সূর্য-শিখায় ভারত মহাসাগরে তৈরি হচ্ছে রেডিও ব্ল্যাকআউট, আবার এ কোন ঝড়ের পূর্বাভাস
সূর্য-শিখায় ভারত মহাসাগরে তৈরি হচ্ছে রেডিও ব্ল্যাকআউট, আবার এ কোন ঝড়ের পূর্বাভাস
সূর্য এবার নতুন চক্রে প্রবেশ করতে চলেছে। তার ফলস্বরূপ বৃহস্পতিবার আর উজ্জ্বল হয়ে ওঠা সূর্য থেকে একটি বড় অগ্নিশিখা নির্গত হয়েছে। সানস্পট এআর-২৯২৯ বিস্ফোরিত হয়ে একটি শক্তিশালী এম-৫.৫ শ্রেণির সৌর শিখা তৈরি করেছে। তা অতিবেগুনি ফ্ল্যাশ হিসেবে নাসার সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরিতে রেকর্ড হয়েছে।

সূর্য শিখার স্পন্দন পৃথিবীতে
স্পেসওয়েদার ডটকমের মতে ফ্লেয়ারের সময় এক্স-রে'গুলির একটি স্পন্দন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের শীর্ষে আয়নিত হয়েছিল। যার ফলে ভারত মহাসাগরের চারপাশে একটি শর্টওয়েভ রেডিও ব্ল্যাকআউট তৈরি হয়েছিল। ফলে ওই অঞ্চলের বিমানচালক, নাবিক এবং হ্যাম রেডিও অপারেটররা ৩০ মেগাহার্টজের নিচে ফ্রিকোয়েন্সিতে অস্বাভাবিক প্রভাব লক্ষ্য করতেও পারেন।

সৌর শিখা চৌম্বক ক্ষেত্রে সঞ্চালিত
সৌর শিখাগুলি সাধারণত সক্রিয় অঞ্চলে সঞ্চালিত হয় অর্থাৎ সূর্যের উপর যে জায়গায় শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতি রয়েছে সেখানে সঞ্চালিত হয়। সাধারণত তা সানস্পট গ্রুপগুলিতে যুক্ত থাকে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রগুলি বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা অস্থির একটি বিন্দুতে পৌঁছতে পারে এবং বিভিন্ন আকারে শক্তি প্রকাশ করতে পারে।

সোলার ফ্লেয়ার আসলে কী?
সৌর শিখা হল সূর্যের পৃষ্ঠে একটি আকস্মিক, দ্রুত এবং তীব্র বিস্ফোরণ ঘটার পর বিস্ফোরিত আলোক রেখা। যখন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ শক্তি হঠাৎ করে নির্গত হয়, তখনই দেখা যায় সৌরশিখা। তা বিস্ফোরণের ফলে মহাবিশ্বের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থজুড়ে বিকিরণ হয়। সৌরজগতের গ্রহগুলির দিকে তা ছুটে যায়। এই বিকিরণের মধ্যে রয়েছে রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে এবং গামা রশ্মি।

সৌর শিখার পর্যায় বিভাজন
একটি সৌর শিখার তিনটি পর্যায় রয়েছে। প্রথম হল প্রিকিওরসর পর্যায়। যেখানে চৌম্বকীয় শক্তির মুক্তি নরম এক্স-রে নির্গমনের মাধ্যমে শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রোটন এবং ইলেকট্রন এক মিলিয়ন ইলেকট্রন ভোল্টের সমতুল্য শক্তিতে ত্বরান্বিত হয়। তৃতীয় পর্যায়ে এক্স-রেগুলির ধীরে ধীরে বিস্ফোরিত হয় এবং ক্ষয় হতে শরু করে।

রেডিও ব্ল্যাকআউট হতে পারে
বৃহস্পতিবারের অগ্ন্যুৎপাতকে এম শ্রেণি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মাঝারি আকারের। এর ফলে সংক্ষিপ্ত রেডিও ব্ল্যাকআউট হতে পারে এবং পৃথিবীর মেরু অঞ্চলকে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রভাব পড়তে পারে ভারত মহাসাগরে। ব্ল্যাক আউট তৈরি হতে পারে এর ফলে। যার ফলে ছোটখাট বিকিরণ ঝড় হতে পারে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এটা কি জিওম্যাগনেটিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাবে?

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসছে
স্পেস-ওয়েদার ডটকমের মতে, ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা হতে পারে এর ফলে। কারণ করোনাল ম্যাস ইজেকশনের একটি সিরিজ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসছে। দুটি সিএমই সানস্পট আর এআর২৯২৯ থেকে এম-ক্লাস ফ্লেয়ার সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে বেরিয়ে গেছে, তা পৃথিবীতে প্রভাব ফেলবে বলেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা।

তিনটি জি-ওয়ান শ্রেণির ঝড় আসছে
যদিও তারা সরাসরি গ্রহে আঘাত হানবে না। এর ফলে তিনটি জি-ওয়ান শ্রেণির ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় সৃষ্টি করতে পারে। ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় হল পৃথিবীর চৌম্বকমণ্ডলের একটি প্রধান ব্যাঘাত, যা পৃথিবীর চারপাশের মহাকাশ পরিবেশে সৌর বায়ু থেকে শক্তির খুব দক্ষ আদান-প্রদানের সময় ঘটে।












Click it and Unblock the Notifications