চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে আর্টেমিস-১, চাঁদের বুকে প্রথম জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি তুঙ্গে
চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে আর্টেমিস-১, চাঁদের বুকে প্রথম জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি তুঙ্গে
প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে, মাঝে আর মাত্র একদিন। ২৯ অগাস্ট চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে আর্টেমিস-১। চাঁদের বুকে আর্টিমিস-১ প্রথম জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় নামবে। যেহেতু আর্টেমিস-১ ২৯ অগাস্ট চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করবে, তার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই মিশনে আর্টেমিস-১ কোনও মনু্ষ্য পরিবহন করবে না।

আর্টিমিস-১ মিশনের সাফল্যের পরই চন্দ্র-মঙ্গলাভিযান
এই মিশনটি পেলোডের মধ্যে প্রথম জীববিজ্ঞান পরীক্ষা করবে আর্টিমিস-১। সেই উদ্দেশে চন্দ্রের কক্ষপথে পরিচালিত হবে। তার আগে মহাকাশ বিকিরণের প্রভাবগুলিও পর্যবক্ষেণ করবে। এই মিশনের সাফল্যে পরই চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযানে নামবে নাসা। এমনকী মঙ্গলের উদ্দেশেও এ ধরনের মিশন শুরু করা হবে।

চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে একটি সতর্কতামূলক মিশন
এবার এই জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় আর্টেমিস-১ মহাকাশ ভ্রমণে মানবদেহের উপর যে সমস্ত প্রভাব পড়ে তা জানার চেষ্টা চালাবে। এবং তার মোকাবিলা কোন পথে করা যায়, তা নিরীক্ষণের চেষ্টা করবে। এই নিরীক্ষণ ও মহাকাশ ভ্রমণের জেট-ল্যাগ কমানোর কৌশলকেই বলা হচ্ছে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। অর্থাৎ চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে এটি একটি সতর্কতামূলক মিশন।

পৃথিবী থেকে নেওয়া জৈবিক ব্যবস্থাগুলি কীভাবে ব্যবহার মহাকাশে
এই পরীক্ষাটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হচ্ছে বায়ো এক্সপেরিমেন্ট-১। এই মধ্যে চারটি ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা করা হবে, যা চারটি ভিন্ন জৈবিক নমুনা কভার করবে। এই পরীক্ষা ও নমুনাগুলি বুঝতে সাহায্য করবে কীভাবে পৃথিবী থেকে নেওয়া জৈবিক ব্যবস্থাগুলি মহাকাশে ব্যবহার করা যায়। নাসার প্রোগ্রাম সায়েন্টিস্ট ডা. শর্মিলা ভট্টাচার্য মহাকাশ বিজ্ঞানের এই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।

মহাকাশে বিকিরণের প্রভাব কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়
বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা চালা্চ্ছে কীভাবে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মহাকাশে মানিয়ে নেওয়া যায়। তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে নাসা। বিজ্ঞানীরা জানতে চাইছে মহাকাশে বিকিরণের প্রভাবে কীভাবে জৈবিক সিস্টেমে মানিয়ে নেয়। শুধু উদ্ভিদের বীজ বা শেওলা নয়, ছত্রাক ও খামিরের মতো সেলুলার সিস্টেমগুলিতেও তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

মহাকাশ যান চাঁদের বাইরে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাবে
আর্টিমিস-১ লঞ্চ করার পর থেকেই ডেটা সংগ্রহ করতে শুরু করবে। উড়ানের সময় জৈবিক সিস্টেমগুলি কী অনুভব করেছিল, ওড়ার পরে কী পরিবর্তন হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা হবে। নাসা জানিয়েছে, চারটি জৈব পরীক্ষা দুটি ভাগে ভাগ করে করা হবে। এই মহাকাশ যান চাঁদের বাইরে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাবে। তারপর পৃথিবীতে ফিরে আসবে। মহাকাশের পরিবেশে এই চারটি ভিন্ন সিস্টেম কীভাবে সাড়া দেয়, তা বোঝারও চেষ্টা করা হবে সংগৃহীত ডেটা থেকে।

পাঁচ দশক আগে অ্যাপোলোর পর আর্টিমিস মিশনের পরিকল্পনা
ড. শর্মিলা ভট্টাচার্য বলেন, আমরা পৃথিবীতে উদ্ভিদের উপর অনেকাংশে নির্ভর করি, কিন্তু পৃথিবীর বাইরে তা কতটা করা যায়, সেটা দেখা এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য। নাসা গভীর মহাকাশে দীর্ঘ সময়ের জন্য মিশন শুরু পরিকল্পনা করছে। অ্যাপোলো মিশন শুরু হয়েছে পাঁচ দশক আগে। এখন আর্টিমিস মিশনে যাওয়ার আগে বর্তমান পরিস্থিতিতে জীববিজ্ঞান খতিয়ে দেখতে চাইছে নাসা।












Click it and Unblock the Notifications