্নীত হয় সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের জগতে।

৫০ হাজার বছর আগে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে
কিন্তু আজ বলে আজ নয়, সামাজিক নেটওয়ার্কিং ছিল ৫০ হাজার বছর আগেও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবসময় এক জিনিসের উপর নির্ভরশীল ছিল না। বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় এমন একটি অনন্য বস্তু শনাক্ত করেছেন, যা প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তা হল উটপাখির ডিমের খোসার পুঁতি।

উটপাখির ডিমের খোসার পুঁতি ব্যবহার করে যোগাযোগ
অতীতে কখন, কীভাবে বিভিন্ন মানুষ সংযোগ স্থাপন করেছিলন তা নিয়ে গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা গবেষণার দেখেছেন ৫০ হাজার বছর আগে পূর্ব এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষেরা প্রায় অভিন্ন উটপাখির ডিমের খোসার পুঁতি ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। এর মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে সামাজিক নেটওয়ার্ক স্থাপন হয়েছিল। এই নেটওয়ার্ক দুটি ভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে সংযুক্ত করেছিল।

অস্ট্রিচ ডিমশেল পুঁতি প্রযুক্তি পূর্ব আফ্রিকায় উদ্ভূত হয়েছিল
নেচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, অস্ট্রিচ ডিমশেল পুঁতি প্রযুক্তি সম্ভবত পূর্ব আফ্রিকায় উদ্ভূত হয়েছিল এবং ৫০ লক্ষ আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সংযোগটি প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগে ভেঙে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় পশুপালক প্রবেশ করার পর সেই জনসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

উটপাখির ডিমের খোসার পুঁতিতে সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন
গবেষকরা জানান, গবেষণালব্ধ ফলাফলটি নিয়ে আমরা পরীক্ষা করেছি। তাতে পুঁতির বৈশিষ্ট্যগুলি একই প্রমাণ দিচ্ছে যে তা ছিল ৫০ হাজার বছর আগেকার। ৩৩ হাজার বছর আগে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, উটপাখির ডিমের খোসার পুঁতি প্রাচীন সামাজিক সম্পর্ক বোঝার জন্য আদর্শ নিদর্শন। এগুলি হল বিশ্বের প্রাচীনতম অলঙ্কার, যা পুঁতি থেকে তৈরি হয়।

১৫০০টিরও বেশি পৃথক পুঁতি থেকে পাওয়া তথ্য গবেষণায়
গবেষণার প্রধান লেখক জেনিফার এম মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, "এটি ব্রেডক্রাম্বের একটি পথ অনুসরণ করার মতো। পুঁতিগুলি সূত্র, সময় এবং স্থানজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, শুধু লক্ষ্য করার অপেক্ষায।" উটপাখির ডিমের খোসার জপমালা যার মধ্যে রয়েছে ১৫০০টিরও বেশি পৃথক পুঁতির তথ্য, যা দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার ৩১টি সাইট থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। বিগত ৫০ হাজার বছর ধরে তা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটকে জুড়ে রেখেছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর একটি বড় পরিবর্তনের জন্য অদৃশ্য
নতুন সংযোগটি এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা প্রাচীনতম সামাজিক নেটওয়ার্ক। এবং এটি পূর্ব আফ্রিকার একটি বিশেষ সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। পুঁতিগুলি আশ্চর্যজনকভাবে ৩৩ হাজার বছর আগে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর একটি বড় পরিবর্তনের জন্য অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। পূর্ব আফ্রিকায় গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইন বেল্ট দক্ষিণ দিকে সরে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের একটি নাটকীয় হ্রাস হয়েছিল, তার জেরেই বিলুপ্ত ওই পুঁতি।

পুঁতিগুলি আমাদের অতীত সম্পর্কে বড় গল্প প্রকাশ করে
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, "প্যালিওএনভায়রনমেন্টাল প্রক্সি, জলবায়ু মডেল এবং প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যের এই সমন্বয়ের মাধ্যমে, আমরা জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক আচরণের মধ্যে সংযোগ দেখতে পারি। এই ক্ষুদ্র পুঁতিগুলি আমাদের অতীত সম্পর্কে বড় গল্প প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে। আমরা অন্যান্য গবেষকদের এই ডাটাবেস তৈরি করতে এবং নতুন অঞ্চলে সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রমাণ অন্বেষণ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করি।












Click it and Unblock the Notifications