বিজেপির রাশ আলগা হচ্ছে মতুয়া গড়ে, ঠাকুরনগরে কি ফের রাজ করবে তৃণমূল কংগ্রেস
বিজেপির রাশ আলগা হচ্ছে মতুয়া গড়ে, ঠাকুরনগরে কি ফের রাজ করবে তৃণমূল কংগ্রেস
বাম শাসনের আগে থেকেই মতুয়া মহলে বেশ জাঁকিয়ে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় পরিবর্তনের বছরের আগে থেকেই তৃণমূল প্রভাব বাড়াতে শুরু করে মতুয়া-গড়ে। সেই নিরিখে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ টানা ১০ বছর ঠাকুরনগরের রাশ ছিল তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।

১৯-এর পর ২১-এও বিজেপির থেকে মুখ ফেরায়নি মতুয়ারা
২০১৯-এ প্রথম দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ছে মতুয়া। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখেই বিজেপির পক্ষে মতদান করেন মতুয়ারা। কিন্তু ২০১৯ থেকে ২০২১ তাঁদের পাওয়ার ঝুলিটা অপূর্ণই থাকে। ২০২১-এও তাঁরা বিজেপির থেকে মুখ ফেরায়নি। আরও একবার তাঁরা আস্থা রেখেছিল বিজেপির কথায়।

২০২২-এর আগেই মতুয়া-গড়ে বিদ্রোহ শুরু বিজেপিতে
কিন্তু ২০২১ পেরিয়ে ২০২২-এ পা রাখার আগেই মতুয়া-গড়ে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ২০১৯-এ তারা বিজেপিকে সাংসদ দিয়েছেন, ২০২১-এ দিয়েছেন বিধায়ক। পাঁচ-পাঁচজন বিধায়ক হয়েছেন মতুয়া মহল থেকে। কিন্তু মতুয়াদের দাবি-দাওয়া পূরণ হয়নি। বিজেপির সংগঠনেও তাঁদেরও কোনও স্থান দেওয়া হয়নি।

মতুয়া বিধায়ক-সাংসদের কাছে সবথেকে বড় সমস্যা যেটা
বর্তমান পরিস্থিতিতে মতুয়া বিধায়ক-সাংসদদের প্রতি মুহূর্তে জবাবদিহি করতে হচ্ছে মতুয়া সমাজের কাছে। কেন এখনও তাঁদরে দাবি মিটল না, কেন তাঁরা নাগরিকত্বের নথি পেলেন না এখনও। কেন তাঁদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মতুয়া বিধায়ক-সাংসদের কাছে সেটাই সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মতুয়া-গড়ে প্রতিনিয়ত সংকট বাড়ছে, বেকায়দায় বিজেপি
সেই কারণেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে ২০২১-এর নির্বাচনের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই। পাঁচ বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে মুখ ফিরিয়েছেন। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে সরে গিয়েছেন তাঁরা। বিজেপি বিধায়কদের পর এবার বিদ্রোহী হয়েছেন খোদ সাংসদ-মন্ত্রী শান্তুনু ঠাকুর। মতুয়া-গড়ে তাই প্রতিনিয়ত সংকট বাড়ছে বিজেপির।

মতুয়ারা কিন্তু ফের তৃণমূলমুখী হচ্ছেন, দাবি মমতাবালার
বিজেপির সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বিদ্রোহী হওয়ায় জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে, তবে কি বিজেপতে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে। মতুয়া-গড়ে কি তবে এবার বিজেপি নয় তৃণমূলের রাজ শুরু হবে আবার। মতুয়ারা কিন্তু ফের তৃণমূলমুখী হতে শুরু করে দিয়েছেন। অন্তত তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের তেমনটাই দাবি।

মতুয়া মহাসঙ্ঘে পারিবারিক দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে উত্থান বিজেপির
মতুয়া মহাসঙ্ঘে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিলই। সেই দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই বিজেপি বেড়ে উঠেছে ঠাকুরনগরে। সেই শুরু তারপর মতুয়া সমাজে প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি। ঠাকুরনগরকে দু-ভাগ করে শান্তনু ঠাকুর-সুব্রত ঠাকুরদের জনপ্রতিনিধি করেছে বিজেপি। মতুয়া মহাসঙ্ঘের ঠাকুরবাড়ির ছেটো তরফকে করায়ত্ব করে বিজেপি এগিয়েছে।

ঠাকুরনগরে মতুয়া মহলের রাজনৈতিক সমীকরণ
বড়মার দুই পুত্র কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ও মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের প্রয়াণের পর স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুর তৃণমূলের সাংসদ হয়েছেন। আর ছোট ছেলে মঞ্জলকৃষ্ণ ঠাকুর তখন ছিলেন বিধায়ক ও রাজ্যর তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী। তারপর বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিন পসার জমাতে পারেননি। শেষে ২০১৯-এ মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের এক ছেলে শান্তনু ঠাকুরকে প্রার্থী করে বিজেপি সাফল্য পায়। শান্তনু হন বিজেপির সাংসদ। এখন তিনি কেন্দ্রীয়মন্ত্রী। আর ২০২১-এ গাইঘাটা থেকে বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত হন শান্তনুর দাদা সুব্রত ঠাকুর।

শান্তনুর যে কথায় ভাঙন জল্পনা ঘাঁটি গেড়েছে বিজেপিতে
কিন্তু সুব্রত ঠাকুরের পর শান্তনু ঠাকুরও বিদ্রোহী হতেই বিজেপি সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে। শান্তনু আবার জল্পনা বাড়িয়ে জানিয়েছেন, কেন বেরিয়ে গেলাম বিজেপির সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে, তা এখনই জানাব না। আগামীদিনে বিস্তারিত জানাব। শান্তনুর এই কথাতেই ভাঙন জল্পনা ঘাঁটি গেড়েছে বিজেপিতে। বিজেপি নেতৃত্ব এখনও এ বিষয়ে স্পিকটি নট।

পাঁচ বিধায়কের বিদ্রোহের পর বিদ্রোহী শান্তনু ঠাকুরও
শান্তনু ঠাকুর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সময় চেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনা কি তবে ফলপ্রসূ হয়নি? জেপি নাড্ডা তো বলেছিলেন, প্রয়োজনে ফের রদবদল হবে, মতুয়াদের প্রাধান্য দেবে দল। তারপরও কেন জারি রইল শান্তনুদের বিদ্রোহ?

মতুয়াদের তৃণমূলে ফিরে আসার আহ্বান মমতাবালার
শুধু সুব্রত-শান্তনুরাই নন, মতুয়াদের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তিনি লিখেছিলেন, মতুয়ারা এখন থেকে আর কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে না। এই পরিস্থিতিতে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর তাঁদের সবাইকে তৃণমূলে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানান। রাজ্য রাজনীতিতে এখন তাই জল্পনা মতুয়া মহল ফের ঝুঁকছে তৃণমূলের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications