বিজেপিতে সংঘাতের আবহে দিলীপ-শুভেন্দু, সম্পর্কের শৈত্যে নলেন গুড় থেকে প্রাতঃভ্রমণও
শুভেন্দু অধিকারীর ডিসেম্বর ধামাকা বিজেপিতেও বিভেদ সৃষ্টি করে দিল অবশেষে। সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী আঙুল তুললেন দিলীপ ঘোষের দিকে। এবং পুরো সংঘাত ফের সামনে এসে গেল।
শুভেন্দু অধিকারীর ডিসেম্বর ধামাকা বিজেপিতেও বিভেদ সৃষ্টি করে দিল অবশেষে। সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী আঙুল তুললেন দিলীপ ঘোষের দিকে। এবং পুরো সংঘাত ফের সামনে এসে গেল। পঞ্চায়েত নির্বাচকে যখন পাখির চোখ করছে বিজেপি, তখন নেতৃত্বের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ আবহ লেগেই রইল। সোমবার মমতার গড়ে সুকান্ত-শুভেন্দুকে এক মঞ্চে দেখা গেলেও দিলীপকে নিশানা করতে ছাড়লেন না শুভেন্দু।

লালমাটির দিলীপ বনাম বালু মাটির শুভেন্দু
আর লালমাটির দিলীপের বিরুদ্ধে বালু মাটির শুভেন্দুর তোপের পিছনে সেই ডিসেম্বর ধামাকাই মূল কারণ। ডিসেম্বর ধামাকা নিয়ে কয়েকদিন আগে দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিলেন। আর তার প্রেক্ষিতে দিল্লিতে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন আজকের দিনটি ইতিহাসে কোনও বিশেষ কারণ গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে কিন্তু রাজনীতির দিক থেকে কোনও গুরুত্ব আছে বলে মনে করি না।

নলেন গুড় বনাম প্রাতঃভ্রমণের তত্ত্ব
তার আগে শুভেন্দুর ডিসেম্বর সাসপেন্স নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, আমি জানি ডিসেম্বরে গুড় হয়, নলেন গুড় হয়। যারা এসব বলছেন, তারাই এর উত্তর দিতে পারবেন। শুভেন্দু এবার হাজরার মঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে পাশে নিয়ে নাম না করেই বিঁধলেন নিজের দলেরই বরিষ্ঠ নেতা দিলীপ ঘোষকে। ডিসেম্বর ধামাকার তারিখ দেওয়া নিয়ে সাফাই গেয়েই তিনি বলেন, "আমি মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে বাইট দিই না। আমি কোনও গিমিক করার জন্য স্টেটমেন্ট করি না।"

মধ্যমণি যখন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত
এদিন শুভেন্দুর এই মন্তব্যেক স্পষ্ট তাঁর নিশানা ছিল দিলীপ ঘোষের দিকেই। একইসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে এদিন ফের স্পষ্ট হয়ে যায় দিলীপ ঘোষ আর শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব এখনও সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। বিজেপিতে একতা আসেনি। এমনকী এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও দেখা যায়নি দিলীপ ঘোষের মতকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিতে বা শুভেন্দু অধিকারীর মতকে সম্পূর্ণ মান্যতা দিতে।

বিজেপির তিন মস্তিষ্কের তিন মত
মোট কথা, ডিসেম্বর ধামাকা নিয়ে বিজেপির তিন মস্তিষ্কের তিন মত প্রকাশ পেয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সংকল্প ছেড়ে তাঁরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করছেন। শুভেন্দু তৃণমূলকে ডেডলাইন দিয়ে দিচ্ছেন, দিলীপ ঘোষ সেই ডেডলাইনকে নলেন গুড়-কটাক্ষে বিঁধছেন। আর তারপর সুকান্ত মজুমদার বলছেন, নির্দিষ্ট দিন বা মাসের কথা বলতে চান না, কিন্তু এটা ঠির সবকা দিন আয়েগা।

শুভেন্দু-সুকান্তের পর দিলীপ-শুভেন্দু কাজিয়া
ফলে বিজেপিতে একটা না একটা কাজিয়া লেগেই থাকছে। শুভেন্দু-সুকান্ত কাজিয়া মিটতে না মিটতেই উপস্থিত হয়েছে দিলীপ-শুভেন্দু কাজিয়া। শুভেন্দুর মুখে মর্নিং ওয়াক তত্ত্বের কথা শুনে নীচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে মুখ চাওয়াচায়ি শুরু হয়ে যায়। বিজেপিতে আদি-নব্য বা আদি-তৎকাল দ্বন্দ্ব যে চিরস্থায়ী তা বারেবারে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন ধরেই শুভেন্দু বনাম সুকান্ত কাজিয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল বঙ্গ বিজেপিতে।












Click it and Unblock the Notifications