বিজেপির ‘চিন্তনে’ নেই শুভেন্দু, পুরভোটে ব্যর্থতার পর্যালোচনায় পারদ চড়ল নতুন জল্পনার
বিজেপি পুরসভা নির্বাচনে শোচনীয় ব্যর্থ হয়েছে। ১১৩ পুরসভার একটিও দখল করতে পারেনি বিজেপি। শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। তাই তারা বসেছিল চিন্তন বৈঠকে। কিন্তু সেই চিন্তন বৈঠক আবার নতুন করে জল্পনা বাড়াল।
বিজেপি পুরসভা নির্বাচনে শোচনীয় ব্যর্থ হয়েছে। ১১৩ পুরসভার একটিও দখল করতে পারেনি বিজেপি। শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের। তাই তারা বসেছিল চিন্তন বৈঠকে। কিন্তু সেই চিন্তন বৈঠক আবার নতুন করে জল্পনা বাড়াল। চিন্তন বৈঠকে প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রথমে স্থন পেলেন না মঞ্চে। আর তার থেকেই চর্চা হল যাঁকে নিয়ে তিনি শুভেন্দু অধিকারী।

চিন্তন বৈঠকে গরহাজির শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হল। তিনি চিন্তন বৈঠকে গরহাজির থাকলেন। আর তা নিয়েই চর্চা শুরু হল। পুরভোটের ব্যর্থতা নিয়ে পর্যালোচনা, অথচ সেখানে বিরোধী দলনেতা নেই। কেন বিরোধী দলনেতা থাকলেন না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব নেই। দলের অন্দরেই সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে। শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন না সাংসদ অর্জুন সিং।

শুভেন্দুর হোমটাউনে পরাজয় বিজেপির
এক্ষেত্রে বলাই যায়, সাম্প্রতিক পুরভোটে শুভেন্দু অধিকারী হোমটাউন ও অর্জুন সিংয়ের হোম টাউনেই শোচনীয় ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। কাঁথি দীর্ঘ তিন দশক পর হাতছাড়া হয়েছে অধিকারীদের। আর ভাটপাড়া হাতছাড়া হয়েছে অর্জুন সিংয়ের। এই অবস্থায় তাঁরা কী ব্যাখ্যা দেন, কেন এমন শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়তে হল বিজেপিকে, তা স্পষ্ট হল না।

বিজেপির ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ জানতে
সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠল বিজেপি এখন উত্তরবঙ্গের সুকান্ত মজুমদার ও দক্ষিণবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর উপর নির্ভরশীল। তাঁদের একজন কেন উপস্থিত থাকলেন না? তবে এদিন উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন পর তিনি বিজেপির কর্মসূচিতে উপস্থিত হলেন। কিন্তু মঞ্চে উঠলেন না প্রথমে। পরে তাঁকে বক্তব্য রাখার জন্য ডাকা হল। আর সেখানেই তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন বিজেপির ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ।

দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাই আসন কারণ ব্যর্থতার
রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের ভোট-সন্ত্রাসকে দায়ী করেছিলেন বিজেপির ভরাডুবির জন্য। কিন্তু সেই তত্ত্ব খারিজ করে লকেট চট্টোপাধ্যায় ফাঁস করলেন রাজ্য বিজেপির ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ। যে তত্ত্ব খারিজ করেছিলেন খোদ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সেই তত্ত্ব তুড়ি মেরে উড়িয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাই আসন কারণ ব্যর্থতার।

অসুখ সারানোর দাওয়াইও দিলেন লকেট
লকেট বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার পাশাপাশি বিজেপির ব্যর্থতার জন্য দায়ী দলীয় কমিটিতে স্বজনপোষণ। শুধু অসুখ দরেই ক্ষান্ত হলেন না তিনি, অসুখ সারানোর দাওয়াইও দিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। হুগলির সাংসদ জানালেন, বিজেপির আত্মসমালোচনার দরকার। দরকার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের। শুধু শাসক দলের সন্ত্রাসকে ঢাল করে বাঁচা যাবে না।

বিজেপির কী করণীয় সাফল্যের সরণিতে ফিরতে
লকেট সাফ জানালেন, শুধু ভোট-সন্ত্রাসের দোহাই দিয়ে ব্যর্থতাকে আড়াল করলেই শুধু হবে না, বিজেপির সাংগঠনিক ব্যর্থতার ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। নীচুতলার নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে বসে রয়েছে। ফলে বুথে বুথে দলের লোক নেই। বুথ কমিটিকে শক্তিশালী করতে হবে। বাড়াতে হবে বুথস্তরের ক্ষমতা।












Click it and Unblock the Notifications