মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সফল প্রবেশ ‘উপগ্রহে’র, ইসরোর পরিচালনায় সাফল্য
ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা প্রেরিত এই মহাকাশযানটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক জলবায়ু মডেল নিয়ে কাজ করছিল। এখন তা কর্মক্ষম হয়ে পড়ায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিয়ে এসে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়ছে।
ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরো সম্প্রতি একটি উপগ্রহ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছে। ইসরো লো আর্থ অরবিট থেকে ওই স্যাটেলাইটটিকে বিধ্বস্ত করবে। মেঘা ট্রপিক্স ওয়ান বা এমটি-১ মঙ্গলবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সফলভাবে পুনঃপ্রবেশ করেছে। এবার তা প্রশান্ত মহাসাগর অভিমুখে পাঠানো হবে ধ্বংস করার জন্য।

ভারতের মহাকাশ সংস্থা ইসরো ও ফরাসি মহাকাশ সংস্থা সিএনইএস যৌথভাবে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিচালনার জন্য। যৌথভাবে এই মহাকাশযান পাঠানো হয়েছিল ২০১১ সালের অক্টোবরে। তিন বছরের মিশন লাইফে মহাকাশযানটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মহাকাশে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছে। বহু মূল্যবান ডেটা সরবরাহ করেছে।
কিন্তু বর্তমান তা আর কর্মক্ষম নয়। তাই বি্জ্ঞানীরা মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ প্রশমনের জন্য এবং লোয়ার আর্থ অরবিট বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথকে আরও বাধামুক্ত করার জন্য গবেষণা ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্চেন। সেজন্যই মঘা ট্রপিক্স ওয়ানকে লোয়ার কক্ষপথ থেকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা প্রেরিত এই মহাকাশযানটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক জলবায়ু মডেল নিয়ে কাজ করছিল। এখন তা কর্মক্ষম হয়ে পড়ায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিয়ে এসে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়ছে। ইউনাইটেড নেশনস ইন্টার-এজেন্সি স্পেস ডেব্রিস কোঅর্ডিনেশন কমিটি বা ইউএনআইএডিসি-র নির্ধারিত মহাকাশ ধ্বংসাবশেষ প্রশমন নির্দেশিকা অনুসরণ করে স্যাটেলাইটটি বিধ্বস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেইমতো মঙ্গলবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে মেঘা ট্রপিক্স-১।
The controlled re-entry experiment for the decommissioned Megha-Tropiques-1 (MT-1) was carried out successfully on March 7, 2023.
— ISRO (@isro) March 7, 2023
The satellite has re-entered the Earth’s atmosphere and would have disintegrated over the Pacific Ocean. pic.twitter.com/UIAcMjXfAH
ইসরো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি জনবসতিহীন এলাকাকে সে জন্য বেছে নিয়েছে। এমটি-ওয়ানের ধ্ংসাবশেস নিক্ষেপ করার জন্য ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাটি সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করছে। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বিলুপ্ত মহাকাশযানের কক্ষপথকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার জন্য ১৮টি কক্ষপথ কৌশল সম্পাদন করেছে। ডি-অরবিটিংয়ের মধ্যে, উপগ্রহকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা।
৭ মার্চ মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গ্রাউন্ড ইমপ্যাক্টের পরে চূড়ান্ত দুটি ডি-বুস্ট বার্ন সম্পন্ন হয়। তারপরই তা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ইসরো আরও জানিয়েছে যে, স্যাটেলাইটের কোনো বড় টুকরো পৃথিবীর বুকে পড়ার সম্ভাবনা নেই। একেবারেই ছোটো ছোটো টুকরো বা পোড়া ছাই হয়ে তা প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বিলীন হয়ে যাবে।
এখানে উল্লেখ্য, পৃথিবীকে ঘিরে থাকা মহাকাশের আবর্জনার বিষয়ে ভারত সোচ্চার হয়েছে। কীভাবে এটি পর্যবেক্ষণকে কঠিন করে তুলেছে এবং শূন্য মাধ্যাকর্ষণে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়েছে, তার ব্যাখ্যাও করেছে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাটি। সেই মিশনে নেমেই আবারও সাফল্য পেল ইসরো। ইভেন্টের পুরো ক্রমটি ইসট্র্যাকের মিশন অপারেশন কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত হয়।












Click it and Unblock the Notifications