সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় কীভাবে পরিবর্তন হয় শনির বলয়, দেখিয়ে দিল নাসা
সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় কীভাবে পরিবর্তন হয় শনির বলয়, দেখিয়ে দিল নাসা
সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় পরিবর্তিত হতে থাকে শনির বলয়। কীভাবে শনির বলয় পরিবর্তন হয় তা দেখিয়ে দিল নাসা। নাসা এমন ছবি প্রকাশ করল, যেখানে সেই পরিবর্তন স্পষ্ট। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত নাসা শনির এক গাদা ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছিল, তা থেকেই নতুন গবেষণার উঠে এসেছে এই তথ্য।

কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে শনির বলয়গুলি
১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চার বছর ধরে সূর্যের চারপাশে ভ্রমণ করার সময় শনি গ্রহের বলয়গুলি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেই ছবি তুলেছিল নাসার হাবল টেলিস্কোপ। তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখালেন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে শনির বলয়গুলি।

শনির কক্ষপথে ভ্রমণের ছবি নাসার টেলিস্কোপে
সূর্যের চারপাশে পরিভ্রমণের সময় পৃথিবীর বিষুবরেখা যেমন ২৩ ডিগ্রি হেলে থাকে, অনুরূপভাবে শনি গ্রহও তার কক্ষপথের সাপেক্ষে ২৭ ডিগ্রি ঝুঁক থাকে। শনির একটি গোলার্ধ অন্যটির আগে সূর্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে বেশি। শনি তার কক্ষপথে ভ্রমণ করার সময় এই ছবি স্পষ্ট ধরা পড়েছে নাসার হাবল টেলিস্কোপে।

চিত্রের এক গ্যালারি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানীদের
বিজ্ঞানীরা জানান, আমাদের গ্রহের পরিবর্তনশীল অক্ষ কাত হয়ে যেভাবে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন ঘটায়, তেমনই চক্রাকার পরিবর্তনের মাধ্যমে শনির রিংগুলিও রং ও উজ্জ্বলতা বদলায়। শনি গ্রহের এই জটিল বৈচিত্রগুলি গবেষকরা চিত্রের এক গ্যালারির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পর্যবেক্ষণ করেছেন।

শনির বলয়গুলি অবিশ্বাস্যভাবে পাতলা
বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় ওই গ্রহের বলয়ের রাসায়নিক গঠন, সৃষ্টি এবং বলয়গুলির সম্ভাব্য জীবনকাল সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী। তাঁরা জানতে পেরেছেন শনির বলয়গুলি অবিশ্বাস্যভাবে পাতলা। মাত্র ৩০ ফুট পুরু। বোল্ডার এবং ছোটো আকারের ধূলিময় বরফের বিট দিয়ে তৈরি রিংগুলি। ওই রিংগুলি শনিকে বৃত্তাকারে একে অপরের সঙ্গে ঘিরে রেখেছে, তৈরি করেছে বলয়ের।

একত্রিত হয়ে একটি চাঁদ তৈরিতে বাধা
শনির মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র ক্রমাগত এই বরফের অংশগুলিকে স্থানচ্যুত করে তাদের আলাদা করে রাখে এবং তাদের একত্রিত হয়ে একটি চাঁদ তৈরিতে বাধা দেয়। জলের বরফের সঙ্গে মিশ্রিত জৈব পদার্থের কারণে এখানে যে রিংগুলি দেখা যায়, সেগুলির একটি আলাদা চেহারা রয়েছে।

শনি গ্রহে একটি দিন মাত্র দশ ঘন্টা
গবেষকরা আরও জানান, অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত ঘূর্ণনের কারণে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার ব্যাস-সহ শনি তার মেরুগুলির কাছে চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছে। শনি গ্রহে একটি দিন মাত্র দশ ঘন্টা স্থায়ী হয়। এই বিশাল গ্যাস গ্রহের বায়ুমণ্ডলে অনুভূমিক অবস্থানে শক্তিশালী বাতাসের কারণে তা ঘটে।

শনি গ্রহে মেঘের সূক্ষ্ম রঙের পরিবর্তনে
শনি গ্রহে মেঘের সূক্ষ্ম রঙের পরিবর্তনগুলি উচ্চতর বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়াশা দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা সূর্যের আলোয় মিথেন গ্যাসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় তা সৃষ্টি হয়। দৃশ্যমান মেঘ এবং গ্যাসগুলি শেষপর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে আরও গভীরে মিশ্রিত হয়ে উত্তপ্ত এবং ঘন গ্যাসে পরিণত হয়।
সৌজন্য নাসা হাবল সাইট












Click it and Unblock the Notifications