Chandrayaan 3: পাখির মতো ডানা মেলে চাঁদের মাটিতে নামবে ‘বিক্রম’, মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ইসরো
চন্দ্রযান-৩ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। এবার চাঁদে নামার প্রক্রিয়া শুরু। পাখির মতো ডানা মেলে বিক্রম ধীরে ধীরে নেমে আসবে চাঁদের মাটিতে। ইসরো তৈরি করবে ইতিহাস। ভারত ঢুকে পড়বে মহাকাশ বিজ্ঞানের এলিট দেশের তালিকায়। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকেই তাকিয়ে এখন আপামর ভারতবাসী।
বুধবার ইসরোর চন্দ্রযান-৩ চাঁদকে শেষবার পরিক্রমা করেছে। আর বৃহস্পতিবার চন্দ্রযান ৩ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। চাঁদের সীমানায় এবার বিক্রমের অভিযান শুরু হয়েছে। বিক্রম রোভার প্রজ্ঞানকে নিয়ে চাঁদের মাটিতে নামবে। তারপর প্রজ্ঞান শুরু করবে তার কাজ।

সেদিন আর বেশি দূরে নয়। চাঁদের আকাশে বিক্রম পাক খেতে শুরু করেছে। ২৩ অগাস্ট মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। সেদিনই চাঁদের মাটি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ২০ মিনিটের অভিযান শুরু করবে বিক্রম। ওই ২০ মিনিটই ভাগ্য গড়ে দেবে ইসরোর চন্দ্রযান-৩ মিশনের।
১৭ অগাস্ট অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ল্যান্ডার বিক্রম বিচ্ছিন্নকরণের পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ডিবুস্টের প্রক্রিয়াও। ক্রমশ মন্থর হবে বিক্রমের গতি। চাঁদের মাটি থেকে যখন ৩০ কিমি দূরত্বে থাকবে বিক্রম ল্যান্ডার, তখন থেকে ডানা মেলে দেবে। সেই ডানার উপর ভর করেই পাখির মতো নেমে আসবে চাঁদের মাটিতে।
প্রজ্ঞান রোভারকে নিয়ে বিক্রম ল্যান্ডার ডানা মেলে চাঁদের মাটিতে সফল অবতরণের দিকেই এখন গোটা ভারতের নজর, ইসরোর প্রত্যাশা। দুনিয়ার অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও তাকিয়ে রয়েছে সেদিকে। ভারত চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ইতিহাসে নাম লেখানে পারে কি না, চাঁদের বুকে নিজেদের ভারতের নাম খোদাই করে আসতে পারে কি না!
ইসরোর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২৩ অগাস্ট বিক্রম যখন চাঁদে নামবে, তখন ল্যান্ডারের গতি কমিয়ে আনা হবে ৩ মিটার প্রতি সেকেন্ডে। অর্থাৎ ল্যান্ডারের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১০ কিলোমটারের একটু বেশি। অবতরণের এই প্রক্রিয়াটাই সবথেকে কঠিন বলে জানিয়েছেন ইসরোর প্রধান এস সোমনাথ।
ইসরো প্রধান জানিয়েছেন, বিক্রমের ৩০ কিলোমিটার থেকে ২০ মিনিট ধরে চাঁদের মাটিতে অবতরণের এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারলেই সফট ল্যান্ডিংয়ে আর কোনও বাধা থাকবে না। চাঁদের মাটিতে সাফল্য আসবে প্রথমবার। ইতিহাস তৈরি করবে ভারত। ভারতের নাম খোদাই হবে চন্দ্র-অভিযানে।
আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদের মাটি স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করবে ভারত। এর আগে ২০১৯-এ একবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। একেবারে শেষল্যাপে এসে ধাক্কা খেয়েছিল ভারত। সফট ল্যান্ডিং হয়নি। বিক্রম চাঁদের মাটি ছুঁয়েই বিকল হয়ে গিয়েছিল।
এবার সেই অভিযান থেকে শিক্ষা নিয়ে চন্দ্রযান-৩ মিশনে নেমেছে ইসরো। চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রমকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। তাই ২৩ অগাস্ট চাঁদের ৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে বিক্রমের সফল অবতরণের ব্যাপারে আশাবাদী ইসরোর বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ মেরু থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে বিক্রম।












Click it and Unblock the Notifications