Travel: কালো আগ্নেয় শিলার উপর দিয়ে বয়ে যায় নদী, ঘুরে আসুন এই আদিবাসী গ্রামে
বর্ষায় মোহময়ী হয়ে ওঠে পশ্চিমের জেলাগুলি। তার মধ্যে আবার বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে ঝাড়গ্রাম। বর্ষা পড়তেই সেকারণে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে ঝাড়গ্রামে। গ্রীষ্মের দহন থাকে না। রুক্ষ শুষ্ক ভূমি সবুজ হয়ে ওঠে। সুন্দরী হয়ে ওঠে রুক্ষ শুষ্ক গ্রামগুলি।
এই ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়িতে এখন অনেক জায়গাতেই হোমস্টে গড়ে উঠেছে। আমলাশোলে পর্যন্ত হোমস্টে তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেখানে আর অনাহারের জ্বালা নেই। শবরকরা এখন অতিথি আপ্যায়ণে ব্যস্ত থাকে। ঘরের উঠোনে খেলা করে ময়ুরের দল।

এই বেলপাহাড়িতেই রয়েছে একাধিক অফবিট লোকেশন। সেই জায়গাগুলি এক্সপ্লোর করতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। এমনই একটি অচেনা জায়গা হল ঘাগরা। একদিকে বয়ে গিয়েছে তারাফেণী নদী আরেকদিকে জঙ্গল। এই জঙ্গল থেকে মাঝে মধ্যেই আবার হাতি বেরিয়ে আসে।
গোটা গ্রামের মূল আকর্ষণই হল এই তারাফেণী নদী। নদীর মাঝে মাঝে রয়েছে বড় বড় কালো আগ্নেয়শিলা। সারা বছর জল থাকে না নদীতে। কিন্তু বর্ষাকালে উচ্ছ্বল হয়ে ওঠে নদী। বড় বড় কালো শিলায় ধাক্কা খেয়ে বয়ে যায় নদী। বেলপাহাড়ি থেকে তারাফেণী যাওয়ার পথে পড়ে এই ছোট্ট একটা গ্রাম ঘাগরা।
এই নামের একটা গল্প রয়েছে। গ্রামের মহিলারা এই নদীতে কলসী নিয়ে জল নিতে যেতেন। স্থানীয়রা সেই কলসীকে বলে থাকে ঘাগরা। সেই থেকে এই জায়গাটির নাম হয়েছে ঘাগরা। নদীতে মাঝে মাঝে কালো আগ্নেয় শিলা থাকায় নদীর জলে ঘূর্ণি তৈরি হয় । তাতে পাথরের উপরে ছোট বড় ঘাগরার মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে। অনেকে বলেন সেই ভূমিরূপের কারণেই এই জায়গার নাম ঘাগরা।
তারাফেনী নদী লালজল পাহাড়ের কিছুটা আগের কয়েকটি ধারা গাড়রাসিনি পাহাড়ের কয়েকটি ধারায় মিলিত হয়ে তারাফেনী নাম নিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এখানে এলে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। চারপাশে জঙ্গল মাঝে কুলকুল শব্দে বয়ে চলেছে নদী। মাঝে মাঝে পড়ে থাকা কালো পাথরে ছোট ছোট জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বর্ষায় গ্রাম্য প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে চল আসুন এই জায়গায়। বেলপাহাড়ি থেকে খুব বেশি দূর নয়। বেলপাহাড়ির কোনও একটা হোমস্টেতে থেকে যান। দিনের বেলায় ঘুরে নিন এই ঘাগরা গ্রামটি। মন ভাল হয়ে যাবে। ঝাড়গ্রাম থেকে গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারবেন সেখানে। সারাটা দিন সেখানে কাটিয়ে আবার বিকেলে ফিরে আসুন বেলপাহাড়ির কোনও হোমস্টেতে।












Click it and Unblock the Notifications