পৃথিবীতে ধেয়ে আসছে মহাবিপদ! নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশে চিহ্নিত করল বিষম বস্তু
নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশে চিহ্নিত করল এক বিষম বস্তু, যা পৃথিবীর জন্য মহাবিপদ হতে পারে। নাসা আমাদের গ্রহের জন্য নতুন নাক্ষত্রিক বিপদ চিহ্নিত করেছে। নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি এবং অন্যান্য টেলিস্কোপ থেকে ডেটা ব্যবহা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জীবনের জন্য পেয়েছেন বিপদ সংকেত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এমন একটি সময়কাল আসছে, যেখানে বিস্ফোরিত নক্ষত্র থেকে তীব্র এক্স-রে ১০০ আলোর বেশি গ্রহকে প্রভাবিত করতে পারে। সম্প্রতি দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই অনুসন্ধানটি সৌরজগতের বাইরের গ্রহ এবং তা বাসযোগ্য কি না তা নিয়ে গবেষণা রিপোর্ট।

সুপারনোভার বিস্ফোরণ তরঙ্গ বিস্ফোরিত নক্ষত্রে ঘিরে থাকা ঘন গ্যাসকে আঘাত করে। যখন এটি ঘটে তখন এক্স-রেগুলির একটি বড় ডোজ তৈরি করতে পারে, যা বিস্ফোরণের কয়েক মাস পর পৃথিবীর মতো গ্রহে পৌঁছয় এবং কয়েক দশক ধরে চলতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ধরনের তীব্র এক্সপোজার জীবনের বিলোপ ঘটাতে পারে যে কোনো গ্রহে। গবেষণাটিতে ৩১টি সুপারনোভার এক্স-রে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাদের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে রিপোর্ট। বেশিরভাগই নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি, সুইফ্ট এবং নুস্টার মিশন এবং ইএসএ-এর এক্সএমএম-নিউটন থেকে এসেছে।

যদি এই ধরনের এক্স-রে গ্রহের উপর দিয়ে যায়, তবে তার বিকিরণে গ্রহের বায়ুমণ্ডলীয় রসায়নকে মারাত্মকভাবে পরিবর্তন করতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। পৃথিবীর মতো গ্রহের জন্য এই প্রক্রিয়াটি ওজোনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিশ্চিহ্ন করতে পারে, যা শেষপর্যন্ত তার নক্ষত্রের বিপজ্জনক অতিবেগুনী বিকিরণ থেকে জীবনকে রক্ষা করে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সুপারনোভার মিথস্ক্রিয়া থেকে প্রাণঘাতী এক্স-রে এক্সপোজারের কয়েক বছর পরে এবং পৃথিবীর মতো গ্রহ থেকে অতিবেগুনী বিকিরণের প্রভাবে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড তৈরি করতে পারে। যার ফলে বায়ুমণ্ডলে একটি বাদামী ধোঁয়া তৈরি হতে পারে।

চারটি সুপারনোভার মধ্যে এসএন ২০১০জে সবথেকে বেশি এক্স-রে তৈরি করেছে। এটি প্রায় ১০০ আলোকবর্ষেরও কম দূরে পৃথিবীর মতো গ্রহগুলির জন্য এই এক্স-রেগুলি প্রাণঘাতী। এই ধরনের সুপারনোভা প্রায় ২ মিলিয়ন থেকে ৮ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর কাছাকাছি এসেছিল।
গবেষকরা অনুমান করেন, এই সুপারনোভাগুলি পৃথিবীর ৬৫ থেকে ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে ছিল। যদিও পৃথিবী এবং সৌরজগর বর্তমানে সম্ভাব্য সুপারনোভা বিস্ফোরণের থেকে নিরাপদ স্থানে রয়েছে। এই উচ্চ-শক্তির ঘটনাগুলি গ্যালাকটিক বাসযোগ্য অঞ্চল হিসাবে পরিচিত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যে কম রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications