বিজেপির ‘পাঠশালা’য় গরহাজির সাংসদ-মন্ত্রীরা! জল্পনার মাঝেই আরও অস্বস্তি বাড়ালেন বিক্ষুব্ধরা
বাংলায় যখন নতুন ‘হেডস্যার’ এসেছেন, তখন তাঁর নেতৃত্বে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাঠশালায় তিন মন্ত্রী-সহ সাংসদদের অনুপস্থিতি বিজেপিকে ঘোরতর অস্বস্তির মুখে ফেলে দিল।
বিজেপির পাখির চোখ বাংলা। অথচ বাংলার মন্থন শিবিরে গরহাজির মন্ত্রী-সাংসদরা। বাংলায় যখন নতুন 'হেডস্যার' এসেছেন, তখন তাঁর নেতৃত্বে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাঠশালায় তিন মন্ত্রী-সহ সাংসদদের অনুপস্থিতি বিজেপিকে ঘোরতর অস্বস্তির মুখে ফেলে দিল। অস্বস্তি কাটাতে বিজেপি নেতৃত্ব বাধ্য হল বাংলার তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্র-সহ ৬ সাংসদকে জবাব চাইতে।

মন্থন শিবিরে অনুপস্থিত থাকলেন যাঁরা
বিলাসবহুল রিসর্ট বৈদিক ভিলেজে তিনদিনের মন্থন শিবির শুরু হয়েছে বিজেপির। সেই মন্থন শিবিরে অনুপস্থিত থাকলেন বাংলা থেকে মনোনীত তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, জন বার্লা ও নিশীথ প্রামাণিক। অনুপস্থিত সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়া, কুনার হেমব্রম ও রাজু বিস্তরাও। দলের নির্দেশ অমান্য করে তাঁরা কেন গরহাজির থাকলেন, তার জবাব চাইছে বিজেপি। ইতিমধ্যে জবাব চেয়ে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়াও হয়েছে।

‘সেভ বেঙ্গল বিজেপি' বলছে মন্থন নয়, পিকনিক
বিজেপির এই মন্থন শিবিরের বৈভব নিয়ে তৃণমূল সমালোচনায় শামিল হয়েছে, কটাক্ষ করেছে বিজেপিপ বিক্ষুব্ধ শিবিরও। বিক্ষুব্ধরা এই শিবিরকে পিকনিক বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। দলের বিক্ষুব্ধ অংশ ইতিমধ্যে 'সেভ বেঙ্গল বিজেপি' নামে একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। সেই মঞ্চের তরফেই বিজেপির তিনদিনের প্রশিক্ষণ শিবির ওরফে মন্থন শিবিরকে পিকনিক নামে ভূষিত করেছে।

বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে নাম করে কটাক্ষ
সেভ বেঙ্গলের তরফে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে নাম করে কটাক্ষ করা হয়েছে। অমিত মালব্যকে বলা হয়েছে রাজনীতিতে শিক্ষানবীশ, সুকান্ত মজুমদারকে বলা হয়েছে অসহায় আর অমিতাভ চক্রবর্তীকে প্রচারক বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। পার্টির টাকায় স্টার হোটেলে স্ফূর্তি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। আর এই অভিযোগের মধ্যে তিন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী-সহ ৬ সাংসদের অনুপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপির হেডস্যারের ক্লাসেও আদি-নব্য দ্বন্দ্ব
এখানেই শেষ নয় বিতর্ক, সেভ বেঙ্গর বিজেপি যেমন মন্থন শিবিরের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তখন একাংশ আবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই প্রশিক্ষণ শিবিরে ডাক পাননি বলে। তাঁদের অধিকাংশ আবার আদি বিজেপি নেতা। অতএব, বিজেপির হেডস্যারের ক্লাসেও ফের তৈরি হয়েছে আদি-নব্য দ্বন্দ্বের আবহ।

অনেককে ডাকা হয়নি, অনেককে ডাকলেও যাননি
অভিযোগ বিজেপির রাজকীয় মন্থন শিবিরে ডাকা হয়নি রাজ্য কমিটির অনেক প্রবীণ নেতাকেই। আবার ডাকা হলেও বৈঠকে হাজির হননি বিক্ষুব্ধদের অনেকেই। রাজ্য সহ সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ও গরহাজির থেকেছেন। উল্লেখ্য, তিনি রাজ্য বিজেপিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিক্ষুব্ধ। তবে বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর শীর্ষসারির সমস্ত নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সুনীল বনশল, সতীশ ধন্দ, অমিত মালব্য, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা।

বিভেদ ও বিভাজনের ছবিটা তো মেটানো গেল না
রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র এই মন্থন শিবিরকে নিয়ে বৈভবের অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এটা বৈভবের মিটিং নয়, জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এক ছাতার তলায় আনার মিটিং। কিন্তু বিভেদ ও বিভাজনের সেই ছবিটা তো মেটানো গেল না মন্থন শিবির করেও। বিজেপির বিভেদ রেখা আরও স্পষ্ট করে দিল এই মন্থন শিবির।












Click it and Unblock the Notifications