Chandrayaan 3: চাঁদের মাটি ছুঁতে পারেনি তিনটির বেশি দেশ, ভারত কি সেই গৌরবের অধিকারী হবে
যে কোনও মহাকাশযানের কাছে চাঁদের মাটি ছুঁতে পারা একটা চ্যালেঞ্জ। তিনটি দেশের বেশি কোনও দেশ আজ পর্যন্ত চাঁদের মাটি ছুঁতে পারেনি। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে একাধিকবার চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছিল মহাকাশ সংস্থা। তারপর যেমন আর চাঁদে মানুষ যায়নি, তেমনই চাঁদে মহাকাশযানও নামাতে পারেনি অন্য দেশ।
শুধু চিন এই গৌরব অর্জন করেছিল ২০১৩ সালে। আমেরিকা ও রাশিয়া ছাড়া চিনই একমাত্র দেশ যাঁরা চাঁদে মহাকাশ যান নামাতে সমর্থ হয়েছে। ভারত এর আগে একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। ইসরোর চন্দ্রযান থ্রি এবার ভারতকে সেই গৌরবের অধিকারী করতে পারে কি না, তা জানতে এখন অধীর প্রতীক্ষায় বিজ্ঞানীরা।

আসলে চাঁদে অবতরণ মোটেই সহজ নয়। প্রথম পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব নেহাত কম নয়। ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে চাঁদে পৌঁছতে কক্ষপথে ঘুরে ঘুরে আরো বেশি দূরত্ অতিক্রম করতে হয়। এতদূরের যাত্রায় যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনা থেকেই যায়। তারপর রয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে একেবারে অজানা স্থানে নামার ঝুঁকি।
চাঁদে কোনও জিপিএস সিস্টেম নেই। ফলে উপগ্রহের নেটওয়ার্কের উপর নির্ভল করে অবতরণ করা যায় না। সফল ল্যান্ডিং করা চাই সবসময়ের জন্য সর্বদেশের জন্য কঠিন। তাহলে ৫০ বছর আগে অবলীলায় কী করে নীল আর্মস্ট্রং-এডউইনরা চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিলেন।
তারপর তো আরও অনেক মহাকাশচারী পা রেখেছেন চাঁদের মাটিতে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গিয়েছে বহুদেশ সেই চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৯ সালে চাঁদের মাটিকে চন্দ্রযান ২ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল ভারত। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। চাঁদের মাটিতে ল্যান্ডিং করার সময় ধ্বংস হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রম।
শুধু কি ভারত, ব্যর্থতার দলে রয়েছে জাপান, ইজরায়েল-সহ একাধিক দেশ। ষাটের দশকে চাঁদের মাটিতে আমেরিকা ও রাশিয়া রূপকথা লেখার পর ব্যতিক্রম শুধু চিন। চাঁদের বুকে মসৃণ অবতরণ করে চিন গৌরবের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির যুগেও কেন ব্যর্থ বিভিন্ন দেশ? সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
চাঁদের মাটিতে অবতরণ সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ। নাসাও লুনার ফ্ল্যাশলাইট মিশনটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল তাদের প্রপালশন সিস্টেমে ব্যর্থতার জন্য। চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশই করতে পারেনি। এই প্রপালশন সিস্টেমই চাঁদের পাতলা বায়ুমণ্ডলে মহাকাশযানের গতি কমাতে সাহায্য করে।
ভারতের বিক্রমও প্রপালশন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ না করায় নামতে গিয়ে জোর ধাক্কা খায় চাঁদের মাটিতে, তার ফলেই বিকল হয়ে যায় মহাকাশযান বিক্রম। অবতরণের কয়েক কিলোমিটার আগে প্রপালশন সিস্টেমের ধাক্কায় সেন্সরগুলি ঠাকঠাক কাজ করে না বহু সময়। কোথায় নামবে চন্দ্রযান, সেই সিদ্ধান্তও নিতে হয় চটজলদি।












Click it and Unblock the Notifications