Aditya-L1 mission: সূর্য কোন কোন উপাদানে তৈরি, ইসরোর নয়া মিশনে জানুন গ্যাস-প্লাজমাসহ বহু অজানাকে

সূর্যোদয় দিয়েই শুরু হয় প্রতিদিনের সকাল। সেই সূর্যের আলো ছাড়া গোটা প্রাণীকুল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। সূর্যছাড়া মানুষের বেঁচে থাকাই অসম্ভব। কী এমন আছে সূর্যে, যা থেকে গোটা জগতের আধার ঘুচে যায়। গোটা জগৎ প্রাণশক্তি পায়। কোন কোন উপাদান দিয়ে তৈরি সূর্য?

সূর্য সম্বন্ধে অজানাকে জানার লক্ষ্য নিয়েই ভারতীয় বিজ্ঞানীরা নেমেছেন সান মিশনে। এই মিশনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য তো রয়েইছে, সেইসঙ্গে সূর্যে কী কী উপাদান রয়েছে, তা সম্বন্ধে জানারো। সূর্য গ্যাস ও প্লাজমা দিয়ে তৈরি একটা বিশালাকার গোলক। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী সূর্যের ভিতরের বেশিরভাগটাই হাইড্রোজেন।

সূর্য কোন কোন উপাদানে তৈরি, মিশনে নাসাও

পরমাণু সংখ্যা হিসেবে এর পরিমাণ ৯২ শতাংশ। সূর্যের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন নিউক্লিযার ফিউশন প্রক্রিয়ায় হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয়। এ সময় বেরিয়ে আসে বিপুল শক্তি। সেই শক্তি চলে যায় সূর্যের বায়ুমণ্ডলে। তারপর তা তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরতি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা সৌরজগতে।

নাসার পরীক্ষাতেই জানা গিয়েছে, সূর্যের উপরিভাগের তাপমাত্রা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সূর্যে হাইড্রোজেন গ্যাস উত্তপ্ত হয়ে গেলেই পরমাণুগুলি ভেঙে যায়, তৈরি হয় চার্জযুক্ত কণা। এভাবে হাইড্রোজেন গ্যাস পরিণত হয় প্লাজমায়। প্লাজমা উত্তপ্ত হলে জমা হয় প্রচুর শক্তি।

আর সূর্যের কেন্দ্রে মহাকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে প্রচণ্ড চাপ ও তাপমাত্রা তৈরি হয়। তার ফলে সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই বিপুল পরিমাণ তাপের ফলে হাইড্রোজেন পরমাণুগুলি নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় হিলিয়ামে পরিণত হয়। এর ফলে নিউট্রিনো বেরিয়ে আসে। শক্তিরূপে বেরিয়ে আসে গামা রশ্মি।

আবার সূর্যের চার্জযুক্ত কণাগুলি সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ বল কাটিয়ে পালিয়েও যায়। ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। তাকেই বলে সৌরবায়ু। যখন তা বহুল পরিমাণে বিস্ফোরিত হয়, তখন তাকে বলে সৌরঝড়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই চার্জযুক্ত কণাগুলি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত করলে সৃষ্টি হতে পারে অরোরা বা মেরুজ্যোতি।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের গঠনতন্ত্র গবষণা করে মোট ৬৭টি রায়াসয়নিক উপাদানের তালিকা তৈরি করেছেন। সূর্যের গঠনতন্ত্রে আরও রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। তবে এখনই এগুলো শনাক্ত করা কঠিন। নাসার গর্ডাড ফ্লাইট সেন্টারের তথ্যানুসারে, সৌরগঠনে সবথেকে বেশি অবদান রেখেছে হাইড্রোজেন।

হাইড্রোজেন রয়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ আর তারপরই রয়েছে হিলিয়ামের সংখ্যা। তার সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ। বাকি ২ শতাংশ রয়েছে মৌল। এই ২ শতাংশের মধ্যে মূলত রয়েছে অক্সিজেন, কার্বন ও নাই়ট্রোজেন। সেইসঙ্গে নিয়ন, আয়রন, সিলিকন ও ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে অল্পবিস্তর।

ইসরো সম্প্রতি যাচ্ছে আদিত্য এল-১ মিশনে। এই মিশনে ইসরোর বিজ্ঞানীরা সূর্যের উপর বায়ুমণ্ডলীয় গতিবিদ্যা অধ্যয়ন করবেন। ক্রোমোস্ফিয়ারিক ও করোনাল হিটিং, আংশিকভাবে আয়নিত প্লাজমার পদার্থবিদ্যা, করোনাল ভর নির্গমনের সূচনা এবং অগ্নিশিখা অধ্যয়ন করা রহবে। মিশনটিতে প্লাজমা পরিবেশও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+