পৃথিবীর জল কোথা থেকে এসেছে, জানেন! মহাকাশ মিশনের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
পৃথিবীর জল কোথা থেকে এসেছে, জানেন! মহাকাশ মিশনের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
পৃথিবীতে ছিল জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড। সেখানে জল এল কোথা থেকে? এই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি এখনও। এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি জাপানি মহাকাশ মিশনের গবেষণায় উঠে এসেছে পৃথিবীতে জলের উৎস নিয়ে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। বিজ্ঞানীরা মহাকাশ মিশনে সংগৃহীত বিরল নমুনা বিশ্লেষণ করে এক বিশেষ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

পৃথিবীতে আনা উপাদানগুলি নিয়ে গবেষণা
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সৌরজগতের বাইরের কোনও গ্রহাণু থেকে জল পৃথিবীতে আসতে পারে। জাপানের বিজ্ঞানীরা প্রায় ছ-বছর ধরে জীবনের উৎপত্তি ও মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে অনুসন্ধান করে যাচ্ছে। ২০২০ সালে গ্রহাণু থেকে ৫.৪ গ্রাম শিলা এবং ধুলো আনা হয়েছিল হায়াবুসা ২ মহাকাশ যানের মাধ্যমে। পৃথিবীতে আনা সেইসব উপাদানগুলি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা।

পৃথিবীতে কী করে সমুদ্রের আবির্ভাব হল
গত জুন মাসে এক দল গবেষক বলেছিলেন যে, তারা জৈব উপাদান খুঁজে পেয়েছেন। ওই গবেষণায় দেখা যায়, পৃথিবীতে জীবন গঠনের কিছু ব্লক, অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া গিয়েছে, যা মহাকাশ থেকে এসেছে। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীতে কী করে কোটি কোটি বছর আগে সমুদ্রের আবির্ভাব হল, সেই রহস্যের সূত্র দিতে পারে।

পৃথিবীতে জলের উৎস নিয়ে গবেষণা
সোমবার প্রকাশিত জাপান ও অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বলা হয়েছে, অস্থির এবং জৈব সমৃদ্ধ সি-টাইপ গ্রহাণুগুলি পৃথিবীর জলের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে। পৃথিবীতে উদ্বায়ী জৈব বস্ত এবং জল সরবরাহ করা একটি উল্লেখযোগ্য বিতর্কের বিষয় হিসেবে রয়ে গিয়েছে এখনও। তা নিয়ে আজও গবেষণা চলছে।

হায়াবুসা ২ দু-বছর আগে পৃথিবীর কক্ষপথে ফেরে
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গবেষণায় চিহ্নিত কণাগুলি থেকে পাওয়া জৈব পদার্থগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে তা একমাত্র উৎস নয়। ২০১৪ সালে মহাকাশে যাত্রা করা হায়াবুসা ২ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে রিউগু মিশন থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এনেছিল। তা দু-বছর আগে পৃথিবীর কক্ষপথে ফিরে আসে। গবেষকরা এই মিশনের ফলাফলগুলিকে স্বাগতও জানান এরপর।

প্রাথমিক সৌরজগতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে
গবেষকরা আরও বলেন, রিউগু কণা নিঃসন্দেহে গবেষণায় উপলব্ধ সবথেকে দূষিত সৌরজগতের উপকরণগুলি মধ্যেই রয়েছে। এই মূল্যবান নমুনা অধ্যয়ন করে আমরা বুঝে ওঠার চেষ্টা করছি প্রাথমিক সৌরজগতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে। এই গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবীতে জল ও জীবনের উৎস সম্বন্ধে জানার পরিধি আরও বেড়ে গিয়েছে। অচিরেই একটা স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারপরই এই গবেষণা বিষয়ক চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে আনা হবে।












Click it and Unblock the Notifications