সৌরভকে দেখে কলকাতার স্মৃতিতে ডুব অমিতাভের, ফুচকা আর ঝাল মুড়ি-সহ অজানা কথা প্রকাশ্যে
কৌন বনেগা ক্রোড়পতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও বীরেন্দ্র শেহওয়াগকে নিয়ে বিশেষ শানদার শুক্রবার পর্ব সম্প্রচার হল গতকাল রাতে। সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে পেয়ে নানা প্রশ্নের ফাঁকে মাতলেন জমাটি আড্ডায়। তারই মধ্যে উঠে এল কলকাতার প্রতি বিগ বি-র ভালোবাসার কথাও। কলকাতার স্ট্রিট ফুড নিয়েও নস্ট্যালজিক অমিতাভ বচ্চন।

চাকরি জীবনে কলকাতায়
১৯৬০-এর মাঝামাঝি সময়ের কথা। কলকাতায় মার্কেটিং এগজিকিটিভের চাকরি নিয়ে এসেছিলেন অমিতাভ। যে সব সংস্থার হয়ে কাজ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্ল্যাকের অ্যান্ড কোম্পানি। তখন সেই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বীর প্রতাপ শ্রীকান্তের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল অমিতাভের। তাঁদের লি রোডের বাড়িতে বার পাঁচেক গিয়েছেন। তবে বীর প্রতাপের প্রয়াণের পর প্রথম যান ২০১৪ সালে যখন বিগ বি সুজিত সরকারের পিকু ছবির শুটিংয়ের কাজে এসে বেশ কয়েকদিন কলকাতায় কাটিয়েছিলেন। এই সময় শুটিংয়ের ফাঁকেই অমিতাভকে দেখা গিয়েছে কখনও সাতসকালে শহরের রাস্তায় সাইকেল চালাতে। কখনও বা স্কুটার নিয়ে ভিক্টোরিয়ার কাছেই হয়েছে শুটিং।
|
বদলে গিয়েছে চেনা এলাকা
পুরানো বাড়ি ছেড়ে এখন বীর প্রতাপ শ্রীকান্তের পরিবার থাকে বহুতলে। অমিতাভও কয়েক দশক পরে লি রোডের সেই বাড়িতে গিয়ে চিনতে পারেননি এলাকাটিকে। বীর প্রতাপ শ্রীকান্তের স্ত্রী বীণা-সহ পরিবারের সকলের সঙ্গে মিনিট চল্লিক ধরে কথা বলেন বিগ বি। পুরানো দিনের নানা স্মৃতি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছিল তেমনই বীণার নাতি বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়েন জেনে তাঁর সঙ্গেও কথা বলেছিলেন অমিতাভ, জানিয়েছিলেন তাঁর সন্তান ও পরিচিতদেরও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা। অমিতাভ নাকি বলেন, লি রোডের এই জায়গাটি চিনতেই পারিনি। সবই বদলে গিয়েছে। পুরানো বাড়িগুলি আর নেই! প্রচুর শপিং মল দেখেও অবাক হন অমিতাভ। পরে নিজের টুইটেও সে কথা তুলে ধরেছিলেন।

অমিতাভের কলকাতা-স্মৃতি
কেবিসিতে সৌরভদের জন্য রাখা প্রথম প্রশ্নেই উঠে আসে অমিতাভের কলকাতার স্মৃতি। প্রশ্নটি ছিল, মুড়মুড়ে কোন স্ট্রিট ফুডে ব্যবহার করা হয়? সৌরভ অপশন দেখে উত্তর দেন, ঝাল মুড়ি। এরপর বচ্চনের প্রশ্নের উত্তরে সৌরভ জানান তাঁর পছন্দের স্ট্রিট ফুড ফুচকা, শেহওয়াগ জানান ছোলে বাটোরে বা ছোলে কুলচে-র কথা। সৌরভ তখন বলেন, ফুচকার সঙ্গে তুলনায় কিছুই আসে না। সম্মতি দেন অমিতাভ। তিনি বলেন, কলকাতায় চাকরির জন্য সাত-আট মাস কাটিয়েছি অভিনয়ে আসার আগে। চার-পাঁচশো টাকা পেতাম। ভিক্টোরিয়ার সামনে ফুচকা খেতে ভালো লাগত। জলে কিছু মেশানো হতো যার স্বাদের টানেই বারবার ফুচকা খেতে যেতাম। কলকাতার রান্নায় ঝাল আর ঝাল মুড়ির কথাও বলেন অমিতাভ। তিনি জানেন, যেহেতু হাতে পয়সা বিশেষ থাকত না তাই ঝাল মুড়ি খেয়েই মাসের পর মাস কাটিয়েছি। সৌরভ তখন জানতে চান কলকাতায় তিনি কোথায় থাকতেন? সরস অমিতাভের জবাব, কোথায় থাকিনি? বাড়ি ভাড়া মেটাতে না পারায় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হয়েছে বারবার। সৌরভ নিজে যেমন অমিতাভের বড় গুণমুগ্ধ, তেমনই অমিতাভের মতো তিনিও ভিক্টোরিয়ার কাছে ফুচকা খেতেন বলে আগে জানিয়েছেন, স্কুল থেকে ফেরার পথে। আর এমনিতে সৌরভের পছন্দ বিরিয়ানি।

নস্ট্যালজিক বিগ বি
পিকুর শুটিংয়ের সময়ই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় গিয়ে দেখা করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করতে। সেই ভিক্টোরিয়াতেই আবার ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য প্রশিক্ষণের স্কুল দীক্ষামঞ্জরীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিগ বি। সেদিনও কলকাতার কিছু স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলেন। এমনকী পিকুর শুটিংয়ের সময়েও হলুদ ট্যাক্সি আর কচুরির দোকান দেখে নস্ট্যালজিক হয়েছিলেন বিগ বি।

স্ট্রিড ফুডে মজে
সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রোডে কলকাতা কর্পোরেশনের কাছে রিগাল সিনেমা হলের কাছে হয়েছিল পিকুর শুটিং। ছবিতে দেখা গিয়েছিল অমিতাভ পিকু অর্থাৎ দীপিকা পাড়ুকোনের জন্য কচুরি কিনে এনেছেন। সেই কচুরির দোকানের শুটিংটি হয়েছিল মোহন ভাণ্ডারে। অমিতাভ পরে টুইটে জানিয়েছিলেন, সকালে কলকাতার রাস্তায় সাইকেল চালানো আর ছবির জন্য কচুরি ও জিলিপি খাওয়া তিনি দারুণ উপভোগ করেছেন। তাই ফের স্ট্রিট ফুডের কথা উঠতেই নস্ট্যালজিক অমিতাভকে পাওয়া গেল। কলকাতায় ঝাল রান্নাও যে তাঁর পছন্দ সে কথা জানাতে ভোলেননি বাংলার জামাইবাবু। প্রতিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠানে আসেন। তথ্যসমৃদ্ধ ভাষণে মুগ্ধও করেন সকলকে।

ইডেন নিয়ে
ইডেন নিয়েও বেশ স্মৃতিমেদুর অমিতাভ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ রেখে ইডেনে ২০১৬ সালে টি ২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। গেয়েছিলেন উদাত্ত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত। যেভাবে গোটা স্টেডিয়াম জাতীয় সংগীতে গলা মিলিয়েছিল, বিশেষ করে জয় হে, জয় হে, জয় হে বলার সময় সেই অভিজ্ঞতা অতুলনীয়, ভাবলেই গায়ের রোম খাড়া করে দেয় বলে উল্লেখ করেন বিগ বি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন কেবিসিতে বিভিন্ন ক্রিকেটারের ছবি বা স্টেডিয়ামের ছবি দেখিয়ে নাম জানতে চাইছিলেন প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় থেকে তখন শেষে দেখানো হয় অমিতাভের নিজের ব্যাটিংয়ের ছবি। অমিতাভ বলেন, এটাও ইডেন। বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চ্যারিটি ম্যাচের ছবি এটি, যেখানে আমরা বম্বে থেকে অনেকেই খেলতে গিয়েছিলাম।
charity cricket match for flood relief played at Eden Gardens .. Mumbai Film Indistry vs Bengal Film Industry https://t.co/TOPGa2RIk2
— Amitabh Bachchan (@SrBachchan) July 11, 2016
Jyoti Basu with Amitabh Bachchan, Dilip Kumar, Saira Banu and Rekha at charity Cricket match, Eden Gardens(1979) (Telegraph)@SrBachchan pic.twitter.com/QnWH47yDmZ
— Movies N Memories (@BombayBasanti) August 8, 2017












Click it and Unblock the Notifications