চোখের সামনে তিলে তিলে মৃত্যু হচ্ছে একটি তারার, পৃথিবীর সবথেকে কাছেই এই ঘটনা
চোখের সামনে তিলে তিলে মৃত্যু হচ্ছে একটি তারার, পৃথিবীর সবথেকে কাছেই এই ঘটনা
পৃথিবীর খুব কাছেই একটি তারার মৃত্যু ঘটছে। বেটেলজিউস আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মধ্যে একটি, যেটি আমাদের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করত, তা এখন তিলে তিলে মৃত্যুর কোলে কোলে ঢলে পড়ছে। এই তারাটি আগের তুলনায় অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে। জীবনের প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বেটেলডিউস।

মৃতপ্রায় নক্ষত্র এবার অন্যরূপে ধরা দিল
২০১৯ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই বেটেলজিউসের একটি ছবি প্রকাশ্যে আনেন। সেখানে তারাটিকে যতটা উজ্জ্বল লাগছিল, এখন আর ততটা উজ্জ্বল লাগছে না। হাবল টেলিস্কোপে যে ছবি উঠেছে, তাতে স্পষ্ট জীবন্ত ও উজ্জ্বল এই নক্ষত্র ধীরে ধীরে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। মৃতপ্রায় নক্ষত্র এবার অন্যরূপ দেখা দিল হাবল টেলিস্কোপে।

পৃথিবীর খুব কাছে তৈরি হতে পারে ব্ল্যাকহোল
এবার পৃথিবীর সবথেকে কাছের নক্ষত্রেই ঘটতে চলেছে মর্মান্তিক ঘটনা। এর ফলে পৃথিবীর খুব কাছে তৈরি হতে পারে একটি ব্ল্যাকহোল। লাল সুপারজায়ান্ট তারকা তাঁর যাত্রা শেষ করতে চলেছে। এই বেটেলজিউসে বিস্ফোরণ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আশ্চর্যজনকভাবে হাবল টেলিস্কোপে একটি ছবি ধরা পড়েছিল, যাতে দেখা গিয়েছিল এই নক্ষত্রটি পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। কিন্তু সেই পুনরুজ্জীবন মৃত্যুর আগে হঠাৎ জেগে ওঠা বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

তিন বছরে ধরে বেটেলজিউস আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু
পৃথিবী তথা সৌর জগতের সবথেকে কাছে থাকা এই বেটেলজিউস নক্ষত্রটি ২০১৯ সালে বিস্ফোরিত হয়। তারপর থেকেই তা ম্লান হতে শুরু করে। স্বভাবতই বিগত তিন বছর ধরে এই বেটেলজিউস হয়ে ওঠে বিশ্বের সমস্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তার দিকে সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এখন এই নক্ষত্রটির মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গোনা শুরু হয়েছে।

সূর্যের তুলনায় ৪০০ গুণ বেশি বিস্ফোরণ
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০১৯ সালে বেটেলজিউস যে বিস্ফোরিত হয়েছিল, তারপর তার বিশাল অংশের সারফেসে মাস ইজেকশন শুরু হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণ ছিল ভয়াবহ। আমদের সূর্যে যেমন বিস্ফোরণ হয়, তার তুলনায় বেটেলজিউসের বিস্ফোরণে ৪০০ বিলিয়ন গুণ বেশি ছিল। তারপর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রটিকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য হাবল টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য টেলিস্কোপ ও মহাকাশ যান প্রস্তুত রেখেছে।

যেসব মহাকাশ যানের সর্বদা নজর বেটেলজিউসে
নাসা বলছে, আমরা এর আগে কখনও একটি তারার স্পৃষ্ঠের বিশাল ভর ইজেকশন দেখিনি। আমরা রিয়েল টাইমে নাক্ষত্রিক বিবর্তন দেখেছি। স্টেলা রোবোটিক অবজার্ভেটরি থেকে স্পেকট্রোস্কোপিক এবং ইমেজিং ডেটা ব্যবহার করে গবেষকরা সেই বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন। নাসার সোলার টেরেস্ট্রিয়াল রিলেশনস অবজারভেটরি স্পেসক্রাফ্ট, নাসার হাবল টেলিস্কোপের দ্বারা আমেরিকান স্পেস অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টার স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালানো হয়।












Click it and Unblock the Notifications