মঙ্গলের বুকে ঢেউয়ের ছাপে জলের প্রমাণ পেল নাসা, নদী প্রবাহও রয়েছে সুস্পষ্ট
১০০ কোটি বছর আগে অগভীর হ্রদে ছিল তরল জল। হ্রদের তলদেশ এবং চারধার দেখলেই তা বোঝা যায়।
মঙ্গলে জলের উপস্থিতির একটি আশ্চর্য প্রমাণ খুঁজে পেল নাসা। নাসার কিউরোসিটি রোভার মঙ্গলে খুঁজে পেয়েছে ঢেউয়ের ছাপ। ফলে আর কোনও ধারণা নয়, মঙ্গলের বুকে ঢেউয়ের ছাপের ছবিই এখন অকাট্য প্রমাণ যে, এই লাল গ্রহে জল ছিল। তবে এখন কোনও জল তরল আকারে রয়ছে কি না, তার প্রমাণ এখনও মেলেনি।

হ্রদের চারধারে ঢেউয়ের চিহ্ন
নাসা মঙ্গলগ্রহে তার কিউরিওসিটি রোভারকে ছুটিয়ে বেশ কিছু ছবি পেয়েছে। সেই ছবি সম্প্রতি যেরা করেছে নাসা। সেইসঙ্গে এক বিবৃতিতে নাসা দাবি করেছে, ছবিগুলি প্রাচীন হ্রদের। সেখানে জলের লহরী খেলে গিয়েছে। শুকিয়ে যাওয়া সেই হ্রদের চারধারে ঢেউয়ের চিহ্ন রয়েছে।
|
জল তরঙ্গের ছবি মঙ্গলে
এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির কিউরিওসিটি প্রজেক্টের বিজ্ঞানী অশ্বিন ভাসাভাদা বলেন, "পুরো মিশনে আমরা যে জল ও তরঙ্গ দেখেছি তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছ সম্প্রতি। এর আগে আমরা হাজার হাজার ফুট লেকের মধ্য দিয়ে ছুটিয়েছি রোভারকে। কিন্তু কোথাও আমরা এমন প্রমাণ দেখিনি। এখন আমরা এমন একটি জায়গায় এই প্রমাণ পেয়েছি, যা শুষ্ক।"

শিলাখণ্ডে ঢেউয়ের ছাপ স্পষ্ট
নাসার কিউরিওসিটি রোভার এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গল গ্রহের উপর কাজ করছে। এখন তা গ্যাল ক্রেটারে প্রবেশ করেছে। ১০০ কোটি বছর আগে অগভীর হ্রদে ছিল তরল জল। হ্রদের তলদেশ এবং চারধার দেখলেই তা বোঝা যায়। তরঙ্গগুলি হ্রদের তলদেশে পলিকে আলোড়িত করেছিলে। তার ফলে শিলাখণ্ডে ঢেউয়ের ছাপ স্পষ্ট হয়ে রয়েছে এখনও।

মঙ্গলে জলের আশ্চর্য প্রমাণ
সম্র্েতি নাসা এক বিবৃতিতে শুধু একথা জানিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, যে ছবিগুলিতে ঢেউয়ের চিহ্ন স্পষ্ট সেগুলি শেয়ার করে মঙ্গলে জলের আশ্চর্য প্রমাণ দিয়েছেন। রোভারের এখন প্রধান লক্ষ্য, ওই অঞ্চলে জীবন ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা। কোনও জীবাণুর বাস ওই অঞ্চলে ছিল না, তা জানতে পারলে কতদিন আগে তরল জলের উপস্থিতি ছিল, তা বের করা যাবে।
|
মঙ্গলে একসময় তরল জল ছিল
নাসার ওই অংশ রয়েছে মাউন্ট শার্প। নাসার মতে, মাউন্ট শার্প হল একটি তিন মাইল লম্বা বা ৫ কিলোমিটার লম্বা একটি পর্বত, যা একসময় হ্রদ এবং স্রোত দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল। সেখানে অণুজীব বা কোনো জীবাণু বা জীবন থাকতেই পারে। এই তরঙ্গের ঢেউ, প্রবাহ এবং ছন্দময় স্তরগুলি জানায় যে, মঙ্গলে একসময় তরল জল ছিল। তা ক্রমেই শুকানো মরুতে পরিণত হয়েছে। ভাসাভাদা বলেন, "মঙ্গল গ্রহের প্রাচীন জলবায়ুর একটি বিস্ময়কর জটিলতা ছিল, যা অনেকটা পৃথিবীর মতো৷"

একটি ছোট নদীর মতো প্রবাহ
বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের গেডিজ ভ্যালিস নামে একটি উপত্যকায় প্রাচীন জলের ইতিহাসের আরেকটি সূত্রও খুঁজে পেয়েছেন। উপত্যকার মধ্য দিয়ে একটি চ্যানেল প্রবাহিত হয়েছে, যা মাউন্ট শার্প থেকে শুরু হওয়া একটি ছোট নদীর মতো। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এখানেও ছিল কোনো প্রবাহ।
সৌজন্য নাসার কিউরিওসিটি রোভার টুইটার












Click it and Unblock the Notifications