Chandrayaan 3: চন্দ্রাভিযানে দরকার আরও শক্তিশালী রকেট, মিতব্যয়ী প্রকৌশল নিয়ে প্রশ্ন প্রাক্তন ইসরো প্রধানের
২০১৯ সালের পর ভারত ফের চন্দ্রযান-৩ মিশনে নেমেছে। আবার রাশিয়াও চাঁদে পাঠিয়েছে তাদের মহাকাশযান লুনা ২৫-কে। চাঁদের মাটিতে কার্যত দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ভারত বনাম রাশিয়ার। লুনা-২৫ ভারতের থেকে ২৯ দিন পরে ছেড়েও চন্দ্রযান ৩-এর আগে চাঁদে নামবে।
এই অবস্থায় ভারতের বিলম্বিত অভিযান নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরোর প্রাক্তন প্রধান কে সিভান দাবি করলেন, চন্দ্রভিযান নিশ্চিত সাফল্যে আনতে আরও শক্তিশালী রকেটের প্রয়োজন। তাঁর কথায়, মিতব্যয়ী প্রকৌশল কাজে লাগিয়ে চাঁদে পৌঁছনোর প্রতিযোগিতায় নামা যায় না।

তিনি বলেন, ভারতকে ভবিষ্যতের মিশনগুলির জন্য আরও আধুনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। শক্তিশালী রকেট তৈরি করতে হবে। সবথেকে বড় কথা মহাকাশ গবেষণার তহবিল আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে কিছুতেই মহাকাশ অভিযান চূড়ান্ত সাফল্য পাওয়া যাবে না।
সিভান বলেন, আগের থেকে ভারতের প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু ততটা উন্নত হয়নি, যাতে আমেরিকা, রাশিয়া বা চিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা মহারাশ অভিযান চালাতে পারি। তাই আমাদের থেকে প্রায় ১ মাস পরে চাঁদে পাড়ি দিয়ে চন্দ্রযান ৩-এর আগে চাঁদের মাটি ছুঁতে চলেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার চাঁদে পৌঁছতে সাকুল্যে সময় লাগছে ১১ দিন। আর সেখানে আমরা মিতব্যয়ী কৌশল নিয়ে ৪১ দিন ধরে চাঁদে যাচ্ছি। ভবিষ্যৎ পরিক্লপনার জন্য সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আমি নিশ্চিত আমাদের সরকার আরও উন্নততর প্রযুক্তি গ্রহণ করবে। বিনিয়োগে কোনও সমস্যা হবে না। আমরা মহাকাশ গবেষণাও আরও এগিয়ে যাব।
সিভানের এই বিবৃতি এমস সময়ে এসেছে, যখন চাঁদের মাটিতে নামার প্রতিযোগিতা চলছে ভারতের চন্দ্রযান-৩ ও রাশিয়ার লুনা ২৫-এর। দুদিনের আগে-পরে তাদের নামার কথা। ভারতের অভিযান শুরু হয়েছে ১৪ জুলাই। রাশিয়ার অভিযান শুরু হয়েছে ১১ অগাস্ট। রাশিয়ার থেকে চারগুণ বেশি সময় লাগছে ভারতের চাঁদে পৌঁছতে।
আসলে চন্র্রযান-৩ মিশনে ভারত যে রকেট ব্যবহার করেছে তা হল লঞ্চ ভেহিকেল মার্ক-৩ এম-৪। আর রাশিয়া ব্যবহার করেছে সয়ূজ ২-কে। উভয়ের শক্তির আকাশ পাতাল তফাত। চাঁদে প্রবেশ করতে গেলে পাঁচটি পৃথিবী কক্ষপথ-উত্থান কৌশল সম্পাদনের প্রয়োজন হয়। সেখানেই বিস্তর সময় লেগে যায় ভারতের।
তারপর লুনা ২৫-এর থেকে ভারতের চন্দ্রযান ৩ ভারী আরও উন্নত। লুনার ওজন ১৭৮০ কিলোগ্রাম আর চন্দ্রযান ৩-এর ওজন ৩৮০০ কিলোগ্রাম। রাশিয়া শুধু লুনা-২৫ ল্যান্ডারকে পাঠিয়েছে চাঁদে। আর ভারত পাঠিয়েছে বিক্রম ল্যান্ডার ও প্রজ্ঞান রোভারকে।
এই প্রজ্ঞান রোভার হল ছ-চাকা বিশিষ্ট একটি রোবট। চাঁদে অবতরণের পর তা ল্যান্ডার বিক্রমের পেট থেকে বেরিয়ে আসবে। তারপর তা চাঁদের মাটিতে ৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবে। আর রাশিয়ার চন্দ্রযান লুনা ২৫-এ কোনও রোভার নেই। চাঁদে নামার পর এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে রুশ ল্যান্ডার।
লুনা ২৫-এর অ্যান্টেনা ও ক্যামেরার-সহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চাঁদ থেকে গবেষণামূলক কিছু তথ্য সংগ্রহ করবে। লুনা ২৫-এ রয়েছে সোলার প্যানেল, তা থেকে শক্তি আহোরণ করতে পারবে ওই চন্দ্রযান। ভারতের চন্দ্রযান-৩ মিশনের রোভার প্রজ্ঞানের তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা ও ক্ষেত্র অনেক বেশি।
ভারতের চন্দ্রযান অনেক বেশি জায়গা ঘুরে তা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। সূর্যালোকের কারণে লুনা কাজ করা বন্ধ করে দিলেও প্রজ্ঞান ব্যাটারিচালিত হওয়ায় তা দু-সপ্তাহ ধরে বাধাহীনভাবে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে। তবে উল্লেখ্য, য়ে সময় লুনা-২৫ বা বিক্রম ল্যান্ডার চাঁদে নামছে, তখন ১৪ দিন ব্যাপী সূর্যালোক থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications