মঙ্গল পৃষ্ঠে ‘চিরঘুমে’ ঘুমিয়ে পড়ল ‘ঝুরং’! যাত্রা শেষে তৈরি করে গেল রঙিন ছবি
আর কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না চিনের মার্স রোভার ঝুরংয়ের সঙ্গে। মঙ্গল পৃষ্ঠে 'চিরঘুমে' ঘুমিয়ে পড়েছে ঝুরং। আর ডাকলেও সাড়া মিলছে না। মোটর চালিত রোভার বহু কীর্তির সাক্ষী থাকলেও তাকে জাগাতে ব্যর্থ চিনেরে মহাকাশবিজ্ঞানীরা।
মার্স রোভার ঝুরং-এর নামকরণ করা হয়েছিল চিনের আগুনের দেবতার নামে। সেই ঝুরং ২০২২ সালের মে মাসে মঙ্গলের বুকে ঘুমিয়ে পড়ে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছিলেন ফের ডিসেম্বরে জেগে উঠবে ঝুরং। কিন্তু ২০২২-এ ডিসেম্বর পেরিয়ে ২০২৩-এর মে মাস আসতে গেল, সাড়া মিলল না ঝুরংয়ের।

চিনের ঝুরং রোভারটি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে প্রায় ১১ মাস ঘুমিয়ে থাকার পর বেজিং লাল গ্রহে তাদের মিশন নিয়ে নীরবতা ভেঙেছে। চিনের মঙ্গল গ্রহ অনুসন্ধান কর্মসূচির প্রধান ডিজাইনার ঝাং রংকিয়াও নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে পাঠানো মহাকাশযানের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।
ঝুরং রোভারটি লাল গ্রহে হাইবারনেশন অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে রয়ে গিয়েছে। রোভারটি হাইবারনেশনে প্রবেশ করার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। তারপর তেকে চিনের বিজ্ঞানীরা প্রতিদিন এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু জাগিয়ে তুলতে পারেননি।
কারণ সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছে ঝুরং। এই রোভারটি হাইবারনেট হওয়ার আগে ৩৫৮টি মঙ্গলগ্রহের অন্বেষণ করেছে। মোটরচালিত রোভার ঝুরং ডিসেম্বরে জেগে উঠতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল। কারণ শীতের আগমনের সঙ্গে সৌর বিকিরণ হ্রাস পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পায়।

মঙ্গল গ্রহে প্রদক্ষিণ করা নাসার একটি ক্যামেরা চিনের রোভারটিকে দেখাতে সমর্থ হয়েছিল। জানা যায়, সেপ্টেম্বর থেকে তা আর নড়চড়া করেনি। চিনের মঙ্গল গ্রহ অনুসন্ধান কর্মসূচির প্রধান ডিজাইনার ঝাং রংকিয়াও মঙ্গলবার জানিয়েছে, স্তূপে ঢাকা পড়া ঝুরং জেগে ওঠার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
মঙ্গলে সৌরশক্তি দ্বারা চালিত হত ঝুরং। স্থলভাগে অনুপ্রবেশকারী রাডার ব্যবহার করে ভূ-পৃষ্ঠের জল ও বরফ-সহ প্রাচীন জীবনের লক্ষণগুলিও সন্ধান করেছিল তা। রোভারটি মোট ১৯২১ মিটার ভ্রমণ করেছিল। অর্থাৎ প্রায় দু'কিলোমিটার ছোটার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। তিন মাসের মূল মিশনে পাঠানো হয়েছিল।

সম্র্্তি চিন লাল গ্রহের প্রথম রঙিন বৈশ্বিক মানচিত্র প্রকাশ করেছে। চিনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস যৌথভাবে মানচিত্রটি প্রকাশ করেছে। মানচিত্রটি তিয়ানওয়েন-১ অরবিটার দ্বারা পাঠানো ছবির উপর বেস করে তৈরি করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications