চাঁদ স্পর্শ করবে নাসার মহাকাশযান ওরিয়ন, আর্টেমিস মিশনে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা
আর একটি ইতিহাস ছোঁয়ার অপেক্ষা আর্টেমিস মিশনে। এই মিশনে নাসার মহাকাশযান ওরিয়ন চাঁদ স্পর্শ করবে। সেই অপেক্ষায় প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
আর একটি ইতিহাস ছোঁয়ার অপেক্ষা আর্টেমিস মিশনে। এই মিশনে নাসার মহাকাশযান ওরিয়ন চাঁদ স্পর্শ করবে। সেই অপেক্ষায় প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কেপ ক্যানাভেরালের ফ্লোরিডার উপকূল থেকে আর্টেমিস ওয়ান উৎক্ষেপণের কয়েকদিন পরে, ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের মাটি স্পর্শ কররা জন্য প্রস্তুত।

আর্টেমিস ওয়ান মিশনটি চলবে ২৫.৫ দিন। এই মিশন সম্পূর্ণ হলে ফের মানুষের যাতায়াত শুরু হবে চাঁদের জগতে। মিশনের ষষ্ঠদিনে এসে মহাকাশযান ওরিয়ন কবে চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে, সেই প্রহর গোনা শুরু হয়েছে। এর আগে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল। চন্দ্র-গোলকের মধ্যে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর পরিবর্তে মহাকাশযানের উপর চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজ করছিল।
আড়াইমাস আগে আর্টেমিস ওয়ান চাঁদে যাত্রা করার কথা ছিল। কিন্তু নানা বিঘ্ন ঘটায় তা বিলম্বিত হয়। শেষপর্যন্ত ১৬ নভেম্বর ওরিয়ন মহাকাশযান নিয়ে আর্টেমিস ওয়ান পাড়ি দেয় চাঁদের উদ্দেশে। চাঁদে মানুষ পাঠানোর মহড়ায় অবশেষে শুরু হয় নাসার আর্টেমিস মিশন। এবার এই আর্টেমিস মিশনে ওরিয়ন চাঁদের মাটি স্পর্শ করতে চলেছে। অ্যাপোলো মিশনের অনুরূপ আর্টেমিস মিশন নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
নাসার চন্দ্রযান সমস্ত বাধা কাটিয়ে বুধবার বেলা ১২টা ১৭ মিনিটে উড়ে যায় মহাকাশে। ওরিয়ন মহাকাশযানটি অন্তর্বর্তী ক্রায়োজেনিক প্রপালশন স্টেজ দ্বারা চালিত হয়। তা বিচ্ছিন্ন হয়ে নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান চারটি সৌর অ্যারেও মোতায়েন করে। নাসার তরফে জানানো হয়েছে, এই সৌর অ্যারেগুলি চাঁদের কক্ষপথ ছেড়ে পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার জন্য ওরিয়নকে শক্তি জোগাবে।
নাসা তার মহাকাশযান ওরিয়নকে চাঁদের কক্ষে পাঠানোর জন্য কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস ওয়ান মিশন শুরুর পর প্রতিটি পদক্ষেপে সফল এখন পর্যন্ত। আর্টেমিস ওয়ান রকেটটি মহাকাশের শূন্যতায় ওরিয়ন চন্দ্রযানটিকে পৌঁছে দেয়। ওরিয়ন অন্তর্বর্তী ক্রায়োজনিক প্রপালশন পর্যায় থেকে পৃথক হওয়ার কারণে ইঞ্জিনিয়াররা সফলভাবে ট্রান্সলুনার ইনজেকশন সম্পন্ন করে। ফলে চাঁদের কক্ষপথে তা চক্রকারে ঘোরার পথ তৈরি করে ফেলে।
চাঁদের কক্ষপথে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে মহাকাশযানটি পৃথিবীর এই উপগ্রহকে স্পর্শ করবে। কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস ওয়ানের উৎক্ষেপণের সময় সেকেন্ড ১৬০ কিলোমিটার গতি ছিল। ওরিয়ন ক্যাপস্যুলটি রাখা হয়েছিল উপরে। ফ্লাইটের দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে চাঁদের দিকে বেরিয়ে আসে।
নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিন সপ্তাহ পর মেক-অর-ব্রেক শেকডাউন ফ্লাইটের সময় সবকিছু ঠিক থাকলে ক্রু ক্যাপস্যুলটি চাঁদের চারপাশে একটি প্রশস্থ কক্ষপথে চালিত হবে এবং তারপরে ডিসেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্প্ল্যাশডাউন করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে অ্যাপোলোর পৌরাণিক যমজ বোনের নামে নামাঙ্কিত আর্টেমিস।












Click it and Unblock the Notifications