রেকর্ড বিস্ফোরণের পরও অক্ষত টোঙ্গা আগ্নেয়গিরি! দৃশ্য দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা
বছরের শুরুতেই যখন হুঙ্গা টোঙ্গা হুঙ্গা হাপাই আগ্নেয়গিরিটি বিস্ফোরিত হয়েছিল, তখন সারা বিশ্বে শকওয়েভ অনুভূত হয়েছিল। এর ভয়ানক প্রভাব পড়েছিল মহাকাশেও। যে স্তরের বিস্ফোরণ হয়েছিল আগ্নেয়গিরিটিতে, তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অবাক করা দৃশ্য দেখা গেল সমুদ্রের তলায়। ভয়ানক অগ্ন্যুৎপাতের পরও অক্ষত আগ্নেয়গিরি।

সমুদ্রের তলায় সেই দৃশ্যে অবাক বিজ্ঞানীরা
নিউজিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্চের গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন সমুদ্রের তলায় সেই দৃশ্য। তাঁরা পার্শ্ববর্তী সমুদ্রতলের ২২ হাজার বর্গকিলোমিটার ম্যাপ করেছেন। তার মধ্যে ৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা পরিবর্তনগুলি লক্ষ্যণীয় হয়েছে। গবেষকরা তিন মিলিয়ন সুইমিং পুলের সমতুল্য সাত কিউবিক কিলোমিটার পর্যন্ত স্থানচ্যুত উপাদান রেকর্ড করেছেন। তবে তাঁরা জানান সম্ভবত আরও বেশি কিছু দেখা যেতে পারে।

সি-মাউন্টগুলিতে স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য অটুট
প্রচণ্ড বিস্ফোরণের তেজে ঘরোয়া ইন্টারনেট কেবলটিও ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ৩০ মিটার ছাই এবং পলির নীচে চাপা পড়েছিল। আগ্নেয়গিরি। যদিও আগ্নেয়গিরির সমুদ্রতল মূলত অনুর্বর, আশেপাশের সি-মাউন্টগুলিতে স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য অটুট রয়েছে। যেমন প্রবাল, স্পঞ্জ, স্টারফিশ এবং ঝিনুক, যা এই ধরনের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা নির্দেশ করে।

জলের স্তর পরীক্ষাও করে অবাক সমুদ্র বিজ্ঞানীরা
সমুদ্র বিজ্ঞানী ডাঃ ম্যালকম ক্লার্ক বলেছেন, বাস্তুতন্ত্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সে সম্পর্কে আমরা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আগে আরও কাজ করা দরকার। তারপরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলে জানান গবেষকরা। তাপমাত্রা, পুষ্টি এবং অক্সিজেনের ঘনত্ব-সহ শারীরিক এবং রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য জলের স্তর পরীক্ষাও করেছেন তাঁরা।

আগ্নেয়গিরিটি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে!
এই গবেষক দলটি জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে। আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি জলের স্তরের একটি ঘন ছাইয়ের আস্তরণ পাওয়া গেছে। জৈব-রসায়নবিদ ডঃ সারাহ সিব্রুক এক বিবৃতিতে বলেছেন, "একটি অগ্ন্যুৎপাতের পর আগ্নেয়গিরির ছাই সাগরের শৈবালকে উর্বর করে। এই ক্ষেত্রে বিস্ফোরণ এত বড় ছিল যে, তা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান হয়েছিল।

মনুষ্যবিহীন জাহাজে নতুন আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপ ম্যাপ
বিজ্ঞানীরা তাদের মিশনের সময় শত শত নমুনা সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রতলের কোর, বিভিন্ন প্রবাল এবং ২৫০ কিলোগ্রাম শিলা। সেই শিলা অগ্ন্যুৎপাত থেকে নতুনভাবে গঠিত হয়েছিল। গবেষকরা এখন একটি আনক্রুড সারফেস ভেসেল দ্বারা ওই অঞ্চল ম্যাপ করার পরিকল্পনা করছেন এবং তাঁরা আগ্নেয়গিরির উপরে থাকা জলের পরিবেশগত অবস্থা পরিমাপ করবেন। মনুষ্যবিহীন জাহাজটি যেকোন নতুন আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপকে ম্যাপ করতে একটি উদ্ভাবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
|
টোঙ্গাকে যেভাবে অক্ষতরূপে, দৃশ্যে অবাক বিজ্ঞানীরা
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের পরও টোঙ্গাকে যেভাবে অক্ষতরূপে দেখা গিয়েছে, তা অবাক করেছে বিজ্ঞানীদের। এই পরিমাণ বিস্ফোরণের পর টোঙ্গা আগ্নেয়গিরির পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু টোঙ্গা অটুট। টোঙ্গা সমুদ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে রয়েছে। জাপান-সহ অনেক দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতিতে অবদান রাখার জন্য আগের মতোই সক্রিয় সে।
সৌজন্যে: নাসা/টুইটার












Click it and Unblock the Notifications