Chandrayaan 3: চাঁদে নামার আগে সামার সল্ট ভল্ট দেবে বিক্রম, কেন তা আবশ্যক জানাল ইসরো
চন্দ্রযান ৩ মিশন একেবারে সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। এখন শেষ পর্যাটি উতরে গেলেই ভারত গড়ে ফেলবে নয়া ইতিহাস। তবে ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের মাটিতে পা দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল। সে জন্য বিক্রমকে দিতে হবে সামার সল্ট ভল্ট।
কেন এই সামার সল্ট ভল্ট দেওয়া জরুরি, তা জানিয়েছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞরাও তা নিয়ে আলোচনা করেছে। অবতরণের এই পর্যায়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। মহাকাশ পিকে ঘোষ এএনআইয়ের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, চন্দ্রপৃষ্ঠে চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডার বিক্রমের অবতরণে সামার সন্ট ভল্ট অত্যন্ত দরকারি একটি প্রক্রিয়া।

সামার সল্ট ভল্ট প্রক্রিয়াতেই মহাকাশযানটিকে আনুভূমিক অবস্থা থেকে উলম্ব অবস্থানে আনবে। এই পর্যায়টি খুবই কঠিন। এর আগে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তবেই বিক্রমকে অনুভূমিক অবস্থান থেকে উলম্ব অবস্থানে আনতে হবে। তার আগে পর্যায়ক্রমে গতি কমিয়ে আনতে হবে বিক্রম-যানের।
১৪ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঠিক ৪১ দিনের যাত্রার সবথেকে কঠিন কৌশল প্রক্রিয়া সম্পাদন করে চাঁদের মাটিতে অবতরণে প্রস্তুত বিক্রম। চাঁদের আকাশে বর্তমানে বিক্রম রয়েছে ২৫x১৩৪ কিলোমিটার কক্ষপথে। ঠিক যখন ২৫ কিলোমিটার উপরে আসবে বিক্রম, তখনই শুরু হবে অবতরণ প্রক্রিয়া।
যখন নামতে শুরু করবে বিক্রম, তখন তার গতিবেগ থাকবে সেকেন্ডে ১.৬৮ কিলোমিটার বা ঘণ্টায় ৬০০০ কিলোমিটার। তারপরই হবে গতি কমানোর প্রক্রিয়া। অবতরণের প্রক্রিয়া শুরুর ৬৯০ সেকেন্ডের মধ্যে চন্দ্রযান ৩-এর সমস্ত ইঞ্জিনগুলি একত্রে জ্বলে উঠবে। তারপরই গতিবেগ এক চতুর্থাংশ হয়ে যাবে।
চাঁদের মাটি থেকে ৭.৪ কিলোমিটার ওপর যখন ল্যান্ডার পৌঁছবে, তখন তা থাকবে মাটির সঙ্গে সমান্তরাল অর্থাৎ অনুভূমিক অবস্থায়। ৩৫৮ মিটার প্রতি সেকেন্ডে গতিবেগে তা পরিক্রমা করবে। আর নীচে নামার গতিবেগ থাকবে ৬১ মিটার প্রতি সেকেন্ডে।
চাঁদের অভিকর্ষ বিক্রম ল্যান্ডারকে তখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬১ মিটার বেগে নীচের দিকে টানবে। প্রথম পদক্ষেপে গতি কমানোর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও গতি কমবে। এই সময়েই চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার অবতরণ স্থানের দিকে সামার সল্ট ভল্ট দেবে। তারপরই তা আনুভূমিক অবস্থান থেকে উলম্ব অবস্থানে চলে আসবে।
উলম্ব হওয়ার পর শুরু হবে চাঁদের মাটির ৭.৪ কিলোমিটার উচ্চতায় থেকে ল্যান্ডিং স্পট নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করা। সামার সল্ট ভল্টের পর ৮০০-১৩০০ মিটার উচ্চতায় চলে আসবে বিক্রম। তখনই ক্যামেরা ছবি তোলা শুরু করবে, সেন্সর ডেটা সংগ্রহ করবে। অনবোর্ড কম্পিউটার সবকিছু প্রক্রিয়াকরণ শুরু করবে।
তারপর ১২ সেকেন্ডের মধ্যে তা ১৫০ মিটারে নেমে আসবে। একটি বিশেষ ক্যামেরা মাটিতে কোনও সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করবে। যদি কোনও সমস্যা থাকে তবে আরও ১৫০ মিটার উপরে উঠে যাবে। আবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে বিক্রম ল্যান্ডার নেমে আসবে চাঁদের মাটিতে।












Click it and Unblock the Notifications