প্রাণে বাঁচতে বাম শিবির, কংগ্রেস ছেড়ে দলে দলে যোগ বিজেপি-তে

বিজেপি
কলকাতা, ২ জুন: এই ছবিটা এক বছর আগেও দেখা যায়নি! সিপিএম, আরএসপি, কংগ্রেস ছেড়ে দলে দলে মানুষ যোগ দিচ্ছে বিজেপি-তে! উত্তরে এই প্রবণতা এখনও পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে তা যেন রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন চলতে থাকলে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা ভেবে শঙ্কিত বাম, কংগ্রেস নেতৃত্ব।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ফতেপুর শিকদারপাড়ায় ভোটের পরপরই সিপিএম ছেড়ে কিছু মানুষ যোগ দেন বিজেপি-তে। অভিযোগ, এর জেরে গতকাল সকালে সংশ্লিষ্ট লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল কংগ্রেস। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মাটিতে ফেলে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ। ভাঙচুর চালানো হয়েছে চারটি বাড়িতে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় বিজেপি সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এখানে নীচুতলার কিছু সিপিএম কর্মী দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। পিংলা ব্লকের দুজিপুর লোকাল কমিটির সিপিএম নেতারা এঁদের সমর্থন করেন। তার পরই তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডাবাহিনী এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। রবিবার রাজ্য বিজেপি-র নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা হামলাবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ডাক দেন।

এ ছাড়া, শনিবার আরএসপি-র বর্ধমান জেলা সম্পাদক অঞ্জন মুখোপাধ্যায় অনুগামীদের নিয়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে বর্ধমানে আরএসপি-র সংগঠনে ফাটল ধরেছে। বাঁকুড়াতেও গত সপ্তাহে সিটু ও কংগ্রেস থেকে অন্তত ৩০০ জন যোগ দিয়েছেন বিজেপি-তে।

বীরভূমের রামপুরহাটের লালডাঙা গ্রামে ২০০ জন সিপিএম কর্মী বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের সাদরে বরণ করে নেন বীরভূম জেলা বিজেপি-র নেতারা। নবাগতরা নরেন্দ্র মোদীর নামে জয়ধ্বনি দেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে ২৫০ জন সিপিএম কর্মী বিজেপি-তে নাম লিখিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বারবার শাসক দলের লোকজন হেনস্থা করছিল। সিপিএম নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বিজেপি-তে যেতে হল।

নদীয়ার কল্যাণী ও চাকদহে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস থেকে ৬০০ জন বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। হুগলী জেলার আরামবাগেও সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে আসার ঘটনা ঘটেছে।

হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুরের পাতিহাল গ্রামে বিজেপি সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির সেই তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। হাওড়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে আসার প্রবণতা বাড়ছে।

প্রশ্ন হল, কেন সিপিএম, আরএসপি, কংগ্রেস ছেড়ে লোকজন বিজেপি-তে ভিড়ছে? আসলে এই দলগুলির এতটাই ছন্নছাড়া দশা যে, কর্মীদের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর পর্যন্ত ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি, বিজেপি নেতারা বলছেন, একজন সমর্থককেও মারলে বদলা নেওয়া হবে। এতে মার খাওয়া মানুষজন ভরসা পেয়েছেন। তাঁরা ভাবছেন, বিজেপি-র ঝান্ডা ধরলে অন্তত প্রাণটা বাঁচবে! কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের উপস্থিতি তাঁদের ভরসাকে মজবুত করেছে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার খবর পেলেই শাসক দলের লোকজন হামলা চালাচ্ছে কেন? আসলে রাজ্যে বিরোধীরা ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়ায় সেটা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সুখকর ছিল। লোকসভা ভোটের ফলাফলের পর যখন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অবস্থা আরও খারাপ হল, তখন সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিল শাসক দল। কিন্তু দলে দলে লোক বিজেপি-তে যাওয়ার অর্থ হল, তারা শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে আগামীদিনে ঘোর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে শাসক দলের। তাই গোড়াতেই বিজেপি-তে যোগদানের প্রবণতা ঠেকাতে মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+