Chandrayaan 3: চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারই আসল নায়ক, যোগাযোগ স্থাপনে সহজ হবে চাঁদে বিক্রমের অবতরণ
চন্দ্রযান ২ মিশনে বিক্রমের অবতরণে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘ চার বছর ধরে চাঁদের কক্ষপথে কাজ করে অরবিটার। চন্দ্রযান-২ মিশনের সেই অরবিটারই এবার চন্দ্রযান ৩ মিশনকে সফল করে দিতে পারে। বিক্রমের অবতরণে চাঁদের কক্ষপথ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিরন্তর করে চলেছে চন্দ্রযান-২ মিশনের এই অরবিটার।
২০১৯-এ ব্যর্থ হওয়ার পর কেউ মনে রাখেনি চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারকে। কিন্তু এবার চন্দ্রযান-৩ মিশনে তা যে এত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে তা ভাবা যায়নি একদিন আগে পর্যন্ত। সোমবার বিক্রমের সঙ্গে চন্দ্র কক্ষপথে চন্দ্রযান-২ অরবিটারের সাক্ষাৎ হতেই চন্দ্র গবেষণায় আশার আলো বিরাজিত হল।

চন্দ্রযান-৩ মিশন প্রসঙ্গে জ্যোতিরবিজ্ঞানী প্রিয়া হাসান তুলে ধরলেন চন্দ্রযান ২ মিশনের অরবিটারের কীর্তির কথা। তিনি বলেন, চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণে ল্যান্ডারের গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় ৬০০০ কিলোমিটারের বেশি। হঠাৎ একটি ব্রেক করে তাকে চাঁদের মাটিতে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। তা নেহাতই সহজ কাজ নয়।
তাঁর কথায়, আমরা সবাই জানি চন্দ্রপৃষ্ঠ এবড়োখেবড়ো। গর্তে ভরপুর। একবার গর্তে পা পড়লে আর রক্ষা নেই। চন্দ্রযান ২-এর বিক্রম ল্যান্ডারকে অবতরণ করার জন্য সমস্তরকম চেষ্টাই করা হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর করা যায়নি। চন্দ্রযান ২ মিশনেও প্রতিটি পদক্ষপ সফলভাবে পার করেছিল ইসরো। শুধু চাঁদে ল্যান্ড করতে পারেনি।
সেই ২০১৯ সাল থেকেই চার বছর ধরে চাঁদের ১০০x১০০ কিলোমিটার কক্ষপথে খুব ভালোভাবে ম্যাপিং করে চলেছে চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারটি। তার ফলে চাঁদের নিখুঁত মানচিত্র হাতে পেয়েছে ইসরো। এমন নিখুঁত মানচিত্র এর আগে ইসরোর হাতে ছিল না। ফলে চন্দ্রযান ৩ মিশনের বিক্রমকে কোথায় ল্যান্ড করা ঠিক হবে, তা আগে থেকেই চূড়ান্ত করতে পেরেছে।
এবার চন্দ্রযান ৩ মিশনে কোনও অরবিটার নেই। কেবল জেট প্রপালশন মডিউল রয়েছে। আর সেটাই বিক্রম ল্যান্ডার ও রোভার প্রজ্ঞানকে নিয়ে গিয়েছে চাঁদের কক্ষপথে। চন্দ্রযান ২-এর অরবিটার এখনও কার্যকর থাকায় বিক্রমের অবতরণ অনেক সহজ হতে চলেছে। সেই কারণে ইসরোর বিজ্ঞানীরা এবার অনেক বেশি প্রত্যাশী।
বিক্রম চাঁদে নামার আগেই হাতে চাঁদ পেয়ে যায় চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারের সঙ্গে যোগাযোগ সাধন করে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো জানিয়েছে, চার বছর ধরে যে কাজ চন্দ্রযান ২-এর অরবিটার করেছে তা এবার চন্দ্রযান ৩ মিশনের বিক্রম ল্যান্ডারকে চাঁদে নামানোর মতো কাজকে সহজ করে দিয়েছে।
এতদিন ইসরো বলে আসছিল, চন্দ্রযান-২ মিশন ব্যর্থ হয়নি। এদিন অরবিটারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তা প্রমাণ করে দিলেন তাঁরা। চন্দ্রযান ৩ মিশনকে সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চন্দ্রযান ২ মিশনের অবদান তাই অনস্বীকার্য। অরবিটারের সঙ্গে যোগাযোগ সাধন হওয়ায় ইসরোর বিজ্ঞানীদের ল্যান্ডার মডিউলে প্রবেশের নতুন পথ তৈরি হয়ে গেল।












Click it and Unblock the Notifications