চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর আগেই নয়া প্রজন্মের স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের উৎক্ষেপণ নাসার, এর কার্যকারিতা কী
চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর আগেই নয়া প্রজন্মের স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের উৎক্ষেপণ নাসার, এর কার্যকারিতা কী
ফের চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নাসা। তার আগেই মহাকাশে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএসের সঙ্গে চাঁদে নভোশ্চর পাঠানোর কর্মসূচি অনেকটাই জড়িয়ে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। এই স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস বিশ্বের যে কোনও মহাকাশ স্টেশনের থেকে দূরে যেতে পারবে। চাঁদের চারপাশে ঘুরবে এবং ৪২ দিন পর পৃথিবীর মাটিকে ফিরে আসবে। ২৯ অগাস্ট নাসা এটি উৎক্ষেপণ করবে বলে জানা গিয়েছে।

নাসার তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে এই স্পেস লঞ্চ সিস্টেমটির ওপর কাজ করা হয়েছে। এটিকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্পেস লঞ্চ সিস্টেমটিতে চারটি বড় রকেট ইঞ্জিন ও দুটি সলিড স্টেট বুস্টার রয়েছে। এই সিস্টেমটি প্রায় ২৭ মেট্রিকটন ওজন বহন করতে সক্ষম। নাসা জানিয়ছে, স্পেশ লঞ্চ সিস্টেমটি আরও জটিল আকারে ভবিষ্যতে আসতে চলেছে। নাসার তথ্য অনুসারে এসএলএস বা স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের প্রতি সেকেন্ডে ছয় টন জ্বালানির প্রয়োজন হয়।
জানা গিয়েছে, চারটি রকেট ইঞ্জিনের শক্তি ১৪টি বড় বাণিজ্যিক বিমানের থেকেও বেশি। দুটি সলিড স্টেট বুস্টার প্রায় ৭৫ শতাংশ শক্তি উৎপন্ন করবে। যা রকেট এবং কার্গোকে মাটি থেকে আকাশে উড়তে সাহায্য করবে। নাসা জানিয়েছে, লঞ্চের দিন রকেটে ৫৩৭,০০০ গ্যালন তরল হাইড্রোজেন ও ১৯৬,০০০ গ্যালন অক্সিজেন মজুত করা হবে। এই এসএলএস-এর মধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুল রয়েছে। উৎক্ষেপণের ৮.৫ মিনিটের মধ্যে এসএলএস ও ওরিয়ন ক্যাপসুল ঘণ্টায় ১৭,০০০ মাইল বেগে ভ্রমণ করতে পারবে।
পৃথিবাীর কক্ষপথের বাইরের মিশনের জন্য ওরিয়ন ক্যাপসুলকে তৈরি করা হয়েছে। মূলত বিজ্ঞানীরা চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানকে সামনে রেখে এই ওরিয়ন ক্যাপসুলের ডিজাইন করেছে। এই ওরিয়ন ক্যাপসুলটি মহাকাশের চরম তাপমাত্রা প্রতিহত করতে সক্ষম। আবার বায়ুমণ্ডলের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এই ওরিয়ন ক্যাপসুলের একট ভুল মহাকাশচারীদের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে ২০১৪ সালে প্রথমবারের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে একটি রকেটে ওরিয়ন ক্যাপসুলকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। তারপর একাধিকবার পরীক্ষা করা হয়েছে। এসএলএস সিস্টেম লঞ্চের দেরির প্রধান কারণ এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।
ওরিয়ন ক্যাপসুলে কোনও মানুষ থাকতে পারবে না। এই ওরিয়ন ক্যাপসুলের মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার জন্য তিন ধরনের পোশাক রাখা থাকবে। একটির নাম কমান্ডার মুনিকিন ক্যাম্পোস। এই পোশাকটি মূলত মহাকাশচারীরা তাঁদের মিশনে পরবেন। এছাড়াও থাকবে হেলগা ও জোহার। যেখানে চাঁদে মহাকাশচারীরা কতটা বিকিরণের সংস্পর্শে আসতে পারে তা নির্ধারণ করতে বিকিরণ ডিরেক্টর বহন করবে হেলগা। আর জোহার মহাকাশচারীদের বিকিরণ থেকে সুরক্ষিত রাখবে।












Click it and Unblock the Notifications