৫০ বছর পর চাঁদের মাটিতে ইতিহাস গড়বে নাসার আর্টেমিস মিশন! ফিরে দেখা অ্যাপোলোর ১৭ মিশন
আর্টমিস মিশনে চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে নাসা। এবারই কিন্তু প্রথম নয়। এর আগেও অ্যাপোলো মিশনেও চাঁদে পাড়ি দিয়েছিল নাসা। সেটাই ছিল চাঁদের মাটিতে প্রথম ও শেষ কোনো মানব অভিযান। আর্টেমিস মিশনে চাঁদে পাড়ি দেওয়ার আগে কীভাবে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরল নাসা।

৫০ বছর পর আবারও কোনো মানুষ যাবে চাঁদে
২০২২-এ নাসা আর্টেমিস ওয়ান মিশনে চাঁদে পাঠিয়েছিল মহাকাশযান ওরিয়নকে। চাঁদের মাটিতে রেকর্ড গড়ে ওরিয়ন ফিরে আসার পর নাসা আর্টেমিস টু মিশন শুরুর পরিকল্পনা করেছে। আগামী মাসেই মহাকাশচারীরা চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবেন এই আর্টেমিস টু মিশনে। ৫০ বছর পর আবারও কোনো মানুষ যাবে চাঁদে।

আর্টেমিস মিশনে ইতিহাস সৃষ্টির অপেক্ষা
তবে এবার চাঁদের মাটিতে তাঁরা নামবেন না। চাঁদের কক্ষপথে গিয়ে তাঁরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে আসবেন। চাঁদের মাটিতে তাঁরা কী কী উপায়ে দীর্ঘ সময় কাটাতে পারেন, তা নিরূপণ করাই নাসার উদ্দেশ্য এই মিশনে। নীল আর্মস্ট্রংয়ের পর কোনো নভশ্চর চাঁদের মাটিতে এই মিশনে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফিরতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পা দেওয়া প্রথম সদস্য
১৯৬২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন কেনেডি রাইস ইউনিভার্সিটিতে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, "আমরা চাঁদে যেতে পছন্দ করি। আমরা এই দশকেই চাঁদে যাবো। তা করে দেখিয়েছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই সাত বছরেরও কম সময়ে নীল আর্মস্ট্রং পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহে পা রেখেছিলেন মানবজাতির প্রথম সদস্য হিসেবে।

নাসা মোট ১১টি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল চাঁদে
এটি ছিল অ্যাপোলো প্রোগ্রামের প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত শেষ সাফল্য। এই মিশনে নাসা মানুষকে চাঁদে অবতরণ করতে এবং তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৬১ সাল থেকে শুরু করে নাসা মোট ১১টি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। তার মধ্যে ছয়টি মহাকাশযানে চাঁদে মানুষ অবতরণ করেছে। তাদের মধ্যে চারটি সরঞ্জাম পরীক্ষা করেছে। এবং একটি মহাকাশযানে বিপর্যয় ঘটে।

নাসার অ্যাপোলো মিশনে সাফল্য
নাসার অ্যাপোলো মিশনে প্রচুর বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। চাঁদ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম নমুনা ফেরত আনতেও সমর্থ হয়েছিল নাসা। এই মিশনে মাটির মেকানিক্স, মেটেওরয়েড, ভূমিকম্প, তাপপ্রবাহ, চন্দ্রের পরিসর, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং সৌর বায়ু নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়।

অ্যাপোলো ওয়ান মিশনে ব্যর্থ হয়েছিল নাসা
১৯৬৭ সালের ২৭ জানুয়ারি অ্যাপোলো ওয়ান মিশনে গিয়েছিল নাসা। অ্যাপোলোর মহাকাশযানের মানব মিশন শেষ হয়েছিল একটি বিপর্যয় দিয়ে। অ্যাপোলো ওয়ানের ক্রু গাস গ্রিসম, এড হোয়াইট এবং রজার শ্যাফি একটি প্রিফ্লাইট পরীক্ষার সময় অ্যাপোলো কমান্ড মডিউলে আগুন লেগে মারা যান।

অ্যাপোলো ফোর ও অ্যাপোলো ফাইভ মিশন
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে অ্যাপোলো ওয়ানের পর অ্যাপোলো টু বা অ্যাপোলো থ্রি ছিল না। প্রোগ্রামের পরবর্তী মিশন ছিল অ্যাপোলো ফোর, যা ছিল একটি চালকবিহীন ফ্লাইট। তিনটি স্যাটার্ন ভি রকেট পরীক্ষা করেছিল এই মিশন। অ্যাপোলো ফাইভ ছিল আরেকটি মনুষ্যবিহীন ফ্লাইট, যা আরোহণ এবং অবতরণের পর্যায়, প্রপালশন সিস্টেম ইত্যাদি পরীক্ষা করে।

অ্যাপোলো সিক্স মিশন পরীক্ষামূলক, সেভেন প্রথম ক্রুড ফ্লাইট
এরপর অ্যাপোলো সিক্স মিশনটি ছিল চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক ফ্লাইট, যা নিশ্চিত করেছিল যে শনি ভি লঞ্চ ভেহিকেল এবং অ্যাপোলো মহাকাশযান মানব মিশনের জন্য উপযুক্ত। অ্যাপোলো সেভেন প্রোগ্রামটির প্রথম ক্রুড ফ্লাইট ছিল। মহাকাশচারী ওয়াল্টার শিরা জুনিয়র, ডল আইজেল এবং ওয়াল্টার কানিংহাম ১১ দিনের মিশনে গিয়েছিলেন। তারা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিলেন।

অ্যাপোলো এইট আর্টেমিস টু মিশনের মতো
অ্যাপোলো এইট অনেকটা আসন্ন আর্টেমিস টু মিশনের মতো ছিল। মিশনটি নভোচারীদের চন্দ্র কক্ষপথে নিয়ে যায় এবং তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। মহাকাশচারী ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান, জিম লাভেল এবং বিল অ্যান্ডার্স ১৯৬৮ সালের ২১ ডিসেম্বর চাঁদের কক্ষপথ থেকে ফিরে এসেছিলেন।

অ্যাপোলো নাইন ও অ্যাপোলো টেন মিশন
অ্যাপোলো নাইন অ্যাপোলো মিশনের তৃতীয় ক্রু ফ্লাইট ছিল। কিন্তু এটি আমাদের গ্রহ থেকে খুব বেশি দূরে যায়নি। পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করেছিলেন। অ্যাপোলো টেন অবিশ্বাস্যভাবে চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছয়। চাঁদে অবতরণের জন্য এক ধরণের ড্রেস রিহার্সাল হিসাবে কাজ কের। অ্যাপোলো ইলেভেন মিশনের জন্য অবতরণের স্থানটি স্কাউট করে আসেন নভোচারীরা।

চাঁদের মাটিতে সফল অবতরণ অ্যাপোলো ১১ মিশনে
বছরের পর বছর গবেষণা, বিভিন্ন অ্যাপোলো ফ্লাইট এবং অন্যান্য অনেক পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের পর ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অবশেষে অ্যাপোলো ইলেভেন মিশনে মানুষ চাঁদে অবতরণ করে। মিশনের কমান্ডার নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে পা রাখা প্রথম মানুষ হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। তাঁর সঙ্গে চাঁদের মাটিতে আমেরিকান পতাকা তোলেন বাজ অলড্রিন।

অ্যাপোলো টুয়েলভ মিশন
অ্যাপোলো টুয়েলভ মিশনে উড়ানের প্রথম মিনিটে দুবার বজ্রপাত হওয়া সত্ত্বেও চাঁদে দ্বিতীয় সফল অবতরণ করতে গিয়েছিল। মহাকাশচারী চার্লস কনরাড জুনিয়র, রিচার্ড এফ গর্ডন এবং অ্যালান এল বিন এই মিশনে নির্ভুল অবতরণ পদ্ধতি প্রদর্শন করেন। ১৯৭০-এর ১১ এপ্রিল অ্যাপোলো থার্টিন চাঁদে পাড়ি দেয় জেমস এ লাভেল, জন এল সুইগার্ট এবং ফ্রেড ডব্লিউ হাইসকে নিয়ে।

অ্যাপোলো খার্টিন মিশন
মিশনের তৃতীয় দিনে যখন অ্যাপোলো থার্টিন মহাকাশযানটি চাঁদ থেকে ৩২০০০০ কিলোমিটার দূরে, তখন শর্ট সার্কিটের কারণে মডিউলের অক্সিজেন ট্যাঙ্কগুলির একটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে উভয় অক্সিজেন ট্যাংক ফেটে যায় এবং অক্সিজেন মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে চাঁদে অবতরণ বাতিল করে ক্রুরা লাইফবোট হিসাবে চন্দ্র মডিউল ব্যবহার করেছিল পৃথিবীতে তাদের ফেরানো জন্য।

অ্যাপোলো মিশনে চাঁদে তৃতীয় ও চতুর্থ মানব অবতরণ
১৯৭১-এর ৩১ জানুয়ারি অ্যাপোলো ফোর্টিনে মহাকাশচারী অ্যালান শেপার্ড স্টুয়ার্ট রুসা এবং এডগার ডি মিচেল চাঁদে তৃতীয় মানব অবতরণ শেষ করার পর চাঁদে দুটি সোনার বল রেখে এসেছিলেন। এরপর অ্যাপোলো ফিফটিনে এই বছররেই ২৬ জুলাই চাঁদে চতুর্থ সফল মানব অবতরণ সমাপ্ত হয়েছিল।

অ্যাপোলো মিশনে চাঁদে পঞ্চম ও ষষ্ঠ মানব অবতরণ
অ্যাপোলো সিক্সটিন চাঁদে যায় ১৯৭২-এর ১৭ এপ্রিল। মহাকাশচারী জন ইয়ং, থমাস ম্যাটিংলি এবং চার্লস ডিউকের চাঁদে ডেসকার্টেস ফর্মেশনে অবতরণ করেছিলেন। আর সর্বশেষ মানব অভিযান হয়েছিল অ্যাপোলো সেভেন্টিন মিশনে। এই ক্রুতে মহাকাশচারী ইউজিন সারনান, হ্যারিসন স্মিট এবং রোনাল্ড ইভান্স ছিলেন। ১৯৭২-এর ১১ ডিসেম্বর তা চাঁদে অবতরণ করেছিল।












Click it and Unblock the Notifications