২০১৭-র পুনরাবৃত্তি ২০২২-এ! বিজেপি ধরাশায়ী নীতীশের ‘নীতি’তে, অভিমুখ শুধু ভিন্ন
২০১৭-র পুনরাবৃত্তি ২০২২-এ! বিজেপি ধরাশায়ী নীতীশের ‘নীতি’তে, অভিমুখ শুধু ভিন্ন
বিজেপির সঙ্গে ফের পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে মহাজোটের পথে পা বাড়ালেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। বিহারে ফের সমীকরণ বদলে গেল। পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে যে ঘটনা ঘটেছিল ২০২২-এর তার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন নীতীশ। এক্ষেত্রে শুধু অভিমুখ ছিল ভিন্ন। বলাই যায়, বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিল মহাজোট। ২০১৭-র সঙ্গে ২০২২-কে 'টিট ফর ট্যাট'-এর রাজনীতিও বলা যায়।

বিহারে ২০১৭-র পুনরাবৃত্তি ২০২২-এ
২০১৭ সালে নীতীশ কুমার একইভাবে মহাজোট ছেড়ে বিহারের কুর্সি ধরে রেখেছিলেন বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে। সেক্ষেত্রে বিজেপির ইন্ধনে জেডিইউ সুপ্রিমো আরজেডি-কংগ্রেসের সঙ্গে গড়া মহাজোটকে ছত্রখান করে বেরিয়ে এসেছিলেন। এবার ২০২২-এ সেই জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার কুর্সি বাঁচালেন বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে মহাজোটকে আশ্রয় করেই। সেদিক দিয়ে মহাজোট বিজেপিকে পাল্টা দিল টিট ফর ট্যাটের রাজনীতিতে। পাঁচ বছর পর ২০২২-এ ২০১৭-র পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফের নায়ক নীতীশ কুমার।

২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল
২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী মহাজোট গড়ে বিহারের ক্ষমতায় এসেছিলেন নীতীশ কুমার। বিজেপিকে ধরাশায়ী করে আরজেডি-কংগ্রেস-জেডিইউয়ের মহাজোট ২৪৩টির মধ্যে ১৭৮টি আসন নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেয়েছিল মাত্র ৫৮টি আসন। তার মধ্যে ৫৩টিই পেয়েছিল বিজেপি। আর মহাজোটের সর্বৃবহৎ দল আরজেডি হলেও জেডিইউ সুপ্রিমোকে বসানো হয়েছিল কুর্সিতে।

২০১৭-য় বিজেপি-সঙ্গে নীতীশ মহাজোট ভেঙেছিলেন
কিন্তু দু-বছর যেতে না যেতেই দুর্নীতি ইস্যুতে লালু-পুত্র তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মহাজোট ভেঙে দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। নীতীশ কুমার পদত্যাগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে। তারপর বিজেপির সমর্থনে তিনি ফের কুর্সিতে বসেছিলেন অদ্যাবধি পরেই। তারপর বিজেপির সঙ্গে ঘর করেছিলেন বাকি তিন বছর।

২০২০ সালে মহাজোটের হার বিজেপি-জেডিইউয়ের কাছে
২০২০ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউ লড়াই করেছিল বিজেপির সঙ্গে জোট গড়ে। বিজেপি। আরজেডি-কংগ্রেস-বামফ্রন্ট মহাজোট গঠন করলেও তা ধোপে টেকেনি। বিহারে এককভাবে সর্ববৃহৎ দল হয়ে ওঠে আরজেডি। কিন্তু কংগ্রেসের ব্যর্থতায় কুর্সি দখল করতে পারেনি তেজস্বী যাদবরা। বিজেপির সমর্থনে জেডিইউ সরকার গড়ে বিহার। এই জোটে বেশি আসন পায় বিজেপি। কিন্তু পূর্বঘোষিত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কুর্সিতে বসেন জেডিইউয়ের নীতীশ কুমারই।

২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল
২০২০ সালের নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ও জেডিইউয়ের জোট পায় ১২৫টি আসন। তার মধ্যে বিজেপি পায় ৭৪টি এবং জেডিইউ পায় ৪৩টি আসন। বাকি আটটি পায় এনডিএর বিকাশশীল ইনসান পার্টি ও হাম পা্র্টি। পক্ষান্তরে মহাজোট পায় ১১০টি আসন। আরজেডি পায় সবথেকে বেশি ৭৫টি আসন এবং কংগ্রেস পায় মাত্র ১৯টি আসন। বামেরা পায় ১৬টি। পরে আরজেডির আসন সংখ্যা বেড়ে ৮০টি হয়েছে।

বিজেপিকে মাত দিয়ে নীতীশ ফের মহাজোটে
এই অবস্থায় ঠিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় ২ বছরের মাথায় ভেঙে গেল বিজেপি ও জেডিইউ জোট। নীতীশ কুমারকে চাপে রাখা শুরু করতেই তলে তলে কংগ্রসের সোনিয়া গান্ধী ও আরজেডির তেজস্বী যাদব এবং বামেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সরকার ভেঙে দিলেন নীতীশ। এবার তিনি বিজেপিকে মাত দিলেন। মহাজোটও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিল ২০১৭-র।

মহাজোটে নীতীশ, ফের নতুন করে সরকার গঠন
বিহারে ফের বিধানসভা ভোটের দু-বছরের মাথায় মহাজোটের সরকার হতে চলেছে। তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যা রয়েছে। ১৫০টিরও বেশি আসন রয়েছে মহাজোটের দখলে। ফলে বিহারে ক্ষমতা বদল হতে চলেছে। নীতীশ কুমার এদিনই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার ভেঙে দিচ্ছেন এবং ইস্তফা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে। একইসঙ্গে তিনি ফের মহাজোটের সরকার গঠনের প্রস্তাব করতে চলেছেন।

বিহার মহারাষ্ট্র নয়, বোঝালেন নীতীশ
সূত্রের খবর, মহাজোটের বৈঠকে স্থির হয়েছে বিহারের কুর্সিতে বসছেন নীতীশ কুমারই। আরজেডি সুপ্রিমো তেজস্বী যাদব ফের বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। ২০১৫ সাল ফিরে আসছে ফের ২০২২-এ। বিজেপিকে চলে যেতে হচ্ছে বিরোধী আসনে। এ রাজ্যকেও বিজেপি মহারাষ্ট্র করতে চেয়েছিল। কিন্তু মোক্ষম জবাব দিয়েছেন নীতীশ কুমার। বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি উদ্ধব ঠাকরে নন। তিনি বিহারের পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানেন কুর্সি রক্ষা করতে। বিজেপিকে তাই ব্যর্ত মনোরথ হয়েই ফিরতে হচ্ছে বিহার থেকে। বিহারে দখলদারি চালাতে তারা ব্যর্থ হল। তাদেরই জোটসঙ্গী জেডিইউ সমস্ত চক্রান্তের পর্দা ফাঁস করে ছাড়ল বিহারে।












Click it and Unblock the Notifications