বামন সূর্যের চারপাশে ঘুরছে সুপার আর্থ, গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা
বামন সূর্যের চারপাশে ঘুরছে সুপার আর্থ, গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এখন গবেষণার প্রধান বিষয় হল, পৃথিবীর মতো বাস যোগ্য কোনও গ্রহ কি আর আছে? নতুন একটি আবিষ্কৃত গ্রহ বর্তমানে জ্যোত্যির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রাণী জগতের বসবাসের একাধিক সুবিধা ওই গ্রহে থাকতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বড় গ্রহটি। এই গ্রহটি মূলত লাল রঙের একটি বামন নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরছে। নক্ষত্রটিকে LP 890-9 c বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহটিতে বসবাস করার পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনুমান গ্রহটি মূলত পাথুরে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, LP 890-9 b বলে আগে যে গ্রহটি চিহ্নিত করা হয়েছিল, তারই মতো এই গ্রহটি। LP 890-9 bটিও সুপার আর্থ বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। দুই গ্রহের মধ্যে একাধিক মিল দেখতে পাওয়া গিয়েছে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখনও এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি বুঝতে পারেননি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, দুটি গ্রহই অত্যন্ত শীতল। লাল বাম নক্ষত্র যাকে বিজ্ঞানীরা LP 890-9 হিসেবে চিহ্নিত করছেন, তার চারপাশে ঘুরছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৯৮ অলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে জানা গিয়েছে আবিষ্কৃত গ্রহটি পৃথিবীর থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ বড়। এই গ্রহের তাপমাত্রা আনুমানিক ১২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রহটিতে বসবাসের জন্য অত্যন্ত উষ্ণ আবহাওয়া বলে নাসার তরফে জানানো হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে অনুমান করলেো নাসার তরফে জানানো হয়েছে, সেই সম্ভাবনা খুব কম। কারণ গ্রহটির তাপমাত্রা পৃথিবীর তাপমাত্রার থেকে অনেকটা বেশি। নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা অনুমানের সঙ্গে একাধিক সতর্কতা আসে। কোনও গ্রহের প্রকৃত তাপমাত্রা তার বায়ুমণ্ডলের ওপর নির্ভর করে। তবে এটা হতে পারে, গ্রহের বাইরের দিকে একটি গ্রিন হাউসের বলয়ের মতো কিছু তৈরি হয়েছে। তবে গ্রহটির তাপমাত্রা যেহেতু পৃথিবীর থেকে অনেকটাই বেশি, তাই বসবাসের সম্ভাবনা নেই। নাসার তরফে জানানো হয়েছে, প্রাণের সম্ভাবনাও একদম কম।
তবে বিজ্ঞানীরা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহ দুটির বায়ুমণ্ডল নিয়ে আর একটু পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বায়ুমণ্ডলে কি ধরনের গ্যাস রয়েছে, বা লাল বামন নক্ষত্র থেকে কীধরনের রশ্মি গ্রহটিতে আসে সেই বিষয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications