প্রশান্ত কিশোর কি সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন তৃণমূলের সঙ্গে, জল্পনা শুরু ২০২৪-এর আগে
প্রশান্ত কিশোর কি সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন তৃণমূলের সঙ্গে, জল্পনা শুরু ২০২৪-এর আগে
একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য সাফল্য কুড়িয়ে এনেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত প্রকল্প ও পরিকল্পনায় তৃণমূল পর্যুদস্ত করেছিল বিজেপিকে। তারপর প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছিলেন আর এই ছকে বাঁধা ভোট-কৌশলীর কাজে তাঁকে দেখা যাবে না। আগামী দিনে তাঁকে দেখা যাবে একেবারে অন্য ভূমিকায়। জল্পনার শুরু তখন থেকেই।

২০২৬ পর্যন্ত তৃণমূলের ভোট কৌশলীর দায়িত্বে পিকে
যদিও প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটেছিল অচিরেই। আই প্যাক থেকে সরে যাওয়া বা ভোট কৌশলীর কাজ থেকে বিরত হওয়ার জল্পনা উড়িয়ে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তৃণমূলের সঙ্গে। ২০২৬ পর্যন্ত তাঁকে ভোট কৌশলীর দায়িত্ব অর্পণ করে তৃণমূল পরিকল্পনা নিয়েছিল আগামী ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন ও ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে।

তৃণমূলের বিস্তারের পরিকল্পনা কষেন পিকে
একুশের নির্বাচনের পর প্রশান্ত কিশোর কিছুদিন কংগ্রেসের পক্ষে মত পোষণ করলেও কিছুদিন পর থেকেই ফের তৃণমূলকে বিজেপি বিরোধী ঐক্যের প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন। ত্রিপুরা-গোয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি রাজ্যে তৃণমূলের বিস্তারের পরিকল্পনা কষতে শুরু করেন। তাতেই কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক অহি-নকুল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

আইপ্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে তৃণমূল!
কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের পুর-নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনিত হতে শুরু করে। জল্পনা শুরু হয় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে তৃণমূলের। পুরভোটের প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও বিতর্কের জেরে পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে এগোচ্ছে তৃণমূল, এমন গুঞ্জন উঠে পড়ে রাজ্য রাজনীতিতে।

তৃণমূলের অফিসিয়াল পেজে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ
সম্প্রতি বিতর্কের সূত্রপাত পুরভোটের প্রার্থী তালিকায় বিভ্রান্তি নিয়ে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগোচরে তৃণমূলের অফিসিয়াল পেজে একটি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে তৃণমূলের বিবৃতি দিয়ে জানাতে হয়, সেটা আসল তালিকা নয়। এ জন্য পিকের সংস্থা আইপ্যাক দায়ী বলে মনে করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বাংলার মন বুঝতে অন্য কারও পরামর্শের দরকার নেই
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং এই ঘটনায় ক্ষুণ্ণ। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার দেওয়ার পরামর্শ উপেক্ষা করে কলকাতা পুরভোটে দলের এক ব্যক্তি এক পদ নীতি ভেঙে মন্ত্রী-বিধায়কদের প্রার্থী করেন। এখানেই শেষ নয়, দলের শীর্ষ নেতত্বের একাংশের তরফে একপ্রকার জানিয়ে দেওয়া হয়, বাংলার মন বুঝতে অন্য কারও পরামর্শের দরকার নেই।

প্রশান্ত কিশোরকে কি অন্যভাবে ব্যবহার করবে তৃণমূল
এইরকম নানা ঘটনা পরম্পরায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তা-ই যদি হয় আসন্ন ২০২৪-এর নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরকে ছাড়াই তারা লড়বে। ২০২৬ না হয় এখনও বহূ দূরে। ২০২৪-এ তৃণমূল প্রশান্ত কিশোরকে ছাড়া চলে, নাকি প্রশান্ত কিশোরকে দলের অন্যভাবে ব্যবহার করে, তা বলবে ভবিষ্যৎ।

তৃণমূলকে সাফল্যের সরণিতে নিয়ে আসেন প্রশান্ত কিশোর
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আশাতীত ফল করতে পারেনি তৃণমূল। বিজেপির উত্তরণ হয়েছিল লোকসভায়। দুই থেকে বেড়ে ১৮টি লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল তারা। তারপরই ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করা হয় পরামর্শদাতা হিসেবে। প্রশান্ত কিশোর তাঁর সংস্থা আই প্যাককে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে সাফল্যের সরণিতে নিয়ে আসেন।

প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে
শুধু ভোটের প্রার্থী চয়নই নয়, তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতি কেন্দ্র প্রার্থী কে হবেন, তা নিরূপণে প্রশান্ত কিশোর ও প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার অভিমতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হালে রাজ্যের ১০৭টি পুরসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পরই বিতর্ক ও বিরোধের সূত্রপাত। যার জেরে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কর্তৃত্বের সংঘাত যখন তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে
তৃণমূলের ভোট কৌশলী হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগের পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিয়েছিলেন অভিষেকের সিদ্ধান্ত। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বও বাড়ে দলে। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কর্তৃত্বের সংঘাতও তৈরি হয় তৃণমূলের অন্দরে।

প্রশান্ত কিশোরের গুরুত্বও কমতে শুরু করেছে তৃণমূলে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোলাখুলি জানিয়ে দেন তৃণমূলে তিনিই শেষ কথা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রশান্ত কিশোরের গুরুত্বও যে কমতে শুরু করেছে তৃণমূলে সাম্প্রতির ঘটনাপ্রবাহে তার ইঙ্গিত মিলেছে। এর ফলে পিকের সংস্থা আই-প্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক অটুট থাকে, নাকি তৃণমূল আবার নিজের পায়ে চলতে শুরু করে, তা-ই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications