নাইটদের সংবর্ধনায় টাকা আছে, গরিবকে দেওয়ার টাকা নেই? প্রশ্ন হাই কোর্টের

২০০৯ সালের মে মাসে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লায়। সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সেখানে প্রাণহানি হয়, ঘর তছনছ হয়ে যায়। সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু অনেকেই প্রশাসনের গড়মসির জেরে ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ। তেমনই একটি পরিবার বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। এদিন মামলাটি উঠেছিল বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চে। তিনি রাজ্য সরকারের কৌঁসুলিকে প্রশ্ন করেন, কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি? জবাব আসে, রাজ্য সরকার তীব্র অর্থকষ্টে ভুগছে। তাই ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে পারছে না। সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতি বলেন, "ইডেন গার্ডেনে এত টাকা খরচ করে নাইট রাইডার্সকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে আর গরিব মানুষকে দেওয়ার টাকা নেই? এটা কী ধরনের সমাজকল্যাণ?" তখন রাজ্যের আইনজীবী বলেন, আসলে আবেদনপত্রে কিছু ভুল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়নি।
এদিকে, নাইট রাইডার্সদের সংবর্ধনায় রাজ্য সরকার এত খরচ করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে।
প্রথমত, রাজ্য সরকার নিয়মিতভাবে বেতন দিতে পারছে না সিএসটিসি, সিটিসি, এসবিএসটিসি, এনবিএসটিসি ইত্যাদি পরিবহণ সংস্থার কর্মীদের। বকেয়া মহার্ঘভাতা পাচ্ছেন না সরকারি কর্মচারীরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বারবার বলেছেন, টাকা নেই বলে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ আটকে যাচ্ছে। অথচ অর্থের অভাব থাকা সত্ত্বেও বিপুল খরচ করে কেন কলকাতা নাইট রাইডার্সদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে? যেখানে একজন বাংলার খেলোয়াড়ও নেই।
দ্বিতীয়ত, এই সংবর্ধনায় বাংলার ক্রিকেটের কী উন্নতি হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ। এই অর্থ বরং গরিব খেলোয়াড়দের তুলে আনতে খরচ করা যেত।
তৃতীয়ত, সপ্তাহের মাঝখানে কাজের দিনে মুখ্যমন্ত্রী সদলবলে ইডেন গার্ডেনে উপস্থিত হয়ে কর্মসংস্কৃতির কী ধরনের নমুনা তুলে ধরতে চাইছেন? এদিন ইডেনে সকাল থেকেই তদারকির কাজে নেমে পড়েন মদন মিত্র। সঙ্গে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, ক্রীড়া দফতরের অফিসাররা। সরকারি কাজ ফেলে শুধু সংবর্ধনায় তদারকিতেই ব্যস্ত থেকেছেন এঁরা।












Click it and Unblock the Notifications