নাসার লুসি এবার মহাকাশে চমক দেখাল, বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণুর ছবি হল ক্যামেরাবন্দি
নাসা একের পর এক চমক দিয়েই চলেছে। নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ও জেমস স্পেস টেলিস্কোপের বাহাদুরি তো আছেই, তারপর নাসার জুনো বা লুসির মতো মহাকাশযান মাধেমধ্যেই অবাক করে দিচ্ছে। এবার যেমন বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণুর ছবি ক্যামেরাবন্দি করে মহাকাশ বিজ্ঞানে হাতেখড়ি করল।
নাসার লুসি প্রথমবারের মতো জুপিটার ট্রোজানের ছবি ক্যামারবন্দি করেছে। ১২ বছরের দীর্ঘ মিশনের মাত্র এক বছর হয়েছে লুসির। লুসি ইতিমধ্যে জুপিটার ট্রোজান গ্রহাণুর কিছু ছবি ক্যাপচার করেছে, যা পরে দর্শন করা সম্ভব হবে। নাসার এই লুসি মিশন আরও অনেক কিছু সামনে আনবে বলে আশাবাদী জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

নাসার লুসি মিশন জুপিটার ট্রোজান গ্রহাণু পর্যবেক্ষণে একটি মহাকাব্য রচনা করেছে আগেই। ৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে তা বৃহস্পতির অন্দরে উঁকি মারতে শুরু করেছে। এই মিশন চালু হওয়ার প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। এতদিন পর গ্রহাণুগুলি একটি আভাস পেল লুসি।
এই লুসি মহাকাশযানটি ২৫ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে জুপিটার ট্রোজান গ্রহাণুর প্রথম দৃশ্য ক্যাপচার করতে পেরেছিল। তার উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা ব্যবহার করে লুসি বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণুর বর্তমান অবস্থা দেখিয়ে দিল। তা নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

লুসি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর একটি অ্যাটলাস ভি রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করেছিল৷ প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল তার যাত্রাপথে। ৬ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করার পরে এটি পৃথিবী এবং চাঁদের অত্যাশ্চর্য চিত্র ক্যাপচার করেছিল প্রথম। তারপর এবার বৃহস্পতির ট্রোজান গ্রহাণুর সন্ধান পেয়ে গেল।
১২ বছরের মিশনটি বৃহস্পতির নয়টি ট্রোজান এবং তার সাথে দুটি প্রধান গ্রহাণুর নিবিড় পর্যবেক্ষণ করবে। এটি ট্রোজান গ্রহাণু পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানো প্রথম মহাকাশযান। বৃহস্পতি গ্রহটি যে পথে ঘুরছে সেই পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। লুসির তোলা সাম্প্রতিক চিত্রগুলি নাসার প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানীদের শিখতে সাহায্য করবে।

কীভাবে ট্রোজান গ্রহাণুগুলি নির্দিষ্ট কোণ থেকে আলো প্রতিফলিত করে। গ্রহাণুগুলি দূরবর্তী তারাগুলির পটভূমিতে আলোর একক বিন্দুর চেয়ে সামান্য বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও মহাকাশযান যখন তার লক্ষ্যের কাছাকাছি আসে, তখন এক্সপোজারের সময় বেছে নিতে সাহায্য করবে এই মিশন।
ইউরিবেটসের চিত্রটি সাড়ে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে পলিমেলের চিত্রটি আড়াই ঘন্টা সময় নিয়েছে। মহাকাশযানটি লিউকাসের জন্য ২ ঘন্টা সময় নিয়েছে আর ওরাসের চিত্রটি তুলতে পুরো দশ ঘন্টা সময় নিয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে লুসি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে গ্রহাণুর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। কারণ এটি গ্রহের কক্ষপথে বৃহস্পতির আগে ভ্রমণকারী ছোট গ্রহাণুর ঝাঁকের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করবে।












Click it and Unblock the Notifications