মহাবিশ্বে নতুন নক্ষত্র সৃষ্টি! গ্যাস-ধূলিকুণ্ডলী ঘেরা সেই ছবি প্রকাশ করে চমক নাসার
বিশাল এ মহাবিশ্বের সীমা-পরিসীমার কোনও হদিশ দিতে পারেননি মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তাই মহাবিশ্বের কোথায় কি লুকিয়ে রয়েছে তাও অজানা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কত না নতুন নতুন নক্ষত্রের সৃষ্টি হচ্ছে মহাজগতে। আর নাসার জেমস ওয়েব সেই সৃষ্টিকেই তুলে ধরছে বিশ্ববাসীর সামনে।
জেমসওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নতুন নতুন সব ছবি তোলার এক বছর পূর্তি উদযাপনে নাসা একটি নতুন সৃষ্টিকে তুলে ধরল। মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পাঠানো একটি ছবি প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। সেই ছবিটিই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।

নাসার প্রকাশিত ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, মহাকাশে যেন লাল রঙের গ্যাস ভেসে বেড়াচ্ছে। সঙ্গে ধুলোর উজ্জ্বল কুণ্ডলীও রয়েছে। রো অফিউটি নামের ক্লাউড কমপ্লেক্স থেকে ছবিগুলি তোলা হয়েছে। রো অফিউচি ক্লাউড কমপ্লেক্স হল পৃথিবীর সবথেকে কাছের স্টেলার নার্সারি।
এই ক্লাউড কমপ্লেক্সই তৈরি হয় নতুন নতুন নক্ষত্র। এখন পর্যন্ত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ৫০টি নবগঠিত নক্ষত্রের ছবি তুলেছে। এই নক্ষত্রগুলির ভর আমাদের সূর্যের মতো কিংবা তার থেকে একটু কম। ছবির একেবারে নীচের দিকে নবগঠিত এক নক্ষত্র দেখা গিয়েছে।
এই নতুন নক্ষত্রটির সৃষ্টি হচ্ছে গ্যাস থেকে। সেই গ্যাস ও ধূলিমেঘে অনেক বুদবুদ তৈরি হয়েছে। আসলে ইন্টারস্টেলার স্পেস মূলত গ্যাস ও ধূলিকণাতেই ভরপুর থাকে। এগুলো নতুন নক্ষত্রে ও গ্রহের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ গ্যাস ও ধূলিকণা দিয়েই তৈরি হয়েছে এই গ্রহ।
নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বিল নেলসন বলেন, মাত্র এক বছরের মধ্যে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে মহাজগৎকে মানুষের চোখের সামনে তুলে ধরছে। জেমস ওয়েবের পাঠানো সেইসব ছবি নতুন করে তুলে ধরা হল প্রথম ছবি পাঠানোর এক বছর পর।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সৌজন্য প্রথমবারের মতো পৃথিবী থেকে অনেক দূরের নক্ষত্রে সৃষ্টি হওয়া কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন মানুষ। বিল নেলসন আরও বলেন, প্রতিটি নতুন ছবি মানে এক একটি নতুন আবিষ্কার। এই সৃষ্টির ছবি থেকে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাঁদের বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপেকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। তারপর ২০২২ সালের ১১ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে তোলা প্রথম ছবিটি প্রকাশ করেঠছিলেন। নাসার পক্ষ থেকে সেই ছবিটি ১৩০০ কোটি বছররে মধ্যে মহাজগতের সবথেকে স্পষ্ট ছবি বলে দাবি করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications