ফিরে দেখা ২০১৯: একের পর এক বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-জগদীপ ধনকর বিতর্ক
ফিরে দেখা ২০১৯: একের পর এক বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-জগদীপ ধনকর বিতর্ক
রাজ্য নতুন রাজ্যপাল হিসেবে জগদীপ ধনকর শপথ নেন ৩০ জুলাই। তারপর থেকেই রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী বিতর্ক তুঙ্গে। শুরুর ঘটনা ছিল যাদবপুরে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে যাওয়া নিয়ে। পরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয় রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কে।

যাদবপুর থেকে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধারে বিতর্ক
২০ সেপ্টেম্বর যাদবপুরে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু বিক্ষোভের জেরে বাবুল সুপ্রিয়কে প্রায় ছয় ঘন্টা আটকে থাকতে হয় সেখানে। বাবুল সুপ্রিয় সেখানে ছাত্রদের দ্বারা নিগৃহীত হন বলে অভিযোগ। রাতে বাবুল সুপ্রিয়ে বের করে আনতে গিয়ে ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যপালকে সেখানে যেতে নিষেধ করা সত্ত্বেও রাজ্যপাল যাদবপুরে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধারে গিয়েছিলেন। রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই বিজেপি ও এবিভিপি সমর্থকরা সেখানে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।

পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে হুঁশিয়ারি
পুজোর উদ্বোধনের ফাঁকে তিনি দুটি কথা মনে করিয়ে দেন। রাজ্যপাল বলেন, তাঁর কাজ হল সংবিধানকে রক্ষা করা আৎ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করা। তাঁকে কাজে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকতেও অনুরোধ জানান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর।

ভাইফোঁটায় আমন্ত্রণ চেয়ে বিতর্কে রাজ্যপাল
রাজ্যপাল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি কালীপুজো এবং ভাইফোঁটায় তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান, তাহলে তিনি আনন্দিতই হবেন। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী কালীপুজোয় তাঁকে আমন্ত্রণ জানান। তবে ভাইফোঁটায় রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ জানাননি।

বিল সই না করা নিয়ে বিতর্ক
সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল গণপিটুনি নিয়ে আইন করতে। সেই মতো অগাস্টে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রিভেনশন অফ লিঞ্চিং বিলটি পাশ হয়। যদিও বিলটি নিয়ে বিরোধীদের তরফে তাঁর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। ফলে বিলটি এখনও আইনে পরিণত হতে পারছে না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিলটি পাশ করানোর আগে প্রথা মতো বিধায়কদের তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যা বিধানসভায় পাশ হয়, তা বিধায়কদের যেটি দেওয়া হয়েছিল তা থেকে ভিন্ন। প্রথমটিতে সর্বোচ্চ সাজা বলা হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরেরটিতে তা মৃত্যুদণ্ড করা হয়।

দুর্গাপুজো কার্নিভ্যাল নিয়ে বিতর্ক
দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যালে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু তাঁকে সেখানে একা ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যপাল।

দীপাবলিতে রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা জানাননি মুখ্যমন্ত্রী
দীপাবলিতে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতিকে। গিয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছেও। অন্য রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা জানালেও, এইরাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানাতে যাননি রাজ্যপালকে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছিলেন জগদীপ ধনকর। নিজের জায়গায় জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে তিনি কী করতেন, প্রশ্ন করেছেন রাজ্যপাল।

চলচ্চিত্র উৎসবে ব্রাত্য রাজ্যপাল
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রতি নভেম্বরেই চলচ্চিত্র উৎসব হয়ে থাকে। বাম জমানা থেকেই সেই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। থাকেন অন্য অতিথিরাও। রাজ্যপালের অনুযোগ তাঁকে চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্প রাজ্যে চালু না হওয়ায় ক্ষোভ
কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রাজ্যে আটকে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেনন রাজ্যপাল। এখানে সবকিছুতেই রাজনীতি হয়। বলেছিলেন তিনি। স্বাস্থ্যে রাজনীতির অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, অন্তত এই বিষয়টিকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত।

বিজেপির মুখপত্র বলে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
নাম না করে রাজ্যপালকে বিজেপি মুখপত্র বলে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, বিজেপির মুখপত্র হিসেবে কারও কারওো মুখে কথা শোনা যাচ্ছে। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সংবিধান মেনে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো থাকা উচিত। কেউ কেউ সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়েই নির্বাচিত।

রাজ্যের পরিস্থিতির সমালোচনা
রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রাস্তা পরিস্থিতি খারাপ। এই খারাপ বলার জন্য কাউকে কারও মুখপত্র হতে হয় না। বলেছেন রাজ্যপাল। তিনি বলেছেন, রাজ্যে জাতীয় সড়কগুলির অবস্থা ভাল কিন্তু অন্য রাস্তার অবস্থা খারাপ। এপ্রসঙ্গে তাঁর ফরাক্কা যাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপালের বিধানসভায় যাওয়া নিয়ে বিতর্ক
এমাসের শুরুতে, ৫ ডিসেম্বর রাজ্যপালের বিধানসভায় যাওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সেই দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না স্পিকার। রাজ্যপালের জন্য নির্দিষ্ট গেট বন্ধ থাকায় রাজ্যপালকে অন্য গেট দিয়ে ঢুকতে হয় সেখানে।

অপমানের অভিযোগ রাজ্যপালের
রাজ্যপাল বলেছিলেন, তাঁকে মধ্যাহ্নভোজনে আমন্ত্রণ জানিয়েও, শেষ মুহুর্তে তা বাতিল করেছেন স্পিকার। এই ঘটনায় তিনি অপমানিত বলেও অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যপাল।

হেলিকপ্টার নিয়ে বিরোধ
রাজ্যপাল জেলা সফরে যাওয়ার জন্য রাজ্যের হাতে থাকা হেলিকপ্টার চেয়েছিলেন। কিন্তু অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে রাজ্য সরকার তা রাজ্যপালের ব্যবহারের জন্য দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের বিরোধ দেখা দেয়।

কর্মসূচিতে রাজ্যপালের বিরোধিতা, জবাব মমতার
মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে বিরোধিতা করেছিলেন রাজ্যপাল। তিনি বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে মিছিল করবেন। যা অসংবিধানিক বলেছিলেন রাজ্যপাল।
অন্যদিকে নাম না করে জোড়াসাঁকোর পথ সভা থেকে রাজ্যপালকে জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মহা নেতা এসেছেন। সাবধান করছেন। আগে, তাদের শাসিত অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়কে সাবধান করুন, জবাব দেন তিনি।

শিক্ষায় রাজনীতিকরণের অভিযোগ
রাজ্যপালকে ছাড়াই সমাবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বসেছিল এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল রাজ্যপালকে ছাড়াই হবে অনুষ্ঠান। বিশেষ সমাবর্তন না হওয়ায় রাজ্যপালকে না আসলেও হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোর্ট মিটিং-এ হাজির হয়েছিলেন রাজ্যপাল। পরে রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতিকরণের অভিযোগ করেছিলেন। রাজ্যপালের অভিযোগ ছিল উপাচার্য শুধু নামেই রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার রাজনীকরণ হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications