মিশন ডার্টের সাফল্যে বুক বাঁধছেন বিজ্ঞানীরা, গ্রহাণুকে প্রতিরোধে তৈরি নাসা
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নাসার পাঠানো একটি মহাকাশযান ডিমোরফস নামে একটি গ্রহাণুকে আঘাত করেছিল। তার ফলে গ্রহাণুর গতিপথ চিরতরে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল।
গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীতে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসরও। পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর প্রকৃতির। আবারও যাতে প্রাণীকূলের উপর গ্রহাণুর আঘাত না নেমে আসে, তার জন্য গবেষণা চালাচ্ছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ডার্ট মিশনে নাসা গ্রহাণুকে চালিত করেছিল ভিন্নপথে। সেই সাফল্য অধ্যয়ন করে প্রতিরোধের রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গ্রহাণুর গতিপথ চিরতরে পরিবর্তন হয়েছে
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নাসার পাঠানো একটি মহাকাশযান ডিমোরফস নামে একটি গ্রহাণুকে আঘাত করেছিল। তার ফলে গ্রহাণুর গতিপথ চিরতরে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। নাসার প্রেরণ করা আর একটি মহাকাশযান সেই সঙ্ঘর্ষের ছবি তুলেছিল। সেই ছবি বিশ্লেষণ করে এবং গবেষণা করে বি্জ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন তাঁরা পুরোপুরি সফল।

মিশনটিতে চূড়ান্তভাবে সফল নাসা
আমাদের গ্রহ পৃথিবীর প্রতিরক্ষায় নাসা নেমেছিল এই ডার্ট মিশনে। ৩৩ মিনিটের মধ্যে গ্রহাণুটিকে কক্ষপথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে সমর্থন হয়েছিল নাসা। গবেষকরা বিগত পাঁচ মাস ধরে তা নিযে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা সমর্থ হয়েছেন এই মিশনটিতে চূড়ান্তভাবে সফল হতে, তার প্রমাণও তাঁরা পেয়েছেন।

ডার্ট মিশনে 'কাইনেটিক ইমপ্যাক্টর'
এই মর্মে চারটি গবেষণা করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। এই মিশনে বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে যে সাফল্যের কথা ভেবেছিলেন, তাঁরা তার চেয়েও বেশি সফল। তাঁরা ডার্ট মিশনে 'কাইনেটিক ইমপ্যাক্টর' নামে একটি কৌশল নিযুক্ত করেছিলেন, যার অর্থ একটি বস্তুর সঙ্গে অন্য বস্তুর সংঘর্ষ। তা থেকেই তাঁরা অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।

প্রতিটি টাইমলাইন রিপোর্ট করে ডার্ট
ডার্ট মিশনে নাসার প্রেরিত মহাকাশ যান গ্রহাণুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রতিটি টাইমলাইন রিপোর্ট করেছিল। অবস্থান ও প্রকৃতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছিল তারা। এবং ডিমারফসের আকার ও আকৃতি রেকর্ড করে বিস্তারিতভাবে গতিশীল প্রভাবক প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে। .

গ্রহাণুতে স্থানান্তরিত গতির পরিবর্তন গণনা
দ্বিতীয় গবেষণাপত্রে গবেষকরা দুটি স্বাধীন পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। যা গতির প্রভাব থেকে সময়ের পরিবর্তনের দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাপ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে বিজ্ঞানীদের। আর তৃতীয় গবেষণাটি ডিমারফোসের কক্ষপথের সময়কালের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছে। ডার্টের গতির প্রভাবের কারণে গ্রহাণুতে স্থানান্তরিত গতির পরিবর্তন গণনা করেছে।

প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৭ মিলিমিটার করে কক্ষপথ চ্যুত
গবেষক দল জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.৭ মিলিমিটার করে কক্ষপথ থেকে সরেছে ডিমারফস নামক গ্রহাণুটি। ডার্ট যে গতিতে ধাক্কা দিয়েছিল ডিমারফসকে, তাতে তাৎক্ষণিকভাবে গতি থমকে দিয়েছিল ডিমারফোসের। এই সংঘর্ষের পরে মহাকাশযানের গতিবেগ এবং গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে ধূলিকণার বিশাল ঝড় সৃষ্টি হয়।

গ্রহাণুর মতো প্রদক্ষিণ, কিন্তু ধূমকেতুর মতো নিষ্ক্রিয়
চূড়ান্ত গবেষণাপত্রে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, ধুলোময় সেই ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে হাজার হাজার মাইল পর্যন্ত প্রসারিত হতে দেখা গিয়েছে। ডিমারফসের সক্রিয়তাও কমিয়ে দিয়েছে ডার্ট। একটি মহাকাশ শিলা খণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা একটি গ্রহাণুর মতো প্রদক্ষিণ করে, কিন্তু ধূমকেতুর মতো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications