Space News: একসঙ্গে ৪১টি উপগ্রহ পাড়ি দিল মহাকাশে! চিনের এই অভিযানের লক্ষ্য কী
চিন থেকে এবার মহাকাশে পাড়ি দিল ৪১টি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো কী উদ্দেশে, তা নিয়ে রীতিমতো শুরু হয়েছে চর্চা। ৪১টি স্যাটেলাইট নিয়ে লং মার্চ ২ডি রকেট উৎক্ষেপণে চিনের বুকে তৈরি হল নয়া ইতিহাস।
চিন প্রথমবার একটি একক অভিযানে এতগুলি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাল। মহাকাশে একযোগে ৪১টি উপগ্রহ পাঠিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়ল চিন। শানসি প্রদেশে তাইওয়ান স্যাটেলাইন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে একযোগে ৪১টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

চিনের পরিকল্পনা রয়েছে, এই দশকের শেষে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর। নাসা ইতিমধ্যেই চাঁদে মানব অভিযানের মহড়া শুরু করে দিয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই ফের চাঁদের মাটিতে নামবে মানুষ। নাসা মহাকাশচারীদের পাঠাবেন চাঁদে।
নাসার এই কীর্তির মধ্যেই চিন পরিকল্পনা করে নিয়েছে, তারাও এবার চাঁদে পাঠাবে মহাকাশচারীদের। সেই কারণেই পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণকারী মহাকাশ স্টেশনের জন্য তিন ব্যক্তির একটি দলের অভিযান শুরু করেছে চিন। তারপর একক অভিযানে ৪১টি উপগ্রহ পাঠিয়ে শুধু নতুন পালকই তাঁরা সাফল্যের মুকুটে জুড়ল না, জল্পনাও বাড়িয়ে দিল।

চিনের তরফে জানানো হয়েছে এটি লং মার্চ রকেট সিরিজের ৪৭৬তম অভিযান ছিল। এই ৪১টি উপগ্হ একসঙ্গে মহাকাশে পাঠানোর নেপথ্যে কারণ ছিল বাণিজ্যিক রিমোট সেন্সিং পরিষেবা প্রদান ও এই সম্পর্কিত প্রযুক্তি যাচাই করা। উপগ্রহগুলি বেশিরভাবই ৩৬-জিলিন-১ সিরিজের।
এটি চিনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি উপগ্রহ ব্যবস্থা। এই ৪১টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গে জিলিং-১ স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১০৮ হয়ে গিয়েছে। ২০১৫ সালে চিন প্রথম জিলিন-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল। তারপর কেটে গিয়েছে ৮ বছর। এর মধ্যে তারা সেঞ্চুরি পার করেছে মহাকাশে প্রেরণ করা উপগ্রহের সংখ্যায়।

বর্তমানে মহাকাশ গবেষণা ও উন্নয়নে চিনের দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। চিন এককভাবে পাল্লা দিচ্ছে আমেরিকা ও পশ্চিমা দশগুলির সঙ্গে। পৃথক মহাকাশ স্টেশন তৈরি করেছে চিন। নাসার সঙ্গে পাল্টা দিয়ে চন্দ্রাভিয়ান ও মঙ্গলাভিযানও করছে। নাসা যেহেতু চাঁদ ও মঙ্গল নিয়ে বিশেষ অভিযানের সংকল্প গ্রহণ করেছে, নাসাকে পাল্টা দিতে আসরে নামছে চিনও।
তবে চিন একা বললে তা ভুল হবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাকে চ্যালেঞ্জ দিতে চিনের সঙ্গে রয়েছে রাশিয়াও। আগে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে টক্কর লেগেই থাকত। এখন নাসা সেই দ্বৈরথ ছাড়িয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। তবে চিন পিছু ছাড়েনি। এবার রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে নাসাকে তাড়া করছে চিন।












Click it and Unblock the Notifications