মঙ্গলের মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেও ঘুমিয়ে গিয়েছে রোভার, চিনের সব আশা জলে
মঙ্গলের মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেও ঘুমিয়ে গিয়েছে রোভার, চিনের সব আশা জলে
চাঁদের মাটিতে সাফল্যের পর মঙ্গল অভিযানে নেমেছিল চিন। কিন্তু মঙ্গল অভিযানে গিয়ে জোর ধাক্কা খেলেন চিনের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলে চিনের ঝুরং রোভার ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে না। লাল গ্রহের মাটিতে নীরব হয়ে গিয়েছে চিনের মহাকাশযান।

রোভারটিকে সক্রিয় করতে ব্যর্থ বিজ্ঞানীরা
চিনের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আসা করেছিলেন রোভারটিকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ফের সজাগ করা সম্ভব হবে। এবং তা পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করাও সম্ভব হবে বলে মনে করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সেই আশার প্রদীপ নিভে গেল চিনের। ডিসেম্বর মাসে তো নয়ই, জানুয়ারি মাসের সপ্তাহভর চেষ্টা করেও রোভারটিকে সক্রিয় করতে পারলেন না বিজ্ঞানীরা।

মহাকাশযানটি সক্রিয় হওয়ার কোনও সংকেত দেয়নি
চাঁদের বুকে সাফল্য পেয়েই চিন তার প্রথম প্রচেষ্টাতেই মঙ্গল গ্রহে রোভারের অবতরণ করে ইতিহাস তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের ইতিহাসে ধাক্কা খায় সম্প্রতি তা নীরব হয়ে যাওয়ায়। মঙ্গলের মাটিতে নেমে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে রোভারটি। থমকে গিয়েছে মিশন। মহাকাশযানটি সক্রিয় হওয়ার কোনও সংকেতই দিতে পারেনি

সৌর প্যানেলটি ব্যবহারের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল
চিনের বিজ্ঞানীরা চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছেন না। তারপরও আশা রোভারটি তাঁর স্থবিরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। পুনরায় পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগস্থাপন হবে। রোভারটি মঙ্গলের বুকে বালির ঝড়ে পড়েছিল। তার ফলে শক্তি উৎপন্ন করার জন্য রোভারটির সৌর প্যানেলটি ব্যবহারের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।

সৌর-চালিত রোভার চিনের, নাসার পারমানবিক
চিনের পাঠানো এই রোভারটি সৌর-চালিত ছিল। নাসা বা অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা যে সমস্ত রোভার পাঠায় তা পারমানবিক। চিনের মহাকাশ সংস্থা তিয়ানওয়েন প্রোব ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে এই অভিযানে। তা গ্রহের উপর ঘোরাফেরা করে কী ঘটছে তা খুঁজে বের করায় পারদর্শী।

রোভারটি দুটি শর্ত পূরণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাগে
এই তিয়ানওয়েন-১ প্রোব সিস্টেমের ডেপুটি চিফ ডিজাইনার জিয়া ইয়াং-এর মতে রোভারটি দুটি শর্ত পূরণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেগে উঠতে পারে। তা সেভাবেই ডিজাইন করা। এর পাওয়ার লেভেল ১৪০ ওয়াট হতে হবে এবং ব্যাটারির অন্তর্ভুক্ত মূল উপাদানগুলির তাপমাত্রা অবশ্যই অতিক্রম করতে হবে মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

লাল গ্রহে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলছিল রোভারটি
চিন গত সেপ্টেম্বরে এই মিশনের সাফল্য দাবি করেছিল। ঝুরং রোভারটি ভিনগ্রহের পৃষ্ঠে ১৯২১ মিটার রানও করেছিল। ২০২২ সালের মে মাসে মঙ্গল গ্রহে জলের নতুন প্রমাণও খুঁজে পেয়েছিল তা। অতীতে যে মঙ্গলে জলের প্রবাহ ছিল, তার প্রমাণও পায় চিনের রোভার। লাল গ্রহে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলছিল রোভারটি। কিন্তু বাধ সাধল বালি-ঝড়।

মঙ্গলের উভয় পৃষ্ঠেই কাজ করছিল চিনের রোভার
চিন ২০২০ সালে লাল গ্রহে একটি অরবিটার, একটি ল্যান্ডার ও একটি রোভার চালু করে। যা এরর মিশনে তিনটি মাইলফলক তৈরি করেছিল। মিশনটি ২০২১ সালে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছয়। তারপর থেকেই লাল গ্রহে কাজ করে চলেছে রোভারটি। মঙ্গলের উভয় পৃষ্ঠেই তা কাজ করছে।












Click it and Unblock the Notifications