নাসার মিশন থেকে বেসরকারি চন্দ্রাভিযানে সাড়া ২০২২, মানবজাতি আরও চাঁদের কাছাকাছি
নাসার মিশন থেকে বেসরকারি চন্দ্রাভিযানে সাড়া ২০২২, মানবজাতি আরও চাঁদের কাছাকাছি
সম্প্রতি চাঁদের বুকে রেকর্ড সৃষ্টি করে এল নাসা। ৫০ বছর আগের যাত্রাপথকে অতিক্রম করে নয়া কীর্তির স্বাক্ষর রাখল নাসার আর্টমিস ওয়ান মিশন। এছাড়া আরও নানা বেসরকারি উদ্যোগ মহাকাশ বিজ্ঞানে ২০২২ সালে সাড়া ফেলে দিয়েছে। তাতে প্রমাণিত মানবজাতি আরও চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। চাঁদে অভিযান চালানো এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

আর্টমিস ওয়ান মিশনে নাসার চন্দ্রযান ওরিয়ন
নাসা টার্গেট রেখেছে, ২০২৩ চাঁদের কক্ষপথে মহাকাশচারীদের পাঠাবে। আর ২০২৪ সালে চাঁদের বুকে মানব অভিযান হবে। অর্থাৎ চাঁদে নামবেন মহাকাশচারীরা। আর এই অভিযানে প্রথম একজন মহিলা নভশ্চর পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১১ ডিসেম্বরে আর্টমিস ওয়ান মিশনে নাসার চন্দ্রযান ওরিয়ন ফিরে আসার পর ফের স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে।

চাঁদের বুকে নয়া কীর্তি স্থাপন করে আসে ওরিয়ন
১৯৭০-এর দশকে শেষবার চাঁদে মানব অভিযান চালানো হয়েছিল। সেবার অ্যাপোলো-৭ মানুষ নিয়ে গিয়েছিল চাঁদে। এবার আর্টেমিস মিশনে ওরিয়ন মহকাশযান ২৮ নভেম্বর চাঁদের বুকে নয়া কীর্তি স্থাপন করে আসে। অ্যাপোলো সেভেনের রেকর্ড ব্রেক করে ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৬৩ মাইল পথ অতিক্রম করে চাঁদের বিপরীত পৃষ্ঠে হানা দিয়ে আসে ওরিয়ন।

চাঁদের না দেখা পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে এসেছিল ওরিয়ন
নাসার মানব স্পেসফ্লাইট প্রোগ্রামগুলি সফলভাবে চালু হয়েছে। তার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট, যা নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানকে এমন একটি পথে চালনা করেছিল যে তা যে কোনও মহাকাশযানের থেকে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছিল। এমনকী চাঁদের বুকেও সেই মহাকাশযান বেশি পথ অতিক্রম করে চাঁদের না দেখা পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে এসেছিল।

৫০ বছর পর চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রথম প্র্ত্যাবর্তন ঘটবে
এদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বুস্টার সেগমেন্ট তৈরির কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছে। আর্টেমিস থ্রি মিশনের জন্য কেনেডির কাছে ইঞ্জিন সেকশন সরবরাহ করেছে, যা ৫০ বছর পর চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রথম প্র্ত্যাবর্তন ঘটবে এবং এই মিশনে চাঁদে প্রথম মহিলা নভশ্চর অবতরণ করবে।

চাঁদের চারপাশে দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধান নিশ্চিত
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই যাত্রাপথে অসংখ্য মূল আর্টেমিস মাইলফলকও সম্পন্ন করেছে, যা শুধুমাত্র চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রত্যাবর্তনই নয়, মঙ্গলে প্রথম মহাকাশচারী পাঠানোর প্রস্তুতির জন্য চাঁদের চারপাশে দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধান নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ১৩টি অবতরণ অঞ্চল
আজ পর্যন্ত নাসা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ১৩টি অবতরণ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে, যেখানে চাঁদে পরবর্তী আমেরিকান নভোচারীরা আর্টেমিস থ্রি-এর সময় অবতরণ করতে পারবেন। স্পেসস্যুট-সহ চাঁদে চলার ব্যবস্থা প্রদানের জন্য অ্যাক্সিযম স্পেস নির্বাচন করেছে, তাও মহাকাশচারীরা আর্টেমিস থ্রি-এর সময় ব্যবহার করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য নতুন স্পেসসুট তৈরি করতে কলিন্স অ্যারোস্পেসকে একটি টাস্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

টেকসই চন্দ্র ল্যান্ডার তৈরির ফল পাবে নাসা
নাসা এছাড়াও স্পেসএক্সকে একটি চুক্তি সংশোধন করে তার স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেমকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে। চাঁদের দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযানের জন্য নাসা আর্টেমিস ফোর-এর সময় দ্বিতীয় ক্রুড অবতরণ প্রদর্শনী মিশন রাখা হয়েছে। টেকসই চন্দ্র ল্যান্ডার তৈরির ফলে সংস্থাটি আর্টেমিস ফোর-এ চাঁদে অবতরণ করা সহজতর হবে।

জাপানি বিলিয়নেয়ার চন্দ্রাভিযান
ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত চন্দ্র মিশনগুলিও ধীরে ধীরে কিন্তু অবিচলিতভাবে এগিয়ে চলেছে। জাপানি বিলিয়নেয়ার ইউসাকু মায়েজাওয়া ডিসেম্বরে চাঁদের চারপাশে আট ব্যক্তির ব্যক্তিগত মিশন ঘোষণা করেছেন। স্পেসএক্স ফ্লাইটে শিল্পী এবং সৃজনশীল পেশাদারদের নিয়ে এই মিশন হওয়ার কথা। ক্রুতে থাকবেন ডিজে স্টিভ আওকি, সংগীতশিল্পী চোই সেউং হিউন, কোরিওগ্রাফার এবং পারফর্মার ইয়েমি এডি, ফটোগ্রাফার রিয়ানন অ্যাডাম, ইউটিউবার টিম ডড, ফটোগ্রাফার করিম ইলিয়া, চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রেন্ডন হল এবং অভিনেতা দেব ডি জোশি, স্নোবোর্ডার কেইটলিন ফারিংটন এবং নৃত্যশিল্পী মিউ। থাকবেন ব্যাকআপ ক্রু সদস্যরাও।

২০২৩ সালের প্রথম দিকে এই যাত্রার পরিকল্পনা
২০১৮ সালে স্পেসএক্সের সিইও এলম মাস্ক বলেন, জাপানের সবথেকে বড় অনলাই পোশাকের খুচরো বিক্রেতা জোজোটাউনের প্রতিষ্ঠাতা ম্যায়েজাওয়া হবেন প্রথম জন, যিনি কোম্পানির বিগ ফ্যালকন রকেটে চাঁদের চারপাশে চড়বেন। মায়েজাওয়া তার প্রিয় মুন মিশনের অংশ হিসাবে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে এই যাত্রা করার পরিকল্পনা করেছেন শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে।
ছবি সৌ:নাসা












Click it and Unblock the Notifications