Chandrayaan 3: চাঁদের মাটি স্ক্যানিংয়ে ব্যস্ত চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম, সফট ল্যান্ডিংই যে পাখির চোখ

চাঁদের মাটিতে শক্ত ও সমান জমি চাই। বিক্রমের ল্যান্ডার পজিশন ডিটেকশন ক্যামেরা সেই জমি খুঁজে বেড়াচ্ছে। বুধবার চাঁদের মাটিতে নামার আগে ইসরোর চন্দ্রযান ৩ মিশনে ল্যান্ডার বিক্রম এখন নয়া মিশনে অবতীর্ণ। চাঁদের মাটি স্ক্যানিং করে চলেছে বিক্রম।

বিক্রমের লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে শক্ত ও সমান জমির খোঁজ পাওয়া। সমান জমি আর সুনিয়ন্ত্রিত গতিই চন্দ্রপৃষ্ঠে সফট ল্যান্ডিং ঘটাতে পারে বিক্রমের। বাকি সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে, শুধু একটি সমান ও শক্ত জমি পেলেই চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার স্বপ্নপূরণ করবে। আসবে সাফল্য।

Chandrayaan 3

বিক্রম একদিন আগেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুর একটি ছবি পাঠিয়েছিল। বিক্রম চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যে জাদয়া ল্যান্ডিং করার পরিকল্পনা করেছে, সেই জায়গার ছবিতেই স্পষ্ট কতটা বিপদসঙ্কুল এই অবতরণ। চাঁদের ওই অংশ পড়ে রয়েছে পাথর। ছোটো-বড়ো সব রকমের পাথর। মুহূর্তের একাট ছোট্ট ভুলে সব কিছু মাটি হয়ে যেতে পারে।

তাই সদাসতর্ক হয়ে বিক্রম স্ক্যানিং করে চলেছে চাঁদের ৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশের ১০ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে। বিক্রমের যান্ত্রিক চোখ চাঁদের আকাশ থেকে জরিপ করছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ২.৫ কিলোমিটারx৪ কিলোমিটার এলাকা। বিক্রমের যান্ত্রিক চোখের দক্ষতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করছে সফট ল্যান্ডিং।

এভাবই চাঁদের ওই ২.৫x৪কিলোমিটার শক্ত ও সমান জমির খোঁজ চালাচ্ছে বিক্রম। চন্দ্রযান ২ মিশনের অরবিটারের সঙ্গে গতকাল যোগাযোগ সাধন হওয়ায়, তারাও এই অভিযানে সহযোগিতা করছে বিক্রমকে। বিক্রম এখন চাঁদের মাটি স্ক্যান করে একটি সঠিক জায়গা নির্ধারণ করতে চাইছে সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য।

সম্পূর্ণ অজানা এক পরিবেশে বিক্রমকে নামতে হবে। চাঁদের মাটিতে তখন মাইনাস ২০৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা। তারপর খানাখন্দ, বোল্ডার-পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চাঁদকে দেখতে পৃথিবী যেতে যত সুন্দর লাগে, কাছ থেকে চাঁদের ভূ-পৃষ্ঠ দেখতে ততটাই খারাপ এবং রুক্ষ। সমতল খুঁজে পাওয়াই সঙ্কট।

রাশিয়ার লুনা-২৫ ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরো আরও সাবধানী। গতবার ২০১৯ সালে বিক্রম ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, সে কথা মাথায় রেখে এবার বিক্রমকে তৈরি করা হয়েছে। বিক্রমের সেন্সর কোনওভাবে যদি কাজ না করে বা ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় তাহলেও তা ল্যান্ড করতে সফল হবে চাঁদের মাটিতে।

বিক্রম বিন্দুমাত্র আলো না থাকলেও কাজ করতে সক্ষম আর বিক্রমের যন্ত্র ৩০ সেন্টিমিটার বা তার থেকে বড় মাপের কোনও পাথর থাকলেও তা ট্র্যাক করতে পারবে। ৫ ডিগ্রি বা তার বেশি ঢাল হলে বেল দেবে বিক্রমের যন্ত্র। চাঁদের উপর ১০ কিলোমিটার থেকে ১ কিলোমিটার উচ্চতায় সাবধানে নামতে হবে বিক্রমকে।

১ কিলোমিটার থেকে শুরু হবে সফট ল্যান্ডিংয়ের অন্তিম পর্যায়। যদি কোনও কারণে বেশি গতিতে ল্যান্ডিং হয়, তাহলেও সমস্যা নেই। সম্ভাব্য সমস্ত ফ্যাক্টর মাথায় রেখে বিক্রমের শক আবজারব্যান্ট দেওয়া হয়েছে। আর চাঁদের তাপমাত্রা মাথায় রেখে বিক্রমকে তৈরি করা হয়েছে অ্যাডভান্সড কম্পোজিট টেকনোলজি ব্যবহার করে।

বিক্রমের দেহে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিমার। গবেষণাগারে তরল অক্সিজেন ব্যবহার করে তাপমাত্রা কৃত্রিমভাবে কমানো হয়েছে চাঁদের থেকেও নীচে। চাঁদের যেখানে তাপমাত্রা হবে মাইনাস ২০৩ ডিগ্রি, সেখানে বিক্রমকে মাইনসা ২১৯ ডিগ্রিতে রেখে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছিল। মোট কথা বিক্রম ফুলপ্রুফ ল্যান্ডার। তাই সাফল্য এবার ধরা দেবেই।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+