সৌর-ঝড় ধেয়ে আসছে পৃথিবী অভিমুখে, সতর্কতা জারি করল ‘স্পেস ওয়েদার’
সৌর-ঝড় ধেয়ে আসছে পৃথিবী অভিমুখে, সতর্কতা জারি করল ‘স্পেস ওয়েদার’
আবার ধেয়ে আসছে বড় এক ঝড়। সূর্যে সৃষ্টি সেই ঝড় অচিরেই আঘাত হানবে পৃথিবীর বুকে। এমনই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে সৌর ঝড় আছড়ে পড়ার দিনক্ষণ জানিয়ে সতর্কও করেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। সূর্যের বায়ুমণ্ডলে একটি গর্ত থেকে সৃষ্টি হওয়া সেই ঝড় ধেয়ে আসছে পৃথিবী অভিমুখে।

চৌম্বকীয় ঝড়ের হানা পৃথিবীতে
স্পেস ওয়েদার ডট কম জানিয়েছে, সূর্যের বায়ুমণ্ডল থেকে ভেদ করে সৌর ঝড় বুধবারই আঘাত হানবে পৃথিবীতে। তা পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যামোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছন, সূর্যের বায়ুমণ্ডলের একটি দক্ষিণ গর্ত থেকে গ্যাসীয় পদার্থ প্রবাহিত হচ্ছে। তাই চৌম্বকীয় ঝড়ের আকারে পৃথিবীতে হানা দিতে চলেছে।

ঘণ্টায় ১.৮ মিলিয়ন মাইল গতিতে সৌর ঝড়
করোনাল হোল হল সূর্যের বায়ুমণ্ডলের এমন একটি এলাকা যেখানে আমাদের নক্ষত্রের বিদ্যুতায়িত গ্যাস বা প্লাজমা শীতল বা কম ঘন। এই ধরনের গর্তগুলি ওই প্লাজমাকে বাইরের দিকে পাঠিয়ে দেয়। সান ফ্রান্সিসকোর একটি বিজ্ঞান জাদুঘর এক্সপ্লোরেটরিয়াম অনুসারে এটি সৌর উপাদানকে বাড়তে সক্ষম করে, যা ঘণ্টায় ১.৮ মিলিয়ন মাইল গতিতে ধেয়ে আসে।

রঙিন অরোরা তৈরি হয় আকাশে
এই ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের সময় পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি অত্যন্ত শক্তিশলী কণার তরঙ্গ দ্বারা সামান্য সঙ্কুচিত হয়। কণাগুলি চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের রেখাগুলিতে ট্কিক করে বায়ুমণ্ডলে অণুগুলিকে আন্দোলিত করে। রঙিন অরোরা তৈরি করতে আলোর আকারে শক্তি ছেড়ে দেয় এবং উত্তরে এক আলোকপ্রভা তৈরি করে।

ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় চলে সৌরজগতে
সূর্যের বায়ুমণ্ডলে এই ঝড় দুর্বল হয়ে ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় হিসেবে সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সৌরজগতের অন্তর্গত গ্রহগুলিতে প্রভাব ফেলে। এই ঝড় স্যাটেলাইট ফাংশনকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। মোবাই ডিভাইস এবং জিপিএস সিস্টেম-সহ এটি অরোরাকে মিশিগান ও মেইন পর্যন্ত দক্ষিণে নিয়ে আসে।

পৃথিবীতে পৌঁছতে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময়
ভূ-বিজ্ঞানীরা জানান, আরও চরম চৌম্বকীয় ঝড় আমাদের গ্রহের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রকে শক্তিশালীভাবে ব্যাহত করতে পারে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এর ফলে ইন্টারনেট বিকল হতে পারে। সূর্য থেকে অগ্ন্যুৎপাত বা করোনার ভর ইজেকশন পৃথিবীতে পৌঁছতে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় নেয়। সেই হিসেবে বুধবারই তা আছড়ে পড়তে পারে।

ক্যারিংটন ইভেন্ট ছিল সবথেকে বড় সৌর-ঝড়
বিজ্ঞানীরা জানান, যখন এই ঝড়টি ধেয়ে আসে, তখন সূর্য তার ১১ বছররে দীর্ঘ সৌর চক্রের চরম পর্যায়ে চলে আসে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১৭৭৫ সাল থেকে এই ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। ২০২৫ সালে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। এখন পর্যন্ত ১৮৫৯ লালের ক্যারিংটন ইভেন্ট ছিল সবথেকে বড় সৌর-ঝড়।












Click it and Unblock the Notifications