Chandrayaan 3: চাঁদের মাটিতে কীভাবে অবতরণ করবে চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার, জানুন সেই অভিনব উপায়
মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গিয়েছে। ৪১ দিনের যাত্রার পর এবার চাঁদের মাটিতে অবতরণের পালা চন্দ্রযান ৩ মিশনের ল্যান্ডার বিক্রমের। কিন্তু কীভাবে, কোন উপায় অবলম্বন করে চাঁদের মাটিতে নামবে বিক্রম, তার ব্যাখ্যা দিলেন বিশেষজ্ঞরা। পৃথিবী থেকে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণে পাঠানো যান তো আর সহজে ল্যান্ড করতে পারবে না বায়ুমণ্ডলহীন চাঁদে!
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মহাকাশযানটিতে চাঁদের মাধ্যাকর্যণ ও কক্ষপথে একটি কৌশলী প্রক্রিয়ার মধ্যে এগিয়ে যেতে হবে। তারপর সফট ল্যান্ডিং করতে হবে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এই ১৭ মিনিটের সময়কেই বেশি ভয় পাচ্ছে। চন্দ্রযানের ৪১ দিনের যাত্রার সবথেকে কঠিন কৌশল এটিই।

চাঁদে অবতরণের এই শেষল্যাপ পুরোটাই এমন একটা প্রক্রিয়া যে এখানে বিজ্ঞানীদেরও আর কিছু করার নেই। যেমনভাবে সেট করা হয়েছে, সেইভাবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এগিয়ে যাবে। এই পথে বেশ কয়েকটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। চাঁদের মাটি থেকে চন্দ্রাকাশে বহু দূরে অবস্থান করছে বিক্রম।
আর বিক্রম ছুটছে ঘণ্টায় ৬০০০ কিলোমিটার গতিতে। সেকেন্ড ১.৬৮ কিলোমিটার এর গতিবেগ। এই অবস্থায় ১৩৪x২৫ কিলোমিটার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করছে। অবতরণের প্রক্রিয়া শুরুর ৬৯০ সেকেন্ডের মধ্যে চন্দ্রযান ৩-এর সমস্ত ইঞ্জিনগুলি একত্রে জ্বলে উঠবে। তারপরই গতিবেগ এক চতুর্থাংশ কমবে।
তারপর চাঁদের অভিকর্ষ বিক্রম ল্যান্ডারকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০ মিটার বেগে নীচের দিকে টানছে। প্রথম পদক্ষেপে গতি কমানোর সময় চন্দ্রযান ৩ কিছুটা ঘুরবে, যেভাবে আমরা একটি সাইকেল চালাই। এই সময়েই চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার অবতরণ স্থানের দিকে আনুভূমিক অবস্থান থেকে উলম্ব অবস্থানে চলে আসবে।
এই পদ্ধতি শেষে কাঙ্খিত অবতরণ এলাকা থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে থাকবে এবং চাঁদের মাটি থেকে প্রায ৭.৫ কিলোমিটার উপরে থাকবে। যে ল্যান্ডিং স্পটে নামতে চাইছে তা নিরাপদ কি না, দুবার চেক করা হবে। তারপর সেইখানে ল্যান্ড করবে বিক্রম।
চন্দ্র্যান ২ অবতরণের সময় আমরা এইরকমই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম। তবে চন্দ্রযান ৩ আরও বেশি স্মার্ট। এই পর্যায়ে চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারের সাহয্যও পাচ্ছে। চার বছর ধরে অরবিটার যে ম্যাপিং করেছে চন্দ্রপৃষ্ঠের, তা দেখে ল্যান্ডিং স্থান নির্ণয়ও অনেক সহজ হয়েছে। তারপর বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় ইসরোর কাছে কম্যান্ড পাঠানোর আরও একটা দুয়ার খুলে গিয়েছে।
চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার যখন ল্যান্ডিং স্পট থেকে ৮০০-১৩০০ মিটার উচ্চতায় থাকবে, তখনই ক্যামেরা ছবি তোলা শুরু করবে, সেন্সর ডেটা সংগ্রহ করবে। অনবোর্ড কম্পিউটার সবকিছু প্রক্রিয়াকরণ শুরু করবে। তারপর ১২ সেকেন্ডের মধ্যে তা ১৫০ মিটারে নেমে আসবে। একটি বিশেষ ক্যামেরা মাটিতে কোনও সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করবে।
যদি কোনও সমস্যা থাকে তবে আরও ১৫০ মিটার উপরে উঠে যাবে। আবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে বিক্রম ল্যান্ডার নেমে আসবে চাঁদের মাটিতে। তারপর ল্যান্ডিং সেন্সরগুলি সিস্টেমকে জাগ্রত করতে অনবোর্ড কম্পিউটারে সংকেত দেবে। ল্যান্ডারটি সম্পূর্ণরূপে শক্তি পাবে এবং প্রজ্ঞান রোভারটি বেরিয়ে আসবে বিক্রম ল্যান্ডার থেকে।












Click it and Unblock the Notifications