Women's Day: পড়াশুনার কোনও বয়স হয় না! প্রমাণ করছেন বাঁকুড়ার মন্দিরা, জ্যোৎস্নারা, বিস্তারিত জানলে অবাক হবেনই
Women's Day 2025: পড়াশুনার কোনও বয়স হয় না। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর মনের জোর থাকলে সবকিছুই সম্ভব৷ সে কথাই ফের প্রমাণ করলেন ওন্দার মন্দিরা প্রামানিক, জ্যোৎস্না পাল , চিন্তামনি প্রামানিক, বিথিকা মালগোপ, জ্যোৎস্না পাল সহ ছ'জন। বর্তমানে এদের কেউ সেলাই, কেউ ক্যাটারিং এর কাজ করেন। তবে মাধ্যমিক পাশের পরই তাঁদের বিয়ে হয়ে যায়, ফলে সেই সময় পড়াশুনায় ছেদ পড়লেও মনের মধ্যে ইচ্ছেটা রয়েই গেছিল।
এবার অবশেষে ইচ্ছে পূরণ। স্বামী, সংসার, সন্তান সঙ্গে নিজেদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সামলে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন তাঁরা। ওন্দা গার্লস হাই স্কুলের 'ভোকেশনাল বিভাগে'র এই ছাত্রীরা এখন নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাচ্ছেন বিষ্ণুপুর কৃত্তিবাস হাই স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে। আর এই সাধ পূরণে গুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে 'ওন্দা যুব সমাজ' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের।

মন্দিরা প্রামানিকের ২০০৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই বিয়ে হয়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক নিয়মে পড়াশুনায় ছেদ পড়ে। তাঁর ছেলে এখন একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আর সেই ছেলেই এখন মায়ের 'শিক্ষকের ভূমিকা'য়। স্কুলের পাশাপাশি ছেলের কাছে পড়াশুনা করেই এবার উচ্চমাধ্যমিকে বসেছেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়, আরৣও এগিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
জ্যোৎস্না পালের ছেলে জয় পালও একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। মা ও ছেলে পড়াশুনার ক্ষেত্রে পরস্পরের সহযোগীতায় চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মা জ্যোৎস্না ও ছেলে জয় পালরা জানিয়েছেন। ফের নতুন করে পড়াশুনা শুরু ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়ে খুশী চিন্তামনি প্রামানিক ও বিথিকা পালরা। সংসার ও নিজেদের জীবিকা সামলেও তাঁরা ফের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চান বলে জানান।
এই ছয় নারীর স্বপ্ন পূরণের সারথী ওন্দা যুব সমাজের পক্ষে সুদীপন পাল বলেন, এবার যে ছ'জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন তাঁদের মধ্যে দু'জন ক্যাটারিং, তিন জন সেলাই ও এক সংগঠনের কাজ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে একজনের রোজগারে সংসার চলেনা, ফলে স্বাবলম্বী হতে গেলে শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই পড়াশুনার প্রতি তাঁদের আগ্রহী করে তোলার কাজটাও তারা সমানভাবে করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications