ঐন্দ্রিলার নিথর দেহ নিয়ে ফিরলেন সব্যসাচী, সরিয়ে দিলেন নিজের ফেসবুক পেজ
শেষের ২০টা দিন ছায়ার মতো ছিলেন ঐন্দ্রিলার সঙ্গে। এক মুহূর্তও হাসপাতাল থেকে বের হননি। আশা ছিল অলৌকিক কিছু একটা ঘটবেই। ফেসবুকে অভিনেতা সব্যসাচী চৌধুরি আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় মানুষ ঐন্দ্রিলার জন্য যাতে সবাই প্রার্থনা করেন। সকলকে বলেছিলেন তিনি নিজের হাতে ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে এসেছেন, নিজের হাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। হ্যাঁ, সব্যসাচী তাঁর কথা রেখেছেন। নিজের হাতে করে নিয়ে আসলেন ঐন্দ্রিলার নিথর দেহ। সব্যসাচী কথা রাখলেও কথা রাখেননি ঐন্দ্রিলা। অভিনেতার শোক যে কতটা গভীর তা তাঁর থম মেরে যাওয়া মুখ দেখেই স্পষ্ট। আর তাই তিনি রবিবারই নিজের ফেসবুক পেজটাও সরিয়ে দিলেন।
হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিথর দেহ নিয়ে সব্যসাচী ফিরলেন কুঁদঘাটে অভিনেত্রীর আবাসনে।

আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ছিলেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ টেলিজগতের একাধিক তারকা। ঐন্দ্রিলার দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় উপস্থিত প্রতিবেশী ও অনুরাগীদের। তবে এই ভিড়ের মধ্যে ছিলেন না সব্যসাচী। তাঁকে দেখা যায়নি কোথাও। এরপর আবার যখন বাড়ি থেকে ঐন্দ্রিলার দেহ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন আবার শববাহী গাড়ির সামনে চুপ করে বসে থাকতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। ঐন্দ্রিলার মৃত্যুতে তিনি শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন যেন। আসলে প্রিয় মানুষটার ২০ দিনের লড়াই সব্যসাচী নিজের চোখে দেখেছেন, অনুভব করেছেন। হয়ত তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি, ঐন্দ্রিলাকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি। তাই কলম থামিয়ে দিলেন তিনি। ফেসবুক থেকে সরিয়ে দিলেন নিজের পেজ।
চোখ থেকে একফোটা জলও গড়ায়নি সব্যসাচীর। অভিনেত্রীর প্রত্যেক জার্নিতে তাঁর সঙ্গে ছায়াসঙ্গীর মতো ছিলেন তিনি। এবারে ব্রেনস্ট্রোকের পরও যখন ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে ভুয়ো খবরে ছেয়ে গিয়েছিল ফেসবুক, তার মধ্য়েও যখন ঐন্দ্রিলা চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন, আশার আলো দেখেছিলেন তিনি। শেষযাত্রায় ঐন্দ্রিলাকে মিষ্টি করে সাজানো হয়। শববাহী গাড়ি রওনা দেয় কেওড়াতলার মহাশ্মশানের দিকে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ঐন্দ্রিলা শর্মার।












Click it and Unblock the Notifications