NASA’s telescope in Space: আকাশ থেকে আচমকাই গায়েব হয়ে গেল মেঘ! সৌরমণ্ডলেই ঘটে গেল এমন আশ্চর্যজনক ঘটনা
আকাশ থেকে হঠাৎ মেঘ গায়েব। কল্পকথা নয়, সত্যিই এমন ঘটনা ঘটল। আমাদের সূর্যমণ্ডলই ঘটে দূরবর্তী গ্রহ নেপচুন থেকে আচমকাই মেঘ চুরি হয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ল নাসার হাবল টেলিস্কোপের ক্যামেরায়। অবাক হওয়ারই কথা, এমনটাও হয়। এমনটাই ঘটেছে সৌরমণ্ডলের দূরবর্তী গ্রহে।
মেঘযুক্ত পরিমণ্ডল ছেড়ে হঠাৎই দূরবর্তী গ্রহ নেপচুন পরিণত হয়েছে এক মায়াবি গোলকে। জলজ্যান্ত মেঘ চুরি হয়ে গিয়েছে আকাশ থেকে। শুধুই শূন্য সাদা মেঘের ভেলা বা কালো মেঘের ঘনঘটনা কিছুই নেই নেপচুনের আকাশে! কিন্তু কী করে ঘটন এমন আজব ঘটনা?

এ জন্য বিজ্ঞানীরা দায়ী করেছেন সূর্যকেই। আকাশে মেঘের ভেলা দেখতে কার না ভালো লাগে। সেই মেঘই কি না গায়েব হয়ে গেল নেপচুনের আকাশ থেকে। গত ১৭ অগাস্ট এমন দৃশ্য প্রথম নজর করে নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। তা ক্যাপচারও করে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ।
১৯৯৪ সাল থেকে নেপচুনকে ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে নাসা। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নেপচুনের যত ছবি তোলা হয়েছে, সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে নেপচুনের আকাশে মেঘ বিদ্যমান। কিন্তু সম্প্রতি যে ছবি পাঠিয়েছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ, সেখানে কোনও মেঘ নেই।
নাসার তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকেই একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে নেপচুনের পরিমণ্ডলে। বিজ্ঞানীরা জানান, নেপচুনের আকাশে মেঘের আস্তরণ ধীরে ধীরে পাতলা হচ্ছে। কিন্তু পাতলা হতে হতে তা এখন একেবার ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। মেঘের ছিটেফোঁটা অস্তিত্বও নেই নেপচুনের আকাশে।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক থেকে শুরু করে নাসার বিজ্ঞানীরাও তাজ্জব এই ঘটনা। নেপচুনের আকাশ থেকে এত দ্রুত মেঘের রাশি সম্পূর্ণ গায়েব হয়ে গেল কী করে, তা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সব মেঘ গায়েব হয়ে গেল।
বিজ্ঞানীরা এ জন্য দায়ী করেছেন সূর্যকেই। নাসা জানিয়েছে ১১ বছর অন্তর সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের গঠনে পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু তা বলে সূর্যের অংশ প্লাজমা দ্বারা গঠিত স্ফুলিঙ্গ ঢেউয়ের আকারে ধরা দেয়। সময়ের সঙ্গে সূর্যের ধাঁচেও পরিবর্তন আসে। সেই স্ফুলিঙ্গ সৌরমণ্ডলের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে জট পাকায়। তার ফলেই চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে।
১১ বছর অন্তর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর পরিবর্তন ঘটে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুগ যুগ ধরে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তার ফলে সৌরশিখার শক্তি বাড়ে। সৌর-ঝড়ের আঁচ সৌরমণ্ডলের উপর পড়তে শুরু করে। এই সময় মহাশূন্যে বিকিরণ শক্তিও বেড়ে যায় সূর্যের।
চৌম্বকীয় ক্ষেত্র উল্টে গেলে সূর্য থেকে শক্তিশালী অতিবেগনুনি রশ্মি নির্গত হতে শুরু করে। তার প্রভাবও পড়ে সৌরজগতে। সূর্যের থেকে নেপচুনের দূরত্ব ৪৫০ কোটি কিলোমিটার হলেও সৌরশিখা ও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব নেপচুনেও পড়ে। তার ফলেই মেঘের গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।












Click it and Unblock the Notifications