Women's Day 2025: শ্মশানেই জীবনের সন্ধান, শব দাহ করেই সংসার চালান প্রথম মহিলা ডোম টুম্পা
ক্যালেন্ডারের পাতায় গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলির মধ্যে অন্যতম হল ৮ মার্চ। এই দিনটিতেই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী দিবস কেবল একটি উদযাপন নয়, এটি একটি আন্দোলন। নারীরা তাদের অধিকারের জন্য যুগে যুগে সংগ্রাম করে আসছে। নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নারীর অগ্রগতি ছাড়া সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমনই এক সাহসী নারীর সন্ধানে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর কল্যাণপুর জোড়া মন্দির শ্মশানে। সেখানে ১০ বছর ধরে ডোম হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন রাজ্যের প্রথম মহিলা ডোম টুম্পা দাস।
শ্মশানে যেতেই যেখানে ভয়ে অনেকে শিউরে ওঠেন । সেখানে মৃতদের নাম নথিভুক্ত করা থেকে শুরু করে দেহ সৎকার, চুল্লির কাজ সবই একা হাতেই সামলান এই তরুণী। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতেই এই পেশাকে আপন করে নেন টুম্পা। জানা যায়, তাঁর বাবাও একই পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছিলেন টুম্পা দাসের মা। তাই সংসারের হাল ধরতেই টুম্পার এই পেশায় আসা। প্রথমে তাঁর বেতন ছিল মাত্র তিন হাজার টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। মহিলা ডোম টুম্পা দাসের এই সামান্য অর্থেই চলে তাঁর সংসার।

কিন্তু যে স্থানের নাম শুনলেই শিউরে ওঠে গোটা শরীর, যে স্থান কখনও না দর্শন করার প্রার্থনা করেন সব মানুষ সেই শ্মশানে কাজ করার অভিজ্ঞতা ঠিক কেমন? টুম্পা জানাচ্ছেন প্রথম প্রথম ভয় লাগতো। কিন্তু এমন একটি জায়গায় কাজ করে শিক্ষা লাভ করা যায়। সারাদিন বহু মানুষ আসেন শ্মশানে। তাই এখানে কাজ করে বেশ ভালই লাগে।
সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এখানেই থাকেন তিনি। এই শ্মশানে টুম্পাই একমাত্র শ্মশান কর্মী। তাই চুল্লির তালা খোলা থেকে শবদেহের স্ট্যান্ড তোলা, চুল্লির ঢাকনা খোলা থেকে অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ার আগে পরিবারকে দেহাংশ দান। এমনকি দাহ করার পর সার্টিফিকেটটিও লিখে দেন এই টুম্পাই। অর্থাৎ, শ্মশানে দাহকার্যের প্রায় সবটাই একা হাতে সামলান এই সাহসিনী।












Click it and Unblock the Notifications