আকাশে কাল রঙের খেলা...! মোহময়ী উল্কা ঝরনার মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকুন
আকাশে কাল রঙের খেলা...! মোহময়ী উল্কা ঝরনার মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকুন
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আকাশে চোখ রাখুন, দেখতে পাবেন এক মহাজাগতিক দৃশ্য। গোটা আকাশজুড়ে উল্কাবৃষ্টি হবে। চকচকে জেমিনিড উল্কাকে বেঙ্গালুরুর মানুষেরা দেখতে পাবেন খোলা আকাশে। মহাকাশপ্রেমী মানুষেরা আগামী সন্ধ্যায় আপনার চোখ সার্থক করে তুলুন অনির্বচনীয় এই মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করে।

এক আকাশে বহু রঙের উল্কা দেখতে পাবেন আপনারা। এই উল্কা ঝরনাকে জেমিনিড নাম দিয়েছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ১৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে প্রাক ভোর পর্যন্ত এই দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করা যাবে বেঙ্গালুরুর আকাশে। পরিষ্কার আকাশে জেমিনিড ঝরনা দেখা যাবে। সেই ঝরনা এবার একেবারে শীর্ষে পৌঁছবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানারী।
এই স্বর্গীয় ঘটনাটিকে পৃথিবীতে দৃশ্যমান উজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টির মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা একটি বার্ষিক ঘটনা। এই বছরের ঝরনা রাত ২টো থেকে ৩টের মঘ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দারা এই দৃশ্য খালি চোখে দেখতে পারে। এই উল্কা ধরনার সময় ১০০টিরও বেশি উল্কা পৃথিবীর কাছে আসবে। তবে সমস্ত উল্কাগুলিকে দেখতে পাবেন না বেঙ্গালুরুর বাসিন্দারা।
এই মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে বিজ্ঞানারী বর্ণনা দেন, আকাশে এ ধরনের মোহময়ী ঘটনা দেখা যায়, যখন পৃথিবী ধূলিকণা পথের মধ্য দিয়ে যায়। সেই ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে জেমিনিড উল্কা ঝরনা তৈরি করে। ধূলিকণাগুলি ফেথন নাম ক গ্রহাণু বা বিলুপ্ত ধূমকেতু বা উল্কা থেকে বিকিরণ হয়। মিথুন নক্ষত্রের একটি বিন্দু থেকে এই বিকিরণ নির্গত হয় বলে একে জেমিনিড বলা হয়।
চাঁদের আলো বা অন্য কোনও ধরনের আলো ঝরনার দৃশ্যমানতাকে প্রভাবিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা এই ঘটনাটি উপভোগ করতে আগ্রহী তাদের এমন জায়গায় যাওয়া উচিত যেখানে আকাশ অন্ধকার থাকে এবং পরিষ্কার থাকে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে জেমিনিড প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫০ উল্টা উৎপন্ন করতে পারে।
একইসঙ্গে বিজ্ঞানীরা জানান, এ বছর ক্ষয়প্রাপ্ত গিব্বাস চাঁদ বেশিরভাগ ঝরনা দেখা কঠিন করে তুলবে, যার ফলে মাত্র আকাশের অবস্থার উপর নির্ভর করে উত্তর গোলার্ধের শিখরে প্রতি ঘণ্টায় ৪০টি উল্কা দৃশ্যমান হবে। কিন্তু জেমিনিড এত উজ্জ্বল যে এটি পরিষ্কার আকাশে ভালো শো হবে। জওহরলাল নেহরু প্ল্যানেটোরিয়াম ১৩ ডিসেম্বর জেমিনিড দেখার জন্য প্ল্যানেটোরিয়ামে বিশেষ ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে। বিজ্ঞানীরা জানান, জেমিনিডস ঘণ্টায় ৭৮ হাজার মাইল গতিতে ভ্রমণ করে, যা চিতার থেকে ১০০০ গুণ বেশি দ্রুত।












Click it and Unblock the Notifications