মঙ্গল ও পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠনের কী পার্থক্য, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
পৃথিবীর কাছের গ্রহ মঙ্গল। চাঁদের পর সবথেকে যে গ্রহ নয়ে মানুষের জানার আগ্রহ বেশি, সেই মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ গঠন কেমন ছিল, তা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা সামনে এসেছে। সেই গবেষণায় দেখা গিয়েছে কী পার্থক্য পৃথিবীর সঙ্গে। কোথায় মিল, কোথায় অমিল, তার তুলনাও টেনেছেন বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহ উভয়ের অভ্যন্তরেই তরল আয়রনের সমন্বয়ে গঠিত কোর রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলে কেন্দ্রের প্রায় ২০ শতাংশ আয়রন অর্থাৎ লোহার থেকে হালকা উপাদান দিয়ে গঠিত। তার বেশিরভাগ সালফার রয়েছে। তবে অক্সিজেন, কার্বন এবং হাইড্রোজেনও রয়েছে।

আমাদের সৌরজগতে পৃথিবীর প্রতিবেশী মঙ্গল। দুটিই পাথুরে গ্রহ। নাসার রোবোটিক ইনসাইট ল্যান্ডার দ্বারা প্রাপ্ত সিসমিক ডেটার উপর ভিত্তি করে একটি নতুন সমীক্ষা রিপোর্টে মঙ্গলগ্রহের অভ্যন্তরে কী রয়েছে তা জানার চেষ্টা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর সঙ্গে তুলনা করেই এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে।
সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহ হল পৃথিবী, মঙ্গল হল চতুর্থ গ্রহ। তার মধ্যে কী বৈষম্য, তার বিশদ বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেছে এই রিপোর্ট। পৃথিবী ব্যতীত অন্য কোনও গ্রহের কেন্দ্রস্থলে সিসমিক তরঙ্গের শনাক্তকরণ হচ্ছে মঙ্গলে। গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ স্তরটি অপেক্ষাকৃত ছোটো এবং ঘন।
পৃথিবী ও মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কোর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, পৃথিবীর মূল অংশে আয়রন, সালফার, হাইড্রোজেন, অক্সিজেনের মতো উপাদানগুলির পরিমাণ শতকরা প্রায় দ্বিগুণ। যার অর্থ মঙ্গলের কেন্দ্রটি আমাদের গ্রহের কেন্দ্রের তুলনায় যথেষ্ট কম ঘন।

পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহের গভীরতম অঞ্চলগুলি যে উপাদানগুলি নিয়ে তৈরি হয়েছিল তার অবস্থা এবং প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হয়। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক জেসিকা আরভিন ছিলেন এই গবেষণার প্রধান লেখক। লিড ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রসিডিংস জার্নালে এই সপ্তাহে প্রকাশিত হয় সেই প্রতিবেদন।
গবেষণাটি মঙ্গলগ্রহের কোরের আকারকেও পরিমার্জিত করেছে।এটির ব্যাস প্রায় ২২১২ থেকে ২২৪৯ মাইল বা ৩৫৬০ থেকে ৩৬২০ কিলোমিটার ছিল। পূর্বে অনুমান করা আকার থেকে প্রায় ১২ থেকে ৩১ মাইল বা ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটার কম। মঙ্গলের কোর পৃথিবীর কোরের তুলনায় কিছুটা ছোটো।

একটি পাথুরে গ্রহ বা উপগ্রহ বা চাঁদ জীবন ধারণ করতে পারে কি না তা নিয়ন্ত্রণে এই অভ্যন্তরীণ প্রকৃতি একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ যেমন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে অভ্যন্তরীণ প্রকৃতি, যা ক্ষতিকারক সৌর এবং মহাজাগতিক কণা বিকিরণ থেকে গ্রহকে রক্ষা করে।
পৃথিবীর মতো অন্যান্য গ্রহ এবং চাঁদে সিলিকেট বা পাথুরের স্তর ছাড়াও লোহাজাতীয় ধাতব কোর রয়েছে। একটি কোর বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলির মধ্যে একটি হল একটি গ্রহের ডায়নামো তৈরি করতে পারে। পৃথিবীর কো যার করে, মঙ্গলের কোর তা করে না












Click it and Unblock the Notifications