Aditya L1 mission: চাঁদের পর সূর্য-জয়ের প্রস্তুতি সারা, আদিত্য এল১ উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত দিন-ক্ষণ ঘোষণা ইসরোর
চন্দ্র-বিজয়ের পর এবার সূর্য জয়ে বেরোচ্ছে ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো প্রথম সূর্য অভিযানের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিল সোমবারই। কবে মহাকাশে আদিত্য এল১ উৎক্ষেপণ করা হবে, তার চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করল ইসরো। তারা জানিয়েছে নির্দিষ্টি দিনেই অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর ১১টা ৫০ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হবে রকেট।
ইসরো জানিয়ছে, আদিত্য এল১ মহাকাশে সূর্য অধ্যয়নে পাঠানো ভারতের প্রথম মহাকাশযান। এই মহাকাশযাব সূর্য ও পৃথিবীর সিস্টেমের ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট ১-এ বা এল১ পয়েন্টের একটি হ্যালো কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে স্থাপিত হবে ওই কৃত্রিম উপগ্রহ।

সম্প্রতি চন্দ্রযান ৩ চাঁদের মাটিতে নেমেছে। সেখানে বিক্রম ও প্রজ্ঞান তাদের কাজ করে চলেছে সফলভাবে। এরপর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল ইসরো যাবে সূর্য মিশনে। চাঁদে নামার দুদিন পরেই শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল আদিত্য এল১-এর।
কিন্তু সেই মিশন সাতদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। মিশন স্থির হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর। ওইদিন শ্রীহরিকোটার মহাকাশ কেন্দ্র থেকে হ্যালো কক্ষপথের উদ্দেশে পাড়ি দেবে আদিত্য এল১। সূর্য-বিজয়ের লক্ষ্যে সূর্য ও পৃথিবীর ল্যাগ্রেঞ্জ এল১ পয়েন্টে স্থাপিত হবে ওই উপগ্রহ।
ইতিমধ্যে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রে কৃত্রিম উপগ্রহ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। পিএসএলভি রকেটে করে পাড়ি দেবে আদিত্য এল১। রকেট প্রতিস্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সৌর মিশনের জন্য ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রহর গোনা শুরু হয়ে গেল এদিন সরকারিভাবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণার পর।
এদিন ইসরো আরও জানিয়েছে, শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পিএসএলভি রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হবে আদিত্য এল-১। এই মহাকাশানটি প্রাথমিকভাবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। তারপর ধীরে ধীরে কক্ষপথটিকে আরও উপবৃত্তাকার করা হবে।
কক্ষপথটিকে উপবৃত্তাকার করা হলে আদিত্য এল১-কে অন-বোর্ড প্রপালশন ব্যবহার করে এল-১ পয়েন্টের দিকে পাঠানো হবে। মিশনটির ক্রুজ পর্ব শুরু হবে তারপর। মহাকাশযানটি দ্বিতীয় পর্বে এল-১ হ্যালো কক্ষপথে প্রবেশ করানো হবে। আদিত্য এল-১ লঞ্চ থেকে শুরু করে এল-১ পয়েন্ট পর্যন্ত ভ্রমণের মোট সময় লাগবে চার মাস।
ইসরো প্রথম সূর্য মিশনে হ্যালো পয়েন্ট থেকে সৌর ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করবে। মিশনটির প্রধান উদ্দেশ্য হল সূর্যের উপর বায়ুমণ্ডলীয় গতিবিদ্যা অধ্যয়ন করা। ক্রোমোস্ফিয়ারিক ও করোনাল হিটিং, আংশিকভাবে আয়নিত প্লাজমার পদার্থবিদ্যা, করোনাল ভর নির্গমনের সূচনা এবং অগ্নিশিখা অধ্যয়ন করা। মিশনটি প্লাজমা পরিবেশও পর্যবেক্ষণ করবে।
বিজ্ঞানীরা আশাবাদী সূর্যের কক্ষপথে ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট থেকে সূর্যের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। সূর্যের উপর যথাযথভাবে নজরদারি চালানো যাবে। বারবার সূর্যে যে বিস্ফোরণ হচ্ছে, তার ফলে প্রভাবিত হচ্ছে সৌরমণ্ডলের সমস্ত গ্রহ। পৃথিবীতে সেই প্রভাব কীভাবে রোধ করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা করবেন বিজ্ঞানীরা।












Click it and Unblock the Notifications