পৃথিবীর বাইরেই এমন গ্রহ রয়েছে যার আকাশে বালির মেঘ! নাসার গবেষণায় নয়া তথ্য
পৃথিবীর বাইরেই এমন গ্রহ রয়েছে যার আকাশে বালির মেঘ! নাসার গবেষণায় নয়া তথ্য
এমন সব গ্রহের হদিশ মিলেছে, যার আকাশে রয়েছে মেঘের ঘনঘটা। তবে সেই মেঘগুলি তৈরি বালি দিয়ে। মহাকাশচারী কুপার যখন ওয়ার্ম হোলের ওপারে ডা. ম্যানের গ্রহে নেমে যান, তখন তাঁর মহাকাশ যান হিমায়িত মেঘে আঘাত করে। সেটি ছিল ক্রিস্টোফার নোলানের তৈরি একটি কাল্পনিক জগৎ, তা অন্য গ্যালাক্সিতে বিদ্যমান ছিল।

ভিন্ন ধরনের মেঘ রয়েছে এমন বিশ্বের সন্ধান
নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিন্ন ধরনের মেঘ রয়েছে এমন বিশ্ব থাকতে পারে। যেমন কাল্পনিক গ্রহ ড. মান তৈরি করেছেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত স্পিটজার টেলিস্কোপ দ্বারা বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা আর্কাইভাল ডেটা অনুযায়ী একটি গবেষণা চালানো হয়। পৃথিবীর মেঘ জলীয় বাষ্প দ্বারা গঠিত। তারপর বায়ুমণ্ডল ও পৃথিবী রয়েছে।

সিলিকেটের সমন্বয়ে গঠিত মেঘের অস্তিত্ব
আবার এমন পৃথিবীও আছে, যেখানে বালি দিয়ে তৈরি মেঘ আছে। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক নোটিশ জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় সৌরজগতের বাইরের জগতের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। যেখানে সিলিকেটের সমন্বয়ে গঠিত মেঘের অস্তিত্ব রয়েছে। শিলা গঠনকারী খনিজ পদার্থের ভূত্বক রয়েছে।

বাদামী বামন গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সিলিকেট মেঘ
এই গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞানী তথা স্ট্যানিমির মেচেভ লন্ডনের ইউনিভার্সিটি এক্সোপ্ল্যানেট স্টাডিজের অধ্যাপক ও গবেষণার সহ লেখক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাদামী বামন গ্রহের বায়ুমণ্ডলে সিলিকেট মেঘ তৈরি হতে পারে। সেইমতো পৃথিবীর কাছাকাছি এমন একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডল খোঁজার চেষ্টা চলছে।

সিলিকেট মেঘগুলি শুধুমাত্র গরম জগতেই দেখা যায়
নাসার অসবরপ্রাপ্ত স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপের ব্রাউন ডোয়ার্ফ মহাকাশীয় বস্তুর পর্যবেক্ষণ থেকে ফলাফলগুলি নেওয়া হয়েছে। গ্রহ এবং নক্ষত্রের মধ্যে বায়ুমণ্ডল কীভাবে কাজ করে তা বোঝার চেষ্টা চলছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই মেঘের গঠন প্রক্রিয়ার মূল উপাদানটি বাষ্পে পরিণত হওয়া পর্যন্ত গরম থাকে। উপাদানটি জল, অ্যমোনিয়া, লবণ বা সালফার-সহ বিভিন্ন জিনিস হতে পারে। তারপর এটি ঠান্ডা হয় এবং ঘণীভূত হয়। সেই কারণে সিলিকেট মেঘগুলি শুধুমাত্র গরম জগতেই দেখা যায়। বাদামী বামন গ্রহ এবং সৌরজগতের বাইরের কিছু গ্রহের এমন চরিত্র দেখা যায়।

গ্রহগুলি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেঞ্জে
নাসার দাবি, নক্ষত্রের মতো গঠন হয় ওই বামন গ্রহগুলির। যে প্রক্রিয়ায় তারাগুলি ঊজ্জ্বল হয়, ওই বাদামী বামন গ্রহগুলিও সেই প্রক্রিয়ায় উজ্জ্বল ও গরম থাকে। তা নক্ষত্রের থেকে আলাদা করাও যায় না খালি চোখে। স্পিটজার টেলিস্কোপের প্রথম ছয় বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। তারপর জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দ্বারা বিজ্ঞানের ক্রিয়াকলাপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গবেষণার পরিমার্জন সম্ভব হয়েছিল। পর্যবেক্ষণের পর গ্রহগুলি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেঞ্জে পড়েছিল।

বামন গ্রহগুলি খুঁজে পেতে স্পিটজার ডেটা খনন
এই বাদামী বামন গ্রহগুলি খুঁজে পেতে স্পিটজার ডেটা খনন করতে হয়েছিল। সেখানে সিলিকেট মেঘের কিছু ইঙ্গিত ছিল। বিজ্ঞনীরা বলেন, আমরা সত্যিই জানতাম না যে, আমরা কী খুঁজে পাবো। ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পোস্ট ডক্টরাল গবেষক এবং নতুন গবেষণার প্রধান লেখক জেনারো সুয়ারেজ বলেছেন, একবার বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের সঠিক ডেটার দরকার ছিল। তা পেয়ে আমরা অবাক হয়েছিলাম।












Click it and Unblock the Notifications