Chandrayaan 3: চন্দ্রযান ৩ সফট ল্যান্ডিংয়ে চন্দ্রযান ২-এর ভুল করবে না, কেন নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা
Chandrayaan 3: চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান ৩-এর সফট ল্যান্ডিং এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ইসরো অটোমেটিক ল্যান্ডিং সিকোয়েন্স শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। আগে থেকে সেট করা হয়েছে এআই ও কম্পিউটার লজিক সিস্টেম। প্রযুক্তিতে ভর করে এবার সাফল্য আসবেই চাঁদের মাটিতে, স্থির বিশ্বাস ইসরোর।
এখন গতি কমানো আর শক্ত ও সমান জমি হলেই বিক্রমের ল্যান্ডারের সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। পজিশন ডিটেকশন ক্যামেরা জমি খুঁজে পেয়েছে। চাঁদের মাটিতে ২.৫ কিলোমিটারx৪ কিলোমিটারে স্ক্যানিং সেরে ফেলেছে ইসরো। বুধবার চাঁদের মাটিতে নামার আগে ইসরোর সব দিক দিয়ে প্রস্তুত।

ইসরোর বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান ২-এর সময়ে যে সমস্ত বিষয়গুলি গ্যাপ রেখেছিলেন, এবার তা সম্পূর্ণ করেছেন। চন্দ্রযান ৩ মিশনে আবার চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারের সাহায্যও পাচ্ছে ইসরো। অরবিটারের ম্যাপিং তাদের সঠিক জায়গা খুঁজতে সাহায্য করেছে, যা আগেরবার ছিল না।
তারপর সমস্তরকম প্রতিকূলতা জয় করার জন্য বিক্রমকে তৈরি করা হয়েছে। তাই চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার এবার স্বপ্নপূরণ করবে বলে আশাবাদী ইসরো। সদাসতর্ক হয়ে বিক্রম ল্যান্ডিং পজিশন স্ক্যানিং করতে সেট করেছে এআইকে। চাঁদের ৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের ১০ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে সেই কাজ করবে এআই।
বিক্রমের যান্ত্রিক চোখ চাঁদের আকাশ থেকে দক্ষতার সঙ্গে জরিপ করছে, তাই সফট ল্যান্ডিংয়ে বিশেষ বাধা আসবে না। চাঁদের পরিবেশ সম্পূর্ণ অজানা। সেই অজানা পরিবেশে অজানা আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়ার মতো করে বিক্রমকে তৈরি করা হয়েছে।
চাঁদের মাটিতে তখন মাইনাস ২০৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা। তারপর খানাখন্দ, বোল্ডার-পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চাঁদের ভূ-পৃষ্ঠের মতো এত খারাপ এবং রুক্ষাবস্থা সূর্যমণ্ডলে কোনও গ্রহ বা উপগ্রহে নেই। সমতল খুঁজে পাওয়াই সঙ্কট। তার উপর রয়েছে পাহাড়।
গতবার ২০১৯ সালে বিক্রম ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, সে কথা মাথায় রেখে এবার বিক্রমকে তৈরি করেছে ইসরো। বিক্রমের সেন্সর কোনওভাবে যদি কাজ না করে বা ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় তাহলেও তা ল্যান্ড করতে সফল হবে চাঁদের মাটিতে। এমনকী বিন্দুমাত্র আলো না থাকলেও কাজ করতে সক্ষম বিক্রম।
৩০ সেন্টিমিটার বা তার থেকে বড় মাপের কোনও পাথর থাকলেও তা ট্র্যাক করতে পারবে বিক্রমের যন্ত্র। ৫ ডিগ্রি বা তার বেশি ঢাল হলেও তা বলে দেবে যন্ত্রটি। ইসরোর বিজ্ঞানীরা বলছেন চাঁদের উপর ১০ কিলোমিটার থেকে ১ কিলোমিটার উচ্চতায় সাবধানে নামতে হবে বিক্রমকে। এটাই সফট ল্যান্ডিংয়ের অন্তিম পর্যায়।
কিন্তু যদি কোনও কারণে বেশি গতিতে ল্যান্ডিং হয়, তখন কী হবে? ইসরোর বিজ্ঞানীরা সেই সমস্যার মুশকিল আসান করে দিয়েছেম। সম্ভাব্য সমস্ত ফ্যাক্টর মাথায় রেখে বিক্রমের শক আবজারব্যান্ট দেওয়া হয়েছে। ফলে একটু বেশি গতিতে ল্যান্ডিং হলেও তা সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিক্রমের।
আর হল চাঁদের তাপমাত্রা। সে কথা মাথায় রেখে বিক্রমকে তৈরি করা হয়েছে অ্যাডভান্সড কম্পোজিট টেকনোলজি ব্যবহার করে।বিক্রমের দেহে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিমার। গবেষণাগারে তরল অক্সিজেন ব্যবহার করে তাপমাত্রা কৃত্রিমভাবে কমানো হয়েছে চাঁদের থেকেও নীচে।
চাঁদের যে অংশে বিক্রম ল্যান্ড করবে সেখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ২০৩ ডিগ্রি। তাই সেই তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম কি না জানতে বিক্রমকে মাইনাস ২১৯ ডিগ্রিতে রেখে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছিল। মোট কথা বিক্রম ফুলপ্রুফ ল্যান্ডার। তাই সাফল্য এবার ধরা দেবেই। চন্দ্রযান ২-এর মতো চন্দ্রযান-৩ ব্যর্থ হবে না।












Click it and Unblock the Notifications